somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি নিজের পায়ে নয়, নিজের মাথায় নিজে কুড়াল মারছে!★★

০৪ ঠা জুন, ২০২৩ সকাল ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা গ্রামে যে এলাকায় বসবাস করি সেখানে বিএনপি সমর্থকদের সংখ্যা বেশি। আমার ফেসবুকেও বন্ধু তালিকার অধিকাংশই বিএনপি সমর্থক। গত কয়েকদিন থেকে অনেকেই দেখছি একটি ফর্ম নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে উচ্ছ্বাসের সাথে বলে যাচ্ছে তারা সরকারের প্রশাসনের লোকজনদের তালিকা করছে! এতদিন পুলিশ তালিকা করে তাদের জেলের মধ্যে ঢুকিয়েছে এবার সময় হয়েছে তাদের তালিকা করার। তালিকার মধ্যে দেখলাম বিএনপি কর্মীদেরকে যেসব পুলিশ অফিসার ধরে নিয়ে গেছে, মামলা করেছে, মামলা লিখেছে, সার্কেল এসপি, ওসি সবার নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে! তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে, বিচার করা হবে, এই হচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক ব্রেইন!

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা আসার জন্য, টিকে থাকার জন্য সরকারের প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে, এটা অসত্য নয়। সাথে সাথে প্রশাসনের অনেক লোকজন অতি উৎসাহী হয়েও আওয়ামীলীগ সরকারকে সহযোগিতা করেছে। এই সহযোগিতা করতে গিয়ে তারা আইনগত কিছু সমস্যা তৈরি করেছে যার জন্য তাদের মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করার কথা। এখন বিএনপি তাদের সে ভয়কে আরো বহু গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে এসব তালিক বানানোর নামে। এবার বলুন তারা কি কোন ভাবে আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকবে? বিএনপি প্রশাসনের সাথে এরকম বৈরী সম্পর্ক তৈরি করে কি রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করবে আমার বোধগম্য হচ্ছে না! আমার তো মনে হচ্ছে প্রশাসনের কিছু লোকজন এখন বিএনপি ঠেকাও মনোভাবে আরো কঠোর হবে! বিএনপি যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে, তাদের বিচার যেন না করতে পারে, তার জন্য তারা সব চেষ্টাই করবে।

দেখুন, তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে ক্ষমতার বাইরে থাকলে সরকার দলীয় লোকজন ও প্রশাসন থেকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এগুলিকে মোকাবেলা করেই রাজনীতি করতে হয়। ক্ষমতা না গিয়েই যদি প্রশাসনের লোকজনের বিচার করার কথা বলে তাহলে আমাদের গ্রামের বাসায় যেটা বলে মুরগি হয়ে শিয়ালকে ঠোকর মারতে যাওয়া! বিএনপির হয়েছে সে অবস্থা। বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে তারা তাদের নেতাকর্মীদের উপর যে অবিচার করা হয়েছে সেগুলি বের করা কি খুব কঠিন কিছু হবে? প্রশাসনের ভিতরেই তারা অনেক লোকজনকে পাবে যারা তখন তাদেরকে সেই তালিকা সরবরাহ করবে! ক্ষমতা যাওয়ার আগেই এসপি, ডিসি, ওসিদের বিচার করতে চাওয়া মানে হল নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা নয়, নিজের মাথায় নিজে কুড়াল মারা!
সেনানিবাসের বাসা থেকে বেগম জিয়াকে যখন বের করে দেওয়া হলো তখন বেগম জিয়া বলেছিল তিনি তাদেরকে দেখে নেবেন! আজ পর্যন্ত বিএনপির সাথে সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্কের জোড়া লাগেনি। কিছু কথা, ব্যথা মনের ভিতর রেখে দিতে হয়, এজন্যই বলা হয় সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:০৪
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×