
এ সব গুলোর সোজা উত্তর হচ্ছে না, এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই না এর আগে আরেকটি উত্তর হচ্ছে খালেদা জিয়া এই মুহূর্তে দেশ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তার বয়স ও মেধা দেশ চালানোর মতো উপযুক্ত নয়। আসলে বয়সের বিষয়টি বাদ দিলেও বেগম জিয়া কখনোই দেশ চালানোর অবস্থায় ছিলেন না। উনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন দেশ চালাতো সরকারি আমলারা ও কিছুটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে। শেষ বার যখন উনি ক্ষমতায় আসে এদের সাথে ভাগ বসিয়েছে তারেক জিয়া। যার জন্যই ত্রিমুখী সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং বিএনপি ক্ষমতা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিতাড়িত হয়। এসব কারনে সে অর্থে বেগম জিয়া কখনোই নিজের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশ শাসন করেনি। আবুল বাবুলরা যারা এখন খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে বলছে তারা নিজেরাও জানে খালেদা জিয়া দেশ চালানোর অবস্থায় নেই। শুধমাত্র নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্যই তারা এই ভুল কথাটি বলে যাচ্ছে।
বেগম জিয়া যে কয়বারই দেশ শাসন করেছে উনি কোন বারই নিজের মেধা ও বুদ্ধি খাটিয়ে দেশ চালাতে পারেননি। উনার আশেপাশের মানুষগুলো ছিল খুবই দুরুন্ধর প্রকৃতির, এরা জানতো বেগম জিয়াকে ভুংভাং বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব। উনার আশেপাশের মানুষ কেনো, উনার নিজের সন্তানই বুঝতে পেরেছিল তার মাকে ভুলভাল বুঝানো সম্ভব! তাই সরকারের পাশাপাশি সেও হাওয়া ভবন নামে আরেকটি প্যারালাল সরকার চালু করে। এই হাওয়া ভবনের কালি বিএনপির গাঁয়ে এমন ভাবে লেগেছে, পৃথিবীর কোন ডিটারজেন্ট দিয়েই মনে হয় এটা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না। শুধুই হাওয়া ভবন না, বেগম জিয়া যে সময় গুলিতে ক্ষমতায় ছিলো সে সময়ের দেশ পরিচালনার প্যাটার্ন দেখলেই বুঝা সম্ভব দেশ উনার কথায় চলছিল না। তাই এখন বেগম জিয়ার কথায় দেশ চলবে এমন কথাবার্তা না বলাটাই বিএনপির ও জাতির জন্য মঙ্গল।
বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে জগাখিচুড়ি বাধিয়ে ফেলে। কারণ হচ্ছে এই দলটিতে ডান বাম বিপরীতমুখী আদর্শের সব লোকজন এসে জড়ো হয়েছে। এ দলের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া রাজনীতি থেকে বিতাড়িত লোকজনদেরকে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন এবং সে ধারা এখনো অব্যাহত আছে। রাজনীতিতে যার কোথাও জায়গা হয় না তার জন্য বিএনপি আছে। জেনারেল জিয়া দল গঠনের পরে অনৈতিক কাদায় সরকার গঠন করে এবং এমন এমন লোকজনদেরকে এত বড় বড় পদ দিয়েছে যারা নিজেরাই কখনো ভাবতে পারেনি তারা এত বড় রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হবে।
তবে আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যেটি মনে হয়, এ ধরনের দল যারা গঠন করে সে দলের প্রধান ব্যক্তিটি মারা গেলে কিংবা সরে গেলে দলটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে সেটা হয়নি এই দলটি এখনো টিকে আছে এবং দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর সমর্থন নিয়েই টিকে আছে! এর কারণ কি হতে পারে? প্রধান কারণ হতে পারে সম্ভবত আওয়ামী লীগের বিপক্ষে শক্ত কোন বিরোধী শক্তি না থাকার কারণে!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৩ দুপুর ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


