somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের সমাধান খুঁজতে হবে আজকে থেকেই।

১৬ ই জুন, ২০২৩ দুপুর ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে বুঝাই যাচ্ছে আগামী ২০ বছর পর মানুষের ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন এবং বিশেষ করে কর্মজীবন আরো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠবে। মানুষের কায়িক শ্রম ও বিশেষ করে রিপিটেড কাজগুলোর দখল প্রযুক্তি নিয়ে নিবে। আর এখন যে প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং। এই প্রযুক্তি দুটিতে যে পরিমাণ সময় ও ইনভেস্ট করা হচ্ছে, তাতে এর আউটপুট হবে অভাবনীয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি যত উন্নত হবে রোবোটিক্স শিল্প তত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। রোবটের কাজ করার এক্যুরিসি গত ৫০ বছরে যতটুকু, হয়েছে আগামী ২০ বছরে তার থেকে শতগুণ বেশি হবে। এতে দৈহিক পরিশ্রমের যে কাজগুলি শ্রমিকরা করতো তা রোবট খুব সহজেই করে দেবে। যার দরুন সারা পৃথিবীতে বিশাল একটি শ্রমিক শ্রেণী তাদের কাজ হারাবে।
এছাড়াও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পেলে যারা ছোটখাটো কম্পিউটারের কাজ করে, ডিজাইনের কাজ করে, গ্রাফিক্স মোশনের কাজ করে তাদের প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যাবে। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, এসব প্রযুক্তি যত বেশি ছড়িয়ে পড়বে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি যারা শ্রম বিক্রি করে নিজেদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে তারা বেশ বিপাকে পড়বে।

বাংলাদেশের জন্য এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়, কেননা এই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ আসে এই শ্রম বিক্রির মাধ্যমে। আগামী ২০ বছরের মধ্যে এদের বেশিরভাগই চাকুরী হারিয়ে দেশে ফিরত আসতে বাধ্য হবে। আমাদের শ্রমিকরা অতটা দক্ষ নয় যে তারা এরকম পরিস্থিতির সাথে নিজেদেরকে দক্ষ করে তুলবে। অদক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি আমাদের আদা দক্ষ শ্রমিকও প্রবাসে আছে এরা ছোটখাটো কম্পিউটিং ও অফিসিয়াল কাজ করে। এই আদা দক্ষ শ্রমিক শ্রেণীই সবচেয়ে বেশি কাজ হারাবে। এসব প্রবাসীরা কাজ হারিয়ে আস্তে আস্তে দেশে আসা শুরু করলে দেশ কি তাদের এই চাপ নিতে সক্ষম হবে? অবশ্যই না!

যাইহোক, বিপদ যে ধেয়ে আসছে তা মোটামুটি পরিষ্কার। এই বিপদ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সরকার কি কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটা পরিষ্কার নয়। তবে অচিরেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে এই আগত সমস্যা মোকাবেলায়। অন্যথায় যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে সেটা সেই সময় আমাদের সরকারী আমলারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না!
তো এক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি? আসলে এই প্রযুক্তি দুটিতে আমাদের ইনভেস্ট করার মত অর্থ ও দক্ষ লোকবল নেই। তাই এইসব প্রযুক্তি আমরা নিজেদের মতো করে নিজেদের জন্য বানাতে পারবো না। আর এমনিতেই আমরা এ ধরনের প্রযুক্তি গুলির ডেভলপার না, আমরা হলাম কনজিউমার। সুতরাং আমাদের সে পথে ইনভেস্ট করা ও সময় ব্যয় করা আপাতত সঠিক হবে না। তবে যেমনটি বলা হচ্ছে এসব প্রযুক্তি যত বেশি আপডেটেড হবে তত বেশি মানুষ চাকরি হারাবে। সাথে সাথে আবার অনেকের জন্য সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে যাবে। কেননা এই প্রযুক্তির সাথে রিলেটেড অনেকগুলি শাখা-প্রশাখা বের হবে যেখানে আমাদের লোকজনকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা যাবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির যুগে সেই সব মানুষের কদর সবচেয়ে বেশি থাকবে যারা প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন এবং যাদের মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি আছে। ক্রিয়েটিভিটি থাকলে এই প্রযুক্তির সাথে সে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাথে তার ক্রিয়েটিভিটিকে সমন্বয় করে সে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারবে। এই জায়গাই আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সম্ভাবনা।
এছাড়াও আমাদেরকে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কৃষিকে আরও বেশি উন্নত করতে হবে। কেননা মানুষ যতই টেকনোলজিতে উন্নত হোক না কেনো, দিনশেষে তাকে খাবার গ্রহণ করতেই হবে। আর আগামী বিশ্বে অর্গানিক খাদ্যের চাহিদা হবে সবচেয়ে বেশি ও দামী। খাদ্যে নিজেদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারলে বাকি বিষয়গুলি মোকাবেলা করা সহজতর হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০২৩ দুপুর ১:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×