somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দেখা আমাদের কিছু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবি।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি খুব বেশি না তারপরেও কিছু ছবি আছে যেগুলি সত্যিই প্রশংসা রাখে। তেমনি কিছু ছবি সম্পর্কে বলবো। কিছু তথ্য মিসিং হতেও পারে হলে জানাতে ভুলবেন না।


অরুণাদয়ের অগ্নিস্বাক্ষীঃ ১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ চলচ্চিত্রটি। তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে বিষয়বস্তুগত দিক দিয়ে এ চলচ্চিত্রটিকে একেবারেই অন্যরকম বলে মন্তব্য করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। এ চলচ্চিত্রের ঘটনা মূলত এক চিত্র অভিনেতার মুক্তিযুদ্ধকালের অভিজ্ঞতাকে ঘিরেই।
এই ছবিতে ববিতার বীরাঙ্গনা চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছিল।
চিত্র অভিনেতার যুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আর যুদ্ধ শেষে সেটার জন্য আত্মঃদংশন হতে থাকা নিয়েই কাহিনী এগিয়ে যায়।


মেঘের অনেক রংঃ জাতীয় পুরুস্কার প্রাপ্ত এই ছবিটি ১৯৭৯ সালে হারুনুর রশীদ নির্মাণ করেন ‘মেঘের অনেক রং’। এ চলচ্চিত্রের পুরো কাহিনী উঠে এসেছে একটি শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে। সদ্যবোধসম্পন্ন যে ছেলেটি তার মাকে খুঁজে বেড়ায়। এরই ফাঁকে চলে আসে যুদ্ধের কথা। যুদ্ধে তার মা পাক বাহিনীর লাঞ্ছনার শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এতে অভিনয় করেন রওশন আরা, ওমর এলাহী মাথিন ও মাস্টার আদনান। ছবিটি জাতীয় পুরুস্কার ছাড়াও আরো অনেক দেশি ও আন্তর্জাতিক পুরুস্কার পেয়েছিল।


আগুনের পরশমণিঃ১৯৯৪ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা গল্পে নির্মাণ করলেন ‘আগুনের পরশমণি’। যুদ্ধকালীন একটি পরিবারের দুঃখ, ভয় ও প্রাপ্তির স্বপ্নঘেরা গল্পে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল চলচ্চিত্রটি। ঢাকায় বসবাস করা নিতান্ত সাধারণ একটি পরিবার। পরিবারের কর্তা পাকবাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকলেও তার স্ত্রী ও কন্যা মুক্তিযোদ্ধা জেনেও এক যুবককে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। সহযোগিতা করে।
এক সময় সেই যুবকের প্রতি কন্যাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু এবং স্বাধীনতার সূর্য উদয়ের মধ্য দিয়ে গল্পের সমাপ্তি ঘটে। এর প্রধান অভিনয়শিল্পীরা হলেন—আবুল হায়াত, ডলি জহুর, বিপাশা হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। ‘আগুনের পরশমণি’ ১৯৯৪ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। বিপাশা হায়াতও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান। এ ছাড়া বিদেশেও চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়।


আমার বন্ধু রাশেদঃ ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত একই নামের শিশুতোষ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে মমন চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ে করেছেন চৌধুরী জাওয়াতা আফনান, অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইনামুল হক, হুমায়রা হিমু, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আরমান পারভেজ মুরাদ, এছাড়াও শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন রায়ান ইবতেশাম চৌধুরী, কাজী রায়হান রাব্বি, লিখন রাহি, ফাইয়াজ বিন জিয়া, রাফায়েত জিন্নাত কাওসার আবেদীন।


ওরা এগারোজনঃ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র এটি। মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি পটভূমি ও অ্যাকশন নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাঙালির মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৭২ সালের ১৩ আগস্ট মুক্তি পায় ‘ওরা ১১ জন’। ছবিটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। এতে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেন ১১ মুক্তিযোদ্ধা। যারা পেশাদার শিল্পী ছিলেন না। এরা হলেন—খসরু, মঞ্জু, হেলাল, ওলীন, আবু, আতা, নান্টু, বেবী, আলতাফ, মুরাদ ও ফিরোজ। ১১ দফার ছাত্র আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে মাথায় রেখে প্রতীকী অর্থে এ চলচ্চিত্রের নামকরণ করা হয় ‘ওরা ১১ জন’। চলচ্চিত্রের শুরুতে টাইটেলে ছয়টি কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়। নির্মাতার মতে, এ ছয়টি শব্দ হচ্ছে ছয়দফা দাবির প্রতীকী শব্দ। এই চলচ্চিত্রে যে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছিল সবই ছিল সত্যিকারের।
‘ওরা ১১ জন’ মস্কো, ইংল্যান্ড, জামশেদপুর, রাচী, কলকাতা ও বোম্বেতে প্রদর্শিত হয়েছিল। বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকাপুর চলচ্চিত্রটি দেখে এ চলচ্চিত্রের নির্মাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘হাউ- ইট পসিবল’, সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন জীবন্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ কীভাবে সম্ভব। তিনি বলেন, ‘বলিউডে আমরা এ ধরনের বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সাহস পাইনি’। এ চলচ্চিত্রের প্রযোজক মাসুদ পারভেজ (অভিনেতা সোহেল রানা) বলেন, ‘এটি আসলে শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিলও বটে’।


গেরিলাঃ সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও চলচ্চিত্রকার নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ২০১১ সালে নির্মাণ করেন ‘গেরিলা’। যুদ্ধকালীন পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের ঘৃণিত তৎপরতা ও বর্বরতা এ চলচ্চিত্রে মর্মস্পর্শীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। পাক সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার পৈশাচিক রূপ এবং এক সাংবাদিকের স্ত্রীর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার দিকটি মূলত এ চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। গেরিলা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করেছে।


সংগ্রামঃ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশি বংশদ্ভুত ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা মনসুর আলী। ২০১৪ সালের ২৮ মার্চ মুক্তি পায় এটি। সংগ্রাম চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের সমাজ, সংস্কার আর ধর্মান্ধতা নিয়ে নির্মিত। যুদ্ধের বিভীষিকাময় অবস্থায় দু’জন হিন্দু ও মুসলিম ছেলে-মেয়ের অসম প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় ছবিটি।
এতে মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমান খান এবং তার বিপরীতে রয়েছেন রুহী। এ ছাড়াও ছবিতে একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতীয় অভিনেতা অনুপম খের।
ছবিঃ গুগুল।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৪৬
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×