somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবনূরের ৪০তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছ

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শাবনুর ঢালিউড চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। শাবনূরের প্রকৃত নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত দুই নয়নের আলো ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন শাবনুর। এছাড়াও তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে ১০ বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। শাবনূরের প্রথম চলচ্চিত্র চাঁদনী রাতে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেন এহতেশাম এবং তার বিপরীতে নায়ক ছিল সাব্বির। এই ছবিটি ব্যর্থ হয়। পরে চিত্র নায়ক সালমান শাহের সাথে জুটি বেধে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যার প্রায় সবগুলোই ছিল ব্যবসায়িক মানদন্ডে সফল। সালমান শাহ-শাবনূর জুটির প্রথম ছায়াছবি জহিরুল হক পরিচালিত তুমি আমার ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। একই বছর শাহ আলম কিরণ তাদের নিয়ে ফারুক-কবরী জুটির সুজন সখী চলচ্চিত্রের রঙিন পুনঃনির্মাণ সুজন সখি নির্মাণ করেন। ১৯৯৫ সালে স্বপ্নের ঠিকানা, ১৯৯৬ সালে স্বপ্নের পৃথিবী, তোমাকে চাই, ১৯৯৭ সালে শিবলি সাদিক পরিচালিত আনন্দ অশ্রু এ জুটির উল্লেখযোগ্য ছবি। পরে তিনি নায়ক রিয়াজ এর বিপরীতে অভিনয় করে দারুন সফলতা অর্জন করেন। রিয়াজের বিপরীতে ১৯৯৭ সালে মন মানেনা ও তুমি শুধু তুমি এবং ১৯৯৯ সালে অভিনীত ভালবাসি তোমাকে ও বিয়ের ফুল ছায়াছবিগুলো ব্যবসা সফল হয়। পাশাপাশি তিনি অভিনেতা ফেরদৌসের সাথেও সফল হন। এছাড়াও তিনি মান্না, শাকিব খানের সাথে অভিনয় করে সফল হয়েছেন। এসময়ে তিনি ভালবাসি তোমাকে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্রের জন্য পর্যন্ত টানা দুইবার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। আজ এই অভিনেত্রীর ৪০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭৯ সালের আজকের দিনে তিনি যশোহরে জন্মগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবনূরের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


শাবনূর ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম কাজী শারমিন নাহিদ নুপুর। পরে স্বনামধন্য নির্মাতা এবং তার মেনটর এহতেশাম তার নাম রাখেন শাবনূর। শাবনূর শব্দের অর্থ রাতের আলো। শাবনূরের পিতার নাম কাজী নাসির এবং মা আমেনা বেগম মিলি। যদিও শাহজাহান চৌধুরীকে তার বাবার নাম বলা হয়, তবে তিনি শাবনুরের পূর্বপুরুষ নন। শাহজাহান চৌধুরীর সাথে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রের ছবি তুমি শুধু তুমির সাথে দেখা হয়েছিল। তারপর শাহজাহান চৌধুরী শবনুর মায়ের সাথে প্রেম করে এবং বিয়ে করেন। শাবনুরের মূল পিতার কাজী নাসিরের বাসের ধাক্কায় মারা যান। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনি। বোন ঝুমুর এবং ভাই তমাল দুজনেই নিজ নিজ পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। ১৯৯৩ সালে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত চাঁদনী রাতে তার আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রথম বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্র ছিল দুনিয়ার বাদশা এতে সহ-অভিনেতা আমিন খান এবং তুমি আমার চলচিত্রে সহ- (অভিনেতা) সালমান শাহ । ১৯৯৪ সালে, তার চলচ্চিত্র তৈরীর কাজ শুরু হয় সঙ্গে যুক্ত হয় 1996 সালে তার মৃত্যুর আগে। তিনি সালমানের সাথে একটি ইতিহাস তৈরি করেছেন এবং তারা একসঙ্গে ১৪টি সিনেমা করেছিল এবং সব গুলো সুপারহিট সিনেমা ছিল। তিনি আমিন খান, ওমর সানি এবং অন্যান্যদের সাথেও অভিনয় করেছিলেন এবং তাদের সাথেও সাফল্য পেয়েছিলেন। সালমান শাহের মৃত্যুর পর তিনি রিয়াজ ও শাকিল খানের সাথে অভিনয় শুরু করেন। তিনি মান্না, আমিন খান, ফেরদৌস আহমেদ এবং সাকিব খানের সাথে অভিনয় করেছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু হঠাৎ সালমানের চলে যাওয়াতে শাবনূরের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন রিয়াজের সঙ্গে জুটি বেঁধে। পাশাপাশি ফেরদৌস, মান্না এমন কি হালের নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করেও সফল হন তিনি। কিন্তু সবকিছু উলটপালট হয়ে যায় ডিজিটাল চলচ্চিত্রের আগমনে। তখন থেকেই শাবনূরের হাতে ছবির সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১১ সালে শাবনূর অভিনীত মাত্র দুটি ছবি মুক্তি পায়। আর তাতেই চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব নেয়া সর্ম্পকে সেই সময় শাবনূর বলেন, ‘চলচ্চিত্র ছাড়ছি না। অস্ট্রেলিয়াতে বছরে মাত্র তিন মাস থাকবো তাও ভাই-বোনদের জন্যে।’ তবে শাবনূর মুখে যাই বলুক না কেন, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, মুটিয়ে যাওয়ার কারণে তাকে আর দর্শকরা গ্রহণ করছিলেন না। পাশাপাশি নতুন নায়িকাদের গ্লামারের কাছেও হার মানতে হচ্ছিল তাকে।


ব্যক্তিগত জীবনে শাবনূর ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে আংটি বদল করেন এবং ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাকে বিয়ে করেন। এর পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন ও নাগরিকত্ব লাভ করেন। শাবনূরের বর অনীক ইউডা থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়াশোনা শেষ করেছেন। আর শাবনূরের চেয়ে তার বয়স অনেক কম। বিয়ের পর শাবনূর কোনো দিন নিজের ইচ্ছেতে সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বামী ও সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দেননি। তারকার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি বরাবরই এড়িয়ে চলেছেন শাবনূর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর ঠিক থাকেনি। দেখা মিলেছে শাবনূরের স্বামী ও সন্তানের ছবি। কিন্তু কি কারণে শাবনূরের এমন সিদ্ধান্ত তা নিয়ে শাবনূর বলেন, ‘বলতে পারেন, নায়িকা হওয়ার কারণে আমাকে স্বাভাবিক জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে। মন চাইলেও কখনো নিজের মতো করে বাইরে কোথাও ঘুরে বেড়ানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে বোরকা পরে বের হতে হয়েছে। কিন্তু আমারও তো ইচ্ছে করে, অন্যদের মতো করে ঘুরে বেড়াতে। কিন্তু তা কি আর হয়। বিয়ের পর তাই ভেবেছি, আমার স্বামী ​আর সন্তানকে যদি সাধারণ মানুষ না চেনেন হয়তো তাহলে তাঁদের সঙ্গে অন্তত বাইরে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতে পারব। সেই ভাবনা থেকেই আসলে আমি স্বামী ও সন্তানকে সবার সামনে তুলে ধরতে চাইনি।’। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি ১ম ছেলে সন্তানের মা হন। তার ছেলের নাম আইজান নিহান। বর্তমানে ছোট বোন ঝুমুরের সাথে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আছেন শাবনূর। আজ এই অভিনেত্রীর ৪০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭৯ সালের আজকের দিনে তিনি যশোহরে জন্মগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবনূরের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাও সে তুং-এর 'পিপলস কমিউন' ব্যবস্থা যেভাবে ৩-৪ কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬



চীনের আধুনিকায়নে মাও সে তুং-এর নেওয়া সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষাগুলোর একটি ছিল কৃষির সমবায়িকরণ এবং "পিপলস কমিউন" ব্যবস্থা, ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার মূল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার রিসাচ পেপার পাবলিশভ

লিখেছেন মোঃ মােজদুল ইসলাম, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩৪

Hailstorm, Rain, Dust The effect of Climate Change in Bangladesh
XXXX
IOSR Journal of Environmental Science, Toxicology and Food Technology
2319-2402
International Organization of Scientific Research
www.iosrjournals.org
Open Access Publishing
Blind Peer Review Process
Indexed Refereed Journal
20
06
10.9790/2402-2006020106 ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×