somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিখ্যাত মার্কিন ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার এবং নাট্য রচয়িতা হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস এর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার এবং নাট্য রচয়িতা। তাঁর প্রাকৃতিক লিখনশৈলী ও বিষয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা পরবর্তীকালের লেখকদের ব্যাপকভাবে প্রভাবান্বিত করেছিল। ১৯৩০ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই ছিলেন প্রথম মার্কিন লেখক যিনি এ পুরস্কার লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি সনাতনী ধাঁচের রোমান্টিকতায় ছেদ ঘটিয়েছেন। তাঁর রচনায় আমেরিকার মধ্যবিত্ত সমাজের উদ্দেশ্যহীনতা ও একঘেয়েমির কথা বিবৃত হয়েছে। লেখাগুলোর অন্তর্দৃষ্টিতে আমেরিকান সমাজের সমালোচনা ও বুর্জোয়ানীতির কথা প্রবলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে আধুনিককালের মার্কিনি কর্মজীবী নারীদের শক্ত মানসিকতা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস আওয়ার মিস্টার রেন ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। এ রচনার মাধ্যমে তিনি ব্যাপকভাবে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ ও নজর কাড়তে সক্ষম হন। পাশাপাশি বেশ সমালোচনার মুখোমুখি পড়েন তিনি। ১৯২০ সালে প্রকাশিত মেইন স্ট্রিট গ্রন্থে মধ্যবিত্ত সমাজের জীবনধারায় উদ্দেশ্যহীনতা, আবেগিক হতাশা, আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার অভাবের কথা তুলে ধরেন। এটি শুধু উপন্যাসই ছিল না; পরবর্তী সময় আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পাঠ্য-পুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এ ছাড়াও ব্যাবিট, অ্যারোজস্মিথ, এলমার গ্যান্ট্রি, ডডসওর্থ তাঁর অমূল্য রচনা হিসেবে স্বীকৃত। আজ হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস এর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৮৫ সালের আজকের দিনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। বিখ্যাত মার্কিন ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার এবং নাট্য রচয়িতা হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস এর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস ১৮৮৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাউক সেন্টারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এডউইন জে. লুইস পেশায় ছিলেন চিকিৎসক এবং মা এমা কারমন লুইস। ১৮৯১ সালে তার মা মৃত্যুবরণ করলে পরের বছর তার বাবা পুনরায় ইসাবেল ওয়ার্নার নামীয় এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ইসাবেল ওয়ার্নারের সহযোগিতায় লুইস বড় হতে থাকেন। ফ্রেদ ও ক্লদ নামীয় তার আরও দুই ভাই ছিল। শৈশবেই তিনি বই-পুস্তক পাঠ করতে ভালবাসতেন ও ব্যক্তিগত দিনপঞ্জিকা ব্যবহার করতেন। একাকী শৈশবকাল অতিক্রমণের সময়কালে লুইসের গড়ন ছিল বেশ লম্বা ও হালকা-পাতলা যা বন্ধু-বান্ধব এবং স্থানীয় মেয়েদের তেমন নজর আকর্ষণ করতে পারেনি। ১৩ বছর বয়সে বাড়ী থেকে বের হয়ে গেলেও ফিরে আসতে বাধ্য হন। সিনক্লেয়ার ১৯০৭ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে লুইস বেশ কিছু পত্রিকার প্রতিবেদক ছিলেন এবং দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট ও কসমোপলিটন সাময়িকীর সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি লেখাকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। সিনক্লেয়ার লুইসের প্রথম বই আওয়ার মিস্টার রেন প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে, এই বইয়ের মাধ্যমেই তিনি পাঠকের মনোযোগ এবং সমালোচনা—দু’টিরই সম্মুখিন হন। তাঁর দ্বিতীয় বই ‘মেইন স্ট্রিট’ ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়—যা আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পাঠ্যপুস্তক হিসাবেও পড়ানো হয়। উপন্যাসটিতে আমেরিকান মধ্যবিত্ত সমাজের উদ্দেশ্যহীনতা, হতাশা, বুদ্ধিবৃত্তিচর্চা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে, ব্যাবিট (১৯২২), অ্যারোজস্মিথ (১৯২৫), ডডসওর্থ (১৯২৯) ইত্যাদি। ১৯২৬ সালে অ্যারোজস্মিথের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেলেও সিনক্লেয়ার তা গ্রহণ করেন নি।


সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখবার জন্য ১৯৩০ সালে লুইস সিনক্লেয়ার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সুইডিশ একাডেমীতে স্মারক বক্তৃতায় তিনি ব্যাবিট উপন্যাসের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি থিওডোর ড্রেইজার, উইলা ক্যাথার, আর্নেস্ট হেমিংওয়েসহ অন্যান্য লেখকদেরকে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বলেন, 'আমেরিকায় শুধুমাত্র পাঠক নয়, আমরাও সাহিত্যচর্চা করতে ভয় পাই যা প্রত্যেক আমেরিকানের জন্যে গৌরব বয়ে আনে না। আমাদের ভাগ্যের পার্শ্বে গৌরবেরও ত্রুটি রয়েছে। আজ আমেরিকা বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বিতর্কিত, সর্বাপেক্ষা হতাশাগ্রস্ত জাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।' এছাড়াও তিনি আমেরিকার সাহিত্য প্রতিষ্ঠারও সমালোচনা করার জন্যে জন্যে আমন্ত্রণ জানান। তিনি আরও বলেন, 'আমাদের আমেরিকার অধ্যাপকগণ এ ধরনের সাহিত্যকে পছন্দ করেন, নিষ্কলুষ, শীতল, বিশুদ্ধ ও অত্যন্ত নির্জীব রাখতে ভালবাসেন।' ১৯৩০ সালের পর তার সাহিত্যিক অবদান বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃতি পেতে থাকে। তারপরও তিনি পুরস্কারের লোভ থেকে দূরে সরে থাকতেন। সাহিত্য চর্চায় অসামান্য অবদান রাখায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাকবিভাগ থেকে প্রকাশিত সেরা আমেরিকান ধারাবাহিক শিরোনামে ডাকটিকেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি সম্মানিত হন।


(সিনক্লেয়ার লু্ইস এবং স্ত্রী ডরোথি থম্পসন)
ব্যক্তিগত জীবনে সিনক্লেয়ার লু্ইস দুইবার বিয়ে করেন। কিন্তু উভয় বিয়েই বিচ্ছেদের আকার ধারণ করে। দ্বিতীয় বিয়েটি ছিল রাজনৈতিক লেখক ডরোথি থম্পসনের সাথে। তখন তিনি মাত্রারিক্ত মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। জীবনের শেষ দিনগুলোয় প্রায়শঃই তিনি দেশের বাইরে কাটাতেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৫১ সালে ইতালির রোম নগরীতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু পরবর্তীকালে ১৯৫২ সালে তার ফ্রম মেইন স্ট্রীট টু স্টকহোম শিরোনামে পত্রাবলী আকারে গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। আজ হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস এর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী। বিখ্যাত মার্কিন ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার এবং নাট্য রচয়িতা হ্যারি সিনক্লেয়ার লুইস এর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×