somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

শিশুসাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন ১৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিংবদন্তি শিশুসাহিত্যিক হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন (Hans Christian Andersen)। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, নাট্যকার ও কবি। এ্যান্ডারসন বিখ্যাত মূলত দু’টি কারণে, তার রূপকথার জন্য তো তিনি বিখ্যাতই, আরেকটি তার ভ্রমণ ডায়েরির জন্য (ট্রাভেলগ)। তার বিখ্যাত কিছু কবিতাও আছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাটার নাম জেগ এর এন স্ক্যান্ডিনেভ, ইংরেজি করলে হয় আই এম এ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান। তবে শিশুসাহিত্যিক হিসাবেই তিনি অধিক পরিচিত। রূপকথার জাদুকর বলা হয় তাকে। ছোটদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন কল্পনার এক আশ্চর্য জগৎ। শিশুদের জগত বড়দের চেয়ে আলাদাই শুধু নয়, অনেক অনেক রঙিন আর প্রাণবন্তও। বিশ্বের ও বাংলা ভাষার অনেক শিশুসাহিত্যিক এই রংদার জগতটাকে ফুটিয়ে তুলেছেন আকর্ষণীয় করে। আমাদের সকলের মনে আছে তার সেই কুৎসিত হাঁসের ছানা কিংবা থাম্বেলিনা, স্নো হোয়াইট অথবা ছোট্ট মৎস্যকুমারীর গল্প। ডেনমার্কের হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এ্যান্ডারসন তার রূপকথাগুলোর জন্যই অমর হয়ে আছেন। তাঁর রূপকথাগুলো একেবারেই মৌলিক। তাঁরলেখার ভেতর দিয়ে নতুন একটি ধারার সৃষ্টি হয়। ১৮৭৫ সালের সালের আজকের দিনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে মৃত্যুবরন করেন। আজ শিশুসাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন ১৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুদিবসে রূপকথার শিশুসাহিত্যিককে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।


(হান্স কিশ্চিয়ান এন্ডারসন, মা এনা মারি এন্ডারসন এবং খালা ম্যাগডালিন জুলিয়ান রাসমুসেন)
হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন ১৮০৫ সালের ০২ এপ্রিল ডেনমার্কের অডেন্সে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা হ্যান্স এন্ডারসন (Hans Andersen) ছিলেন জুতোর কারিগর, আর মা এনি মারি এন্ডারসন (Anne Marie Andersen) ধোয়ামোছার কাজ করতেন। এ্যান্ডারসন ছিলেন বাবা-মার একমাত্র সন্তান। ছোট্ট থাকতেই ওদের পড়াশোনা করা বাদ দিয়ে চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়তে হয়। শিক্ষানবিস হিসেবে প্রথমে কাজ করলেন এক কাপড়ের কারিগরের কাছে, এরপর এক নাবিকের কাছে। এর মধ্যেই কিন্তু এ্যান্ডারসনের একটা কবিতা বেশ বিখ্যাত হয়ে গেছে। ইংরেজিতে কবিতাটির নাম- দ্য ডাইং চাইল্ড। কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন ১৮২৭ সালে। আর তখনকার কোপেনহেগেনের শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য পত্রিকাতেও নিয়মিতই তার কবিতা ছাপা হচ্ছিল। ১৮৩৫ সালে তিনি ছোট ছোট রূপকথা প্রকাশ শুরু করেন। রূপকথা লেখার জন্য রূপকথার জাদুকর নামে অভিহিত করা হয়। বিশ্বসাহিত্যর বিস্তীর্ন অঙ্গন জুড়ে সাজানো রয়েছে মনোমুগ্ধকর রূপকথার পসরা। প্রতিটি দেশ ও ভাষায় এ এক অর্পূব রত্নভান্ডার। জাতির শৌর্য-বীর্য আশা আকাঙ্খা ও আনন্দ বেদনার স্বপ্নীল আবেশ বিস্তৃত হয় রূপকথায়। আপাত দৃষ্টিতে এর কাহিনী অলীক ও অবিশ্বাস্য মনে হলেও শিশু মনের কৌতুহল ও স্বপ্ন এতে ফুটিয়ে তোলা হয় অপূর্ব বর্ণনাশৈলীতে। জ্বীন- পরী ও সুন্দরী রাজকন্যা , দৈত্যদানব, রাক্ষস- ক্ষোকস,যাদুর চেরাগ এসবের কাহিনী সম্পূর্ণ অবাস্তব মনে হতে পারে , কিন্তু চিন্তাশীল মানুষের জীবনের স্বপ্ন আকাঙ্খা,বাধা বিপত্তি ,বীরত্ব ও সাহসিকতা এবং সাফল্য- ব্যর্থতার কাহিনী রুপক হিসেবে এসেছে রূপকথার স্বপ্নীল রাজ্যে। এ রাজ্য তাই শিশুমনের সব ধরণের স্বপ্ন ও ভাবনা ব্যঙ্গময় হয়। শিশুর অবচেতন মনে যেসব ভাবনার উদ্রেক ঘটে এক বর্ণাঢ্য অভিব্যক্তি পাওয়া যায় তার রূপকথায়। যা শিশু মনে স্বপ্নীল আবেশে উদ্বেলিত হয়। আর এখানেই রূপকথার সার্থকতা। শিশুতোষ কাহিনী হিসেবে তাই রূপকথার আবেদন আজকের এই বিজ্ঞানের যুগেও ম্লান হয়ে যায়নি।


১৮২৯ সালে অভিনীত হয় হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসনের প্রথম নাটক। বেশ জনপ্রিয়ও হয় নাটকটি। ১৮৩১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই। আর তার প্রথম ভ্রমণ ডায়েরিও প্রকাশিত হয় ওই বছরই। জার্মানি ঘুরে এসে তিনি তার সেই ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার ভ্রমণবিষয়ক বইগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি ১৮৩৩ সালে ভ্রমণের জন্য রাজার আর্থিক সহায়তাও পান। আর তা দিয়ে তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ট্যুর দেন, জার্মানি-ফ্রান্স-ইতালি ট্যুর। ১৮৪৫ সালে তার লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ হয়ে প্রকাশ করা শুরু হয়। জার্মান ভাষায় প্রথম তার লেখার অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৮৪৭ সালে। আর ফরাসী ভাষায় ১৮৪৮ সালে তার প্রথম যে লেখাটি অনুবাদ হয়, সেটি ছিল রূপকথা। তাঁর লেখা ১৫০টির বেশি রূপকথা তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব। এসব রূপকথার মধ্যে 'দি টিন সোলজার', 'দি এমপেরর্স নিউ ক্লোদস', 'লিটল মারমেইড', 'দি টিনডারবক্স', 'দি স্নো কুইন', 'দি আগলি ডাকলিং' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা এসব রূপকথা বিশ্বের ১২৫টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর রূপকথাগুলোর কাহিনী অবলম্বনে অসংখ্য চলচ্চিত্র, নাটক, ব্যালে নৃত্য, অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র প্রভৃতি নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে।


১৮৭৫ সালের ০৪ আগস্ট ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে এই মহান সাহিত্যিক মৃত্যুবরন করেন। তার নিজের মূর্তি আছে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক আর ক্যালিফোর্নিয়ায়; আছে স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্তাভা শহরেও। জাপানে তার নামে একটা থিম পার্কই আছে। আর পোল্যান্ডে তার নামে আছে একটা থিয়েটার, যেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি পাপেট শো-ও হয়। এছাড়াও ২০০৬ সালে চীনের সাংহাই শহরে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করে তার নামে নির্মান করা হয়েছে থিম পার্ক। পার্কটি শুধু তার নামেই করা হয়নি, পার্কটির সবগুলো রাইড তার জীবন আর রূপকথার গল্প নিয়ে বানানো হয়েছে। আজ কিংবদন্তি লেখক হান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসনের ১৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুদিবসে রূপকথার সুসাহিত্যিককে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:০০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×