সেদিন বাসটা যখন যাত্রী নিতে স্টপেজে অনেকটা সময় দাড়িয়ে,আমি তখন বাসের ভেতর জানলার কাছে বসে ফেবুতে মনযোগী। হঠাৎ কী মনে করে বাইরে তাকাই, আকাশটা কেমন সাদাটে , আকাশে রোদ মেঘ দুটোরই সহাবস্থান। বাতাস খুব একটা নেই, নাম না জানা ফুল ফুটে আছে দুটো বড়সড় গাছে। তখনই চোখে পড়ল একটা ঘটনা... দেখলাম, তারের ওপর থেকে নাকি কোথা থেকে কিভাবে যেন একটা শালিক আচমকাই মাটিতে পড়ল। বাদামি - কালো শরীর শালিকটার। পড়তে দেরী কিন্তু শালিকটা হাতে তুলে নিতে দেরী হলনা আমাদের বয়সী একটা ছেলের। ছেলেটা কোথা থেকে যে দৌড়ে এসে পরম মমতায় শালিকটাকে হাতে নিয়ে বুকের কাছটায় ধরে রেখেছে! যেন তারই আমানত, তারই প্রিয়জন। জানিনা শালিকটার কী হয়েছে, কেনইবা তার এমন অবস্থা! শুধু দেখলাম পাখিটার ঠোঁট দুটো খোলা। হা করে আছে। চোখ দুটো আধবোজা। ছেলেটা রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে ,কার কাছে পানি আছে সেটা জিজ্ঞেস করছে সে একে একে সবাইকে। আশেপাশের লোকজন ছেলেটার চোখে অস্থিরতা দেখতে পেয়ে অবাকই হচ্ছিল, কেননা শহুরে রাজপথের পাশে কেউ কারো এতো খেয়াল রাখেইবা কখন আর! আকাশে তখন বড্ড রোদ... ছেলেটা দৌড়ে একটা চা দোকানে ঢুকলো,সেখানে তড়িঘড়ি করে ফিল্টার থেকে কাঁচের গ্লাসে পানি ঢেলে শালিকটাকে পরম ভালোবাসায় পানি খাওয়াতে লাগলো। আর পাখিটাও যেন আজন্ম তৃষ্ণার্ত! যেন এই প্রথম কেউ তাকে এভাবে জল খাওয়াচ্ছে... তারপর,বাস ছেড়ে দেয়। ছুটি চলি নিজ গন্তব্যে। জানিনা শালিকটা সুস্থ হয়েছিল কিনা,তবে ছেলেটার যে সৃষ্টির প্রতি কতটা ভালোবাসা তা শুধু আমাকে না আশেপাশের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।
মানুষ হয়ে জন্মাবার অর্থ কেবল মানুষকে ভালোবাসা নয়, প্রতিটি সৃষ্টিকে ভালোবাসা। কামড় দিতে সামর্থ্য লাল পিপড়াকে যখন না মেরে যখন ছেড়ে দিই,অনেকের কাছে এটা হাস্যকর। আমার কাছে হাস্যকর নয়, তাদেরওতো জীবন আছে,পরিবার পরিজন ভালোবাসা আছে। যেই প্রাণী আপনার ক্ষতি করবেনা,অহেতুক তাকে মারলে আপনিও খুনীর কাতারে পড়বেন! গাছে উঠে কাকের বাসা তছনছ করে কাকের বাচ্চাদের মুখে বালি ভরে দিয়ে বাচ্চাগুলোকে হত্যা করতে দেখেছি কিছু কিশোরকে, এটা তাদের কাছে মজাদার খেলা! তাদের বকাবকি করে একটা বাচ্চাকে বাঁচাতে পেরেছিলাম! শিশুদের মনে সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা জাগাতে পারলে আমাদের মনুষ্যত্ব সার্থক।নাহয় তাদের কর্মের দায়ভার অবশ্যই আমাদের! মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি, তরুলতার প্রতি ভালোবাসাপ্রবণ মানুষগুলোকে হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা জানাই। আপনারা আছেন বলেই এখনও পৃথিবীটা একটু হলেও স্বার্থহীন,নির্মল মনে হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


