প্রথম পর্ব - Click This Link
দ্বিতীয় পর্ব - Click This Link
তৃতীয় পর্ব - Click This Link
চতুর্থ পর্ব - Click This Link
শ্রাবনীকে রিয়ার সাহায্যে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আকাশ বাসায় এসেছে। রাত তখন অনেক। কিন্তু আকাশ জানে ওর মা এখনও জেগে আছে। কয়েকদিন ধরেই আকাশ মায়ের মাঝে একটা পরির্বতন লক্ষ্য করছে। মা কিছু বলছে না বটে, কিন্তু যেন কোথায় একটা ভিন্নতা। আকাশ ঠিক ধরতে পারছে না, কিন্তু অনুভব করতে পারছে ঠিকই।
রাতে সজীব ফোন দিল। “কি রে? আজকে ক্লাসে আসলি না কেন?”
আকাশ একটু গম্ভীর ভাবে বলল, “ইচ্ছে করছিল না।”
“বাহ! সেটা ইচ্ছে করবে কেন? এদিকে যে ফার্স্ট-মিডের খাতা দিয়েছে সেই খবর আছে?”
আগের মতই নির্লিপ্ত ভাবে আকাশ বলল, “কত পেয়েছি?”
“সাড়ে বারো।”
“ও!” যেন এটা কোন ব্যপারই না, এভাবে আকাশ বলল। তার পর যুক্ত করলো, “পরীক্ষা কতর ভেতরে ছিল?”
সজীব হাসতে হাসতে বলল, “সেটাও মনে নাই? আসলেই, তুই যে পরীক্ষা দিয়েছিস এটা স্যারের ভাগ্য। যাইহোক পরীক্ষা ত্রিশে ছিল।”
“আমাদের পাসিং মার্কস কত?” বিজ্ঞের মত আকাশ বলল।
“৬০%। এখন হিসেব করতে যাস না আবার যে তুই কত পেয়েছিস। তাহলে অংকেও ভুল করবি।”
খোঁচাটা মনে হয় না আকাশের গায়ে লাগলো। সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করতে করতে বলল, “লেখাপড়া ছাড়া আর কিছু থাকলে বল। না হলে ফোন রাখ।”
সজীব আবারও হাসতে শুরু করলো। বলল, “ফারজানার কি খবর? কেমন বুঝলি মেয়েটাকে?”
“নট মাই টাইপ।”
সজীব খোঁচা দিয়ে বলল, “একি শুনছি। লাভ-গুরু আকাশ বলে ‘নট মাই টাইপ’? তুই নাকি যে কোন মেয়েকে পটাতে পারিস?”
“সেটা পারি। কিন্তু এই মেয়েকে পটিয়ে লাভটা কি হবে? থাকেতো ইংল্যান্ডে।”
সজীব আরেকটা মোক্ষম খোঁচা দিয়ে বলল, “তাও ঠিক। ফারজানাকেতো আর বেডে আনা যাবে না। আর যাকে বেডে আনা যাবে না, তাকে পটিয়ে কি লাভ? ‘লাভ’ এর সব লাভতো বেডেই উসুল করতে হয়।”
খোঁচাটা আকাশের বেশ ভালই লাগলো। বলল, “আমার আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। আমি রাখলাম।”
ওদিক থেকে সজীব তাড়াতাড়ি বলল, “শোন শোন। যাই করিস, লেখাপড়ার মত গৌন কাজটাকেও একটু মূল্য দিস। মেয়ে পটানো শেষে সময় হলে কাল একবার ক্লাসে আসিস।”
আকাশ হাসতে হাসেতে বলল, “সজীব একটা কথা বলতো, তোর পরিবারের কেউ কি শিক্ষক ছিল কখনও?”
সজীব থতমত খেয়ে বলল, “না। হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
“তাহলে তোর মধ্যে এই উপদেশ দেয়ার ‘জিন’টা আসলো কোথা থেকে? আমারতো এখন তোর জন্ম নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।”
সজীবকে কোন উত্তর দেয়ার সুযোগ না দিয়ে আকাশ ফোনটা কেটে দিল। কাটার ঠিক আগ মূহুর্তে সজীবের বলা শেষ কথাটা আংশিক শোনা গেল, “কুত্তা….!”
আকাশের রুমে চাঁদের আলো এসে ছাদটাকে আংশিক আলোকিত করে রেখেছে। আকাশ শুয়ে শুয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে ভাবছিল নিজের কথা। কোথায় যেন একটা তাল কেটে যাওয়া অনুভুতি। সবই আছে, তবু কি যেন একটা নেই। কোন মেয়েকে ভালো লাগলে তাকে পটানো আকাশের জন্য দু'দিনের কাজ। তবুও কেন এই অতৃপ্তি? সব পেয়েও বুকের মাঝে কিছু না পাওয়ার হাহাকার?
আকাশের মনে পড়ে অনিন্দিতার কথা। অনিন্দিতার হাসিটা খুব সুন্দর ছিল। প্রথম যেদিন ওদের দেখা, আকাশ মুগ্ধ হয়েছিল ওর হাসি দেখে। নিষ্পাপ মুখে কি অসম্ভব শুভ্রতা এনে দিত সেই হাসি। আজ সব কিছু কেমন দুঃস্বপ্ন। কেন এমন হলো? কেন এমন করলে অনিন্দিতা? নিজের মনেই আকাশ প্রশ্ন করে চলে। আকাশ অনুভব করে ওর পেশীগুলো শক্ত হয়ে আসছে। রক্তপ্রবাহে আবার ঘৃনা বইতে শুরু করেছে। এক জীবনে বুঝি এ ঘৃনার শেষ নেই, এত ঘৃনা।
আকাশ উঠে বসলো। সাইড-টেবিলে রাখা গ্লাস থেকে পানি খেল। খুব অস্থির লাগছে আজ। ইয়াবার নেশাটা আবার মাথায় উঠছে মনে হয়। এমন নয় যে আকাশ বাজে ভাবে এ্যাডিকটেড। মাঝে মাঝে মজা করে নিত। কিন্তু তাতেই মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে নেশাটা ওকে দখল করে নিচ্ছে। সরকার যে কি শুরু করলো। দেশ থেকে তারা ইয়াবা তাড়াবে। “এত কাজ থাকতে তারা ইয়াবার পেছনে পড়লো কেন?” মনে মনে ভাবলো আকাশ। যখন আকাশের খুব হতাশ লাগে, তখন এই একটা জিনিসই ওকে একটু শান্তি দেয়।
আকাশ শুনেছে কোন এক উপদেষ্টার মেয়ে নাকি ইয়াবা নিত। তাই সেই উপদেষ্টা দেশ থেকে ইয়াবা তাড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। “নিজের মেয়েকে সামলাতে পারে না, এখন আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে।” মনে মনে ভাবলো আকাশ। ফেইসবুকে একটা গ্রুপ আছে, “তুই ইয়াবা খাবি খা, তাতে চিল্লায় কেন আমার মা।” আকশের ইচ্ছে করেছিল আরেকটা গ্রুপ খুলেবে, “আমি ইয়াবা খাইয়া করি পাপ, তাতে চিল্লায় কেন তোর বাপ।”
আকাশ বুঝলো ওর অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে। মাথা কাজ করছে না। পৃথিবীর সবাইকে এখন ওর গালি দিতে ইচ্ছে করছে। অস্থির ভাবে নিজের মাথার দুপাশের শিরায় চেপে ধরে রইলো কিছু সময়। তার পর একটু স্বাভাবিক হয়ে আসার পর ভাবলো কিছু একটা করা দরকার। ইয়াবা থেকে মনটা সরাতে হবে। এই ইয়াবাই একদিন আকাশকে শেষ করে ফেলবে, আকাশ বুঝতে পারে, কিন্তু কিছু করতে পারে না। নেশার ইচ্ছাটা যখন প্রবল ভাবে আসতে থাকে তখন সব কিছু অসহ্য মনে হয়। কিন্তু কিছু একটা করা দরকার। ফোন দিবে কাউকে? কথা বলতে ইচ্ছে করছে না এখন। মেসেঞ্জারেও কেউ নেই। কি করা যায়? ভাবতে লাগলো আকাশ। তার পর চিন্তা করে দেখলো সপ্তাহখানেক ফেইসবুকে ঢোকা হয় না। দেখা দরকার বন্ধুরা কি করছে।
ফেইসবুকে ঢুকেই আকাশ দেখলো ‘হোম’-এ একটা নিউজ। Faria Khan went from being "in a relationship" to "single." আকাশ মনে মনে হাসলো। এরকম মেয়েদের পটানো সহজ হয়। সদ্য ‘ব্রেক-আপ’ হয়েছে। হৃদয় এখনও ভাঙ্গা। ভাঙ্গা হৃদয়ের ফাক গলে ভেতরে ঢোকা সহজ। তবে এই মেয়েটা যে কে, আকাশ মনে করতে পারলো না। এখন ফেইসবুকে একেকজনের হাজার খানেক বন্ধু। যে যাকে যেখানে পাচ্ছে, এ্যাড করছে। নিজেরাও জানে না আসলে সে কাকে এ্যাড করছে। ফারিয়াকে আকাশ কবে এ্যাড করেছে নিজেরই মনে নাই। কথাও মনে হয় হয়নি আগে। তবুও একবার নিজের ভাগ্যটাকে পরীক্ষা করার জন্য আকাশ চেষ্টা করলো। ফেইসবুকের নুতন সংযোজন ‘ফেইসবুক চ্যাট’ মেয়ে পটানোর কাজটা আরো সহজ করে দিয়েছে। আকাশ দেখলো ওর ভাগ্য আজ ভালই মনে হচ্ছে। ফারিয়া নামক এই সদ্য হৃদয় ভাঙ্গা মেয়েটা এখনও অনলাইনে আছে। আকাশ দেরী না করে নক করলো,
“হাই।”
প্রথমে কোন উত্তর নেই। আকাশ যখন হতাশ হয়ে আশা ছেড়ে দিচ্ছিল, তখন ওদিক থেকে লেখা আসলো।“হাই। হুজ দিস!”
“আকাশ। সম্ভবত এটাই আমাদের প্রথম চ্যাট, তাই না?”
“তাই নাকি?”
“হুম।”
ওদিক থেকে কোন লেখা আসছে না। আকাশ নিশ্চিত এখন মেয়েটা কি করছে। সে আকাশের প্রোফাইল দেখছে। একটু পরেই সে অতি উৎসাহী হয়ে উত্তর দিবে। এই খেলায় আকাশের অন্যতম বড় অস্ত্র ওর চেহারা। এটা আকাশ খুব ভালো করে জানে।
একটু পরেই মেয়েটা আবার লিখলো।“ওহহহ! তুমি। হুম। আমরা অনেকদিন ধরে বন্ধু কিন্তু কোন দিন কথা হয় নাই। কেমন চলছে?”
“এই, কেটে যায় বসন্তের দিন।”
“আরেব্বাবা, কবি নাকি? চেহারা দেখেতো মনে হয় না।”
“তাই? চেহারা দেখে কি মনে হয়?”
“বলা যাবে না, অন্য কোন দিন বলবো।”
মেয়ে রহস্য করা শুরু করেছে। পটবে তাড়াতাড়ি, বুঝে নিল আকাশ।
এই কথা, সেই কথার মধ্য দিয়ে চ্যাট চলছিল। এর মাঝে ফারিয়ার ফেইসবুকের চ্যাটটা সমস্যা করছিল। লাইন স্লো মনে হয়। আকাশ বললো, যদি লুজার না ভাবো, তাহলে ফোন নাম্বার দিতে পারো।
“আরেব্বাবা, তুমিতো দেখি অনেক এ্যাডভান্স। প্রথম দিনেই ফোন নাম্বার চাচ্ছ। আর কয়জন থেকে এভাবে ফোন নাম্বার নিয়েছো?”
“ওহ, সরি।” যেন আকাশ যরপরনাই দূঃখিত! তার পর লিখলো, “আমি এভাবে ফোন নাম্বার চাই না। তবুও তোমার কাছে চাইলাম কারন চ্যাট করে ভালো লাগছিল। তোমার নেট স্লো হবার কারনে এখন সেটাতেও সমস্যা করছে। আই এ্যাম রিয়েলী সরি। এখানেই কথা বলো।”
“আরে ধুর। আমিতো মজা করলাম। নাম্বার দিচ্ছি। কল করো। 0161….”
২১ জুন ২০০৮
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


