somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

হলিউড দেবী ডেইম এলিজাবেথ টেইলরের ৮৫তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হলিউডের সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের অন্যতম হলিউড দেবী ডেইম এলিজাবেথ টেইলর। সংক্ষেপে লিজ টেইলর। ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ-মার্কিন অভিনেত্রী টেইলরকে হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম অভিনত্রী হিসেবে ধরা হয়। তাঁকে তাই বলা হয় জীবনের থেকেও বড় তারকা। আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট টেইলরকে তাঁদের নারী কিংবদন্তি তালিকায় ৭ম স্থানে রেখেছে। তিনি তাঁর অভিনয় প্রতিভা ও সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যেমন তার সৌন্দর্য, তেমনি অভিনয় প্রতিভা, আবার তেমনই বিতর্কিত তার ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কগুলোও যেমন তার অনেকগুলো বিয়ে করা। টেইলরের জীবনে ব্যস্ততম বছরটি ছিল ১৯৫৪ সাল। সে বছর মুক্তি পায় তার চারটি ছবি। তখন ২২ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী পৃথিবীর অন্যতম সুন্দরী হিসেবেও বিবেচিত হতেন। টানা চারবার মনোনয়ন পাওয়ার পর অবশেষে এলিজাবেথের ঘরে ঢুকে অস্কার। ‘বাটারফিল্ড’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন পতিতার চরিত্রে। বিপরীতে ছিলেন স্বামী এডি ফিশার। অস্কার এনে দিলেও টেইলর-ফিশার জুটির কাছে এটি ছিল অপছন্দের চলচ্চিত্র। ২০০৬ সালে ‘হাউস অব টেইলর’ নামে একটি গহনার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি, যেখানে হীরা ও মূল্যবান পাথরের অলঙ্কার পাওয়া যায়। এসব গহনা ডিজাইন করা হয় টেইলরের সংগ্রহে থাকা অলঙ্কারের আদলে। এতে এতই আসক্ত ছিলেন যে জুয়েলারি নিয়ে বইও লিখেছেন তিনি। এছাড়া বাজারের সবচেয়ে দামি সুগন্ধিও টেইলরের নামে। আজ তার ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩২ সালের আজকের দিনে তিনি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। কিংবদন্তি অভিনেত্রী লিজ টেলরের জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা।


এলিজাবেথ ১৯৩২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের অভিজাত এলাকায় হ্যাম্পস্টেডে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ফ্রান্সিস লেন টেইলর (১৮৯৭-১৯৬৮) ও মা সারা ভায়োলা ওয়ার্মব্রড। টেইলরের বাবা পেশায় ছিলেন একজন ছবির ডিলার এবং মা ছিলেন মঞ্চ অভিনেত্রী, মঞ্চে যাঁর নাম ছিলো সারা সদার্ন। তার জন্মের সময় তার মার্কিন পিতা-মাতা লন্ডন প্রবাসী থাকলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিরে আসেন আমেরিকায়। লস অ্যাঞ্জেলসে শুরু হয় তার নতুন জীবন। লিজ ছিলেন আজন্ম শিল্পী। মাত্র ৩ বছর বয়েসে নাচতে শুরু করেন অভিনেত্রী মায়ের কন্যা ছোট্ট লিজ। মাত্র ১০ বছর বয়েসে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন। ১২ বছর বয়েসে পর পর কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করে রীতিমতো তারকা বনে যান কিশোরী এলিজাবেথ। কিন্তু এতসব সাফল্যের পাশাপাশি ট্র্যাজেডি আর বড় বড় ধাক্কাও মোকাবেলা করেন বিশ্বখ্যাত এই অভিনেত্রী। প্রযোজক স্বামী মাইক টড মারা যান ১৯৫৮ সালে। স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তিনি স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এডি ফিশারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় ইন্ডাস্ট্রিতে কানাকানি পড়ে যায় বেশ জোরেশোরেই। এরপা্র ‘ক্লিওপেট্রা’ ছবিতে অভিনয়ের সময় প্রেমে পড়েন অভিনেতা রিচারড বারটনের সঙ্গে, পরের বছর ১৯৬৪ সালেই বিয়ে করেন তাকে। তার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে কানাকানি চলতেই থাকে চলচ্চিত্র জগতে। সঙ্গে চলতে থাকে লিজের সাফল্যের অপ্রতিরোধ্য গতি। পঞ্চাশের দশকে হলিউডে শাসন শুরু করেছিলেন লিজ টেলর। একাধিকবার অস্কার ছাড়াও অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন অ্যামেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট এর লাইফ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বা আজীবন সম্মাননা। তার সর্বশেষ অভিনীত ছবি ‘দ্য ফ্লিন্টস্টোনস’। আশির দশকের প্রথম দিকে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে ঝুঁকে পড়েন টেলিভিশনের দিকে। ‘পোকার অ্যালিস’, ‘জেনারেল হসপিটাল’, ‘অল মাই চিলড্রেন’-এর মতো টিভি সিরিজে দেখা যায় এলিজাবেথকে। ‘দ্য লিটল ফক্সেস’, ‘প্রাইভেট লাইভস’ নামে মঞ্চ নাটকেও দেখিয়েছেন অভিনয়গুণ। বেগুনি চোখের চাউনিতে বশ করেছিলেন দর্শকদের আর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সঙ্গে সেটি ধরে রেখেছিলেন।


(লিজ টেলর এবং কনরাড "নিকি" হিলটন)
মাত্র ১৮ বছর বয়সে খ্যাতির শিখরে ওঠেন এলিজাবেথ টেইলর। তিনি বরাবরই আলোচনায় এসেছেন সৌন্দর্য এবং একাধিক বিয়ের কারণে। রূপে-গুণে-ব্যক্তিত্বে শুধু দর্শক নয়, স্থান করে নেন বহু পুরুষের হৃদয়াসনে। সময়ের পরিক্রমায় তিনি সাতজন পুরুষের সঙ্গে আটবার বিয়ের বাঁধনে বাঁধা পড়েছিলেন। তারা হলেনঃ
১। কনরাড "নিকি" হিলটন (৬ মে, ১৯৫০ - ২৯ জানুয়ারি, ১৯৫১) (বিচ্ছেদকৃত)
২। মাইকেল ওয়াইল্ডিং (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ - ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫৭) (বিচ্ছেদকৃত)
৩। মাইকেল টড (২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ - ২২ মার্চ, ১৯৫৮) (বৈধব্যপ্রাপ্ত)
৪। এডি ফিশার (১২ মে, ১৯৫৯ - ৬ মার্চ, ১৯৬৪) (বিচ্ছেদকৃত)
৫। রিচার্ড বার্টন (১৫ মার্চ ১৯৬৪ - ২৬ জুন ১৯৭৪) (বিচ্ছেদকৃত)
৬। রিচার্ড বার্টন (পুনরায়) (১০ অক্টোবর, ১৯৭৫ - ২৯ জুলাই, ১৯৭৬) (বিচ্ছেদকৃত)
৭। জন ওয়ার্নার (৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৬ - ৭ নভেম্বর, ১৯৮২) (বিচ্ছেদকৃত) এবং সর্বশেষ
৮। ল্যারি ফোর্টনেস্কি (৬ অক্টোবর, ১৯৯১ - ৩১ অক্টোবর, ১৯৯৬) (বিচ্ছেদকৃত)


অভিনয় ছাড়াও নানা সমাজ সচেতনতামূলক কাজেও অংশ নেন কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী। তিনিই প্রথম হলিউড তারকা, যিনি এইডসের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে এগিয়ে আসেন।এইডস সম্পর্কে প্রচারণা চালান এ রোগে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রক হাডসনের মৃত্যুর পর। ‘লাভ লেটার’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অংশ নেন এইডস তহবিল গঠনের জন্য। ১৯৮৫ সালে গঠিত ‘আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর এইডস রিসার্চ’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ‘এলিজাবেথ টেইলর এইডস ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা। এইডস প্রতিরোধে জনমত সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সম্মাননাও লাভ করেন। অভিনয় প্রতিভা ও বেগুনি চোখের চাহনিতে লিজ টেলর বশ করেছিলেন দর্শককে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অমোঘ নিয়মে পরাজয় বরণ করতে হয় নিয়তির কাছে। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন টেলর। নব্বইয়ের দশকটা প্রায় পুরোটাই ভোগেন নানারকম রোগে।২০০৪ সালে ঘোষণা করা হয় যে, তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন এবং ২০০৯ সালে তাঁকে কার্ডিয়াক সার্জারীর মাধ্যমে ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে হৃদযন্ত্রের সমস্যার দরুণ উন্নত চিকিৎসার জন্য সিডারস-সিনাই মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ চার সন্তানকে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলসের সিডারস-সিনাই মেডিক্যাল সেন্টারে প্রয়াত হন কিংবন্তি অভিনেত্রী লিজ টেলর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৯ বছর । আজ তার ৮৫তম জন্মবার্ষিকী।কিংবদন্তি অভিনেত্রী লিজ টেলরের জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৪১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বরাজনীতি চলে স্বার্থের হিসেবে, আমরা চলি অন্ধ আবেগে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২২


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস হলো বিশ্লেষণ। চাল, ডাল কিংবা তেলের দাম নিয়ে যতই হাহাকার থাকুক, ভূরাজনীতি নিয়ে জ্ঞানের কোনো অভাব নেই। চায়ের দোকানে বসে যিনি নিজের বাসার গ্যাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×