somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

গীব দ্যা ডগ এ ব্যাড নেইম এন্ড কিল ইট!★★

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থ সচিব ড. আকবর আলী খানের একটি প্রবন্ধ পড়েছিলাম অনেক আগে, “সেখানে তিনি বলেছিলেন প্রশাসনের ভালো কর্মকর্তাদের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তারা সর্বদাই তাড়িয়ে বেড়ায়। ” কথাটি যে কতটা সঠিক তা আমরা খালি চোখেই এখন দেখতে পাই। যারা প্রশাসনে আছে তারা আমাদের চেয়ে আরো বেশি বুঝতে পারে। আমি এর আগে বহুবার বলেছি, আমাদের দেশে রাজনীতিবিদদের চেয়ে আমলারা বহুগুণ বেশি দুর্নীতিবাজ। সমস্যা হচ্ছে আমাদের অদক্ষ রাজনীতিবিদদের ছোটখাটো দুর্নীতির ব্লু প্রিন্ট দুষ্টু আমলাদের হাতে থাকে। আর এটাকেই তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। রাজনীতিবিদদের চাপে রেখে নিজেরা বড় ধরনের দুর্নীতি করে।
রাজনীতিবিদদের জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে, আর আমলাদের জবাবদিহি করতে হয় রাজনীতিবিদদের কাছে। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা অদক্ষ ও আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে খুব বেশি পরিচিত নয় বলে, দুষ্ট আমলারা তাদের উপর ছড়ি ঘুরায়!

অদক্ষ রাজনীতিবিদ, দুষ্ট আমলাদের সাথে যখন ভয়ঙ্কর সাংবাদিকরা জোট বাদে তখন বুঝতে পারেন সে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, ও রাজনৈতিক পরিবেশ কেমন থাকবে! রাজনীতিবিদদের কাছে আমলাদের এবং জনগণের কাছে রাজনীতিবিদদের ন্যূনতম হলেও জবাবদিহিতার কিছু ব্যাপার থাকে, কিন্তু সাংবাদিকদের জবাবদিহিতার জায়গা এ দেশে কোথাও নেই। প্রথম প্যারায় যেমনটি বলছিলাম, সৎ কর্মকর্তাদের অসৎ কর্মকর্তারা তাড়িয়ে বেড়ায়। ঠিক তেমনি সৎ রাজনীতিবিদ ও সৎ আমলা, উভয়কে তাড়িয়ে বেড়ায় এসব ভয়ংকর সাংবাদিকরা! এছাড়াও এদের রোষানলে পরে সৎ ব্যবসায়ী ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান! অবশ্য বাংলাদেশে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যারা মালিক তারা আবার স্বনামধন্য সব গণমাধ্যমেরও মালিক। এরা এদের ছোট ছোট প্রতিযোগীদের তাদের গণমাধ্যম ব্যবহার করে কিভাবে পথে বসিয়ে দেয় এর উদাহরণ চাইলে অনেক টানা যাবে!
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মান যে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা আপনি এদের নিউজ গুলি ফলো করে ধারণা নিতে পারবেন। তবে শুধু নিউজ পড়ে/দেখে আপনি পুরো বিষয়টি বুঝবেন না। নিউজ যখন পড়বেন তখন সেই গণমাধ্যমটির মালিক কে, তার কি কি ধরনের ব্যবসা আছে, সেগুলি সম্পর্কে যদি ধারণা থাকে তাহলে পরিষ্কার বুঝতে পারবেন সাংবাদিকতার নামে সেখানে কি হচ্ছে! এছাড়াও দেখবেন তাদের জেলা, উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের কোন প্রকার বেতন ভাতা দেওয়া হয় না। তারপরেও তারা বছরের পর বছর সাংবাদিকতা করে যাচ্ছে। এগুলির পিছনের রহস্য কি, সেগুলি বুঝতে পারলে বুঝবেন সাংবাদিকতার নামে কি চলছে!

ছোট্ট একটি উদাহরণ নিন, অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে সারাদেশে ২০০২/০৩ সালে র্যাব অনেক গুলো অপারেশন চালিয়েছিল। তখন পত্রিকাগুলি, টিভি চ্যানেল গুলি হত্যাকাণ্ডের শিকার মানুষগুলোকে এমন ভাবে উপস্থাপনা করেছে যে, মানুষের মৌন সমর্থন আদায় করতে তৎকালীন সরকার সমর্থ হয়েছে। ওইসব ঘটনায় পত্রিকাগুলির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তখন বিভিন্ন নিরপরাধ প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সম্পর্কে গণমাধ্যমে মিথ্যে খবর রটিয়ে দিবে বলে কোটি কোটি টাকা তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে অনেক সাংবাদিক! কিছু এমএলএম ব্যবসায় ধ্বস নামানোর ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের ভূমিকা আছে। কেননা এমএলএম ব্যবসায় বিজ্ঞাপনের জন্য গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হতে হয় না। যার জন্য মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসাগুলোকে গণমাধ্যম দুই চোখে দেখতে পারেনা।
সর্বশেষ বলি, আজ পর্যন্ত এদেশে কোনো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার পর সে মামলায় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জিতেছে কিনা? কিংবা জিতলেও ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পেরেছে কিনা? অন্তত আমার জানা নেই!
ভালো সাংবাদিক যে নেই সেটা অবশ্য বলবো না। আগের মতোই বলব, এই সেক্টরেও ভালো সাংবাদিকদের অসৎ সাংবাদিকরা সর্বদায় তাড়িয়ে বেড়ায়!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ১২:০১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×