somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবক দানবীর হাজী মোহাম্মদ মোহসীনের ২৮৩তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবক দানবীর হাজী মোহাম্মদ মোহসীন। শুধু দানশীলতা নয়, আরবি ফরাসি-উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় এবং ইতিহাস বীজগণিতে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত ছিল। অনাড়ম্বর জীবনযাপনের অধিকারী হাজী মোহাম্মদ মেহসীনের মনোবৃত্তি আমাদের আজকের ভোগবাদী সমাজে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছে।বিশাল সম্পত্তির আয় চিরকুমার মোহসিন নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যয় না করে দীন-দুঃখীর দুঃখ মোচনের জন্য ব্যয় করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ করে কলকাতার সীমানাবর্তি এলাকাগুলোতে তিনি অনেক সম্পতি আহলে বাইতের অনুসারী শীয়াদের নামে ওয়াক্বফ করে গেছেন। হুগলী-ঢাকা-চট্টগ্রাম-যশোর প্রভৃতি স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু অর্থ দান করেছেন। মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে ১৮০৬ সালে একটি তহবিল গঠন করে ধর্ম ও জনহিতকর কার্যে সম্পত্তি দান করেন। মোহসীন তহবিলের অর্থে ‘হুগলী মোহসিন কলেজ’ (১৮৩৬), হুগলী দাতব্য চিকিৎসালয় (১৮৩৬) এবং হুগলরি নতুন ইমামবাড়া (১৮৪৫) স্থাপিত হয়। মোহসিন তহবিলের বৃত্তির অর্থ দিয়ে হাজার হাজার ছাত্রের উচ্চশিক্ষালাভের প্রসার ঘটে। আজ দানবীর হাজী মোহাম্মদ মোহসীনের ২৮৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৭৩২ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবক দানবীর হাজী মোহাম্মদ মোহসীনের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


মোহাম্মদ মোহসীন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারী ভারতের পশ্চিম বাংলার হুগলীতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলীম ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইরানের ইসপাহান প্রদেশের মানুষ এবং শীয়া সম্প্রদায়ের লোক । তার পিতার নাম হাজী ফাইজুল্লাহ এবং মাতার নাম জয়নাব খানম। এটি ছিলো জয়নব খানমের দ্বিতীয় বিবাহ। তার প্রথম স্বামী আগা মোতাহার বিশাল ধন সম্পত্তির মালিক ছিলেন পরে যার মালিক হন তার একমাত্র কন্যা মন্নুজান খানম। মন্নুজান ও মোহসীন পারিবারিকভাবে ক্বোরআন, হাদিস সম্পর্কে বিষদ জ্ঞান লাভ করেন। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য মোহসীন মুর্শিদাবাদ গমন করেন। ইতি মধ্যে মোহসীনের পিতার মৃত্যু হলে তিনি তার সৎবোন মন্নুজান যত্নে বড় হন। ১৭৬৭ সালে মন্নুজানের বিয়ে হলে মোহসীন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন ইরাণ, ইরাক, তুর্কি ভ্রমন করেন। তিনি মক্কা, মদিনা, কারবালার প্রান্তর ও কুফাসহ অনেক পবিত্র নগরী ভ্রমন করেন। হ্জব্রত পালন করার পরে তিনি হাজী মোহাম্মদ মোহসীন নামে পরিচিতি লাভ করেন।


(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হাজি মুহাম্মাদ মহসীন হল)
ভ্রমন শেষে হাজী মহসীন দেশে ফিরে আসেন। ইতিমধ্যে মন্নুজান বিধবা হন। মহসীন তখন সৎ বোন মন্নুজানের সাথে থাকতেন এবং তার নবাব স্টেট দেখাশুনা করতেন। উল্লেখ্য হাজী মোহাম্মদ মোহসীনের মাতা জয়নব খানমের প্রথম স্বামী আগা মোতাহার হুগলি, যশোহর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়াতে বিশাল স্থাবর ও অস্থাবর ধনসম্পত্তি রেখে যান। ১৮০৩ সালে সৎ বোন মন্নুজান পরলোক গমন করেন। এরপর সংসার ধর্মে চির উদাসীন মহসীন আরো বৈরাগী হয়ে যান। এই সময় মুলত দান করেই তিনি সময় কাটাতেন। তার মৃত সৎ বোন মন্নুজানের বিশাল সম্পত্তি জনগনের সেবার জন্য উইল করে দেন। তাঁর দানের টাকায় বহু পরিবার চলত। তার আর্থিক সহয়তায় ইমামবারা, মহসীন কলেজ তৈরি হয়। এখনও হুগলিতে মহসীন ফান্ড আছে। সেখান থেকে ছাত্রছাত্রীরা সাহায্য পেয়ে থাকনে। শিক্ষাব্রতী সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ মোহসীন ১৮১২ খৃষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর পরলোক গমন করেন। বাংলার একজন দানবীর মানুষ হিসাবে খ্যাত হাজি মুহাম্মদ মহসীন মানুষের কল্যাণে বহু কাজ করেছেন। এখনও মহসীনের নামে বহু শিক্ষালয় আছে। খুলনার হাজী মহসীন কলেজও ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হাজী মুহাম্মাদ মোহসীনের নামে ছাত্রাবাস আছে।


অনাড়ম্বর জীবনযাপনের অধিকারী হাজী মোহাম্মদ মোহসীনের ২৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ । শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবক দানবীর হাজী মোহাম্মদ মোহসীনের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:৩৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×