somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখক নারায়ণ সান্যালের ১৪তম মৃতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখক নারায়ণ সান্যাল। তাঁর সমসাময়িক লেখকরা যখন আবেগ-নির্ভর কথাসাহিত্য সৃষ্টিতে নিয়োজিত থেকেছেন, সে সময় নানা ধারার রচনা সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে এই ক্ষুরধার লেখনির অধিকারী মানুষটি বাংলা সাহিত্যে বিশিষ্ট স্থান দখল করে নিয়েছেন। নিত্য নতুন বিষয়বস্তু নির্বাচন ছিল তাঁর রচনাশৈলীর এক বৈশিষ্ট্য। নারায়ণ সান্যাল নানা বিষয়ে বহু বই লিখেছেন। শিশু সাহিত্য থেকে সায়েন্স ফিকশন, শিল্প সমালোচনা, স্থাপত্য বিষয়ক গ্রন্থ, মনস্তত্ত্ব, প্রযুক্তি, উদ্বাস্তু সমস্যা, ইতিহাস,পশু পাখি বিষয়ক বই থেকে সামাজিক উপন্যাস পর্যন্ত ছিল তাঁর অবাধ বিস্তার। সাহিত্যজগতে নারায়ন সান্যাল তাঁর বকুলতলা পি এল ক্যাম্প ও দন্ডক শবরি গ্রন্থের জন্য বিশেষভাবে পরিচত। পি.ডব্লু.ডি তে চাকরি করাকালীন দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে তাঁর পোস্টিং হয়, জীবনের অভিজ্ঞতায় এই দুটি উপন্যাস লেখেন যা বিদগ্ধ পাঠক মহলে সমাদৃত হয়। এছাড়া বিজ্ঞান, শিল্প স্থাপত্য ভাস্কর্য ও সামাজিক, ঐতিহাসিক উপন্যাস প্রচুর লিখেছেন। শিশু কিশোরদের জন্যেও তাঁর রচনা সুখপাঠ্য। তাঁর অন্যান্য রচনাগুলির মধ্যে বিশ্বাসঘাতক, ষাট একষট্টি, হে হংসবলাকা, নক্ষত্রলোকের দেবতাত্মা, আবার যদি ইচ্ছা করো, রূপমঞ্জরী (হটু বিদ্যালঙ্কার এর জীবনী অবলম্বনে) অরণ্য দন্ডক, অশ্লীলতার দায়ে, না মানুষের পাঁচালী উল্লেখযোগ্য। রহস্য গোয়েন্দা কাহিনীও লিখেছেন, তাঁর কাঁটা সিরিজ নামে খ্যাত বইগুলির মূল চরিত্র ব্যারিস্টার পি কে বাসু স্ট্যানলি গার্ডেনারের প্যারি ম্যাসন এর আদলে তৈরি। তার রচিত কাহিনী নাগচম্পা (যদি জানতেম), সত্যকাম, পাষণ্ড পন্ডিত চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। প্রখ্যাত এই লেখক ২০০৫ সালের আজকের দিনে ভারতের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখক নারায়ণ সান্যালের ১৪তম মৃতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


নারায়ণ সান্যাল ১৯২৪২ সালের ২৬শে এপ্রিল ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার আদি নিবাস নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগরে জন্ম হলেও তিনি কলকাতায় শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন। ম্যাট্রিক পাশ করেন আসানসোল ই আই আর বিদ্যালয় থেকে। স্কুলের খাতায় নাম ছিল নারায়নদাস সান্যাল। ১৯৪৮ সালে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি.ই. সম্পন্ন করেন। তিনি ইন্সটিট্যুট অব ইঞ্জিনিয়ার্স (ইন্ডিয়া)-এর ফেলো ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন পুর প্রকৌশলী। ১৯৮২ সালে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছিলেন। এই প্রতিভাবান লেখক পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলো ছায়া নিয়ে লিখতে ভালবাসতেন। আদিম মানুষ থেকে মানুষ সভ্য হয়ে ওঠার ঘটনাক্রম নিয়ে তাঁর কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি নক্ষত্রলোকের দেবতাত্মা। এ ছাড়া শুক্র গ্রহ অভিযান নিয়ে আর্থার সি ক্লার্কের 2001. A Space Odyssey থেকে অনুপ্রাণিত তাঁর বিখ্যাত রচনা হ্যালের যন্ত্র-না। তাঁর সব চেয়ে বিখ্যাত রচনা আমেরিকার প্রথম পরমাণু বোমা তৈরির ম্যানহাটন প্রজেক্ট নিয়ে লেখা ‘বিশ্বাসঘাতক’। এটিও একটি বিদেশি উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত। তিনি বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা কাহিনি লিখেছেন। যা কাঁটা সিরিজ নামে পরিচিত। তবে বলে রাখা উচিৎ নারায়ণ সান্যাল টুকতেন না। তিনি মূল বিষয়টি নিতেন এবং সেটিকে বাংলার পরিবেশের উপযুক্ত করে তৈরি করতেন। সর্বত্র তিনি সূত্র জানিয়ে দিতেন। সাহিগত্যে তার অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার – অজন্তা অপরূপা , ২০০০ সালে বঙ্কিম পুরস্কার – রূপমঞ্জরী এবং
সত্যকাম চলচ্চিত্রের জন্য বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টঅ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ কাহিনির পুরস্কার লাভ করেন।


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই বহুমুখী প্রতিভার লেখক ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই বহুমুখী প্রতিভার জন্য স্বতন্ত্র আসন চিরকাল থাকবে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখক নারায়ণ সান্যালের ১৪তম মৃতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:০৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘুমিয়ে আছে কারা

লিখেছেন আরমান আরজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫




এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×