somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৩ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তিনি দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার উল্লেখযোগ্য গানসমূহের মধ্যে রয়েছে এক নদী রক্ত পেরিয়ে, একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে, একতারা তুই দেশের কথা বলরে‌ এবার বল্, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, আমায় যদি প্রশ্ন করে, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়। প্রথমোক্ত তিনটি গান বিবিসির একটি জরিপে সর্বকালের সেরা বিশটি বাংলা গানের তালিকায় স্থান পায়। ১৯৯২ সালে তিনি একুশে পদক এবং ১৯৯০ সালে ছুটির ফাঁদে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এই সুপরিচিত শিল্পী ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তির সাথে সময় থাকতেই গান থেকে বিদায় নেন। কারণ হিসেবে তিনি 'ব্যক্তিগত চয়েজ (পছন্দ)'- এর কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তাঁর সংসার জীবনের গল্প তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সংসারকে ভীষণ ভালোবাসি। আমার ৪২ বছরের ঘর।... বিয়ের পরে হাউজ ওয়াইফ হিসেবে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছি।" পরবর্তীতে তিনি ওমরাহ করতে গিয়ে ধর্মপরায়ণ জীবনযাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘ওমরাহতে গিয়েই আমি চেঞ্জ হয়ে গেছি। আসার পর মনে হয়েছে শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো, শুধু মনে হয়েছে আমি রোজা রাখবো, শুধু মনে হয়েছে আমি কুরআন শরীফ পড়বো। এবং ৫০ বছর পার হয়ে গেছে, ইমেজটা সুন্দর থাকতে থাকতেই আমি ছাড়তে চেয়েছিলাম যাতে পাবলিক মনে করে যে আর কয়টা গান উনি কেন গাইলেন না।’ তবে কুমার বিশ্বজিৎ ও গাজী মাজহারুল আনোয়ার মনে করেন মেধা, পরিশ্রম ও কণ্ঠ দিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিমানে শেষ দিকে গানের জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। কিংবদন্তি এই সঙ্গীত শিল্পী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৯ সালের আজকের দিনে ঢাকার বারিধারায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


শাহনাজ বেগম ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের সবার কাছে তিনি ছিলেন আদরের শাহীন। তার পিতার নাম এম ফজলুল হক ও মাতার নাম আসিয়া হক। শাহনাজের ভাই আনোয়ার পারভেজ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এবং আরেক ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও গায়ক। দশ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করেন শাহনাজ বেগম। খেলাঘর থেকে শুরু করা এ শিল্পীর কণ্ঠ শিশুকাল থেকেই ছিল বেশ পরিণত। তিনি গান শিখেছিলেন গজল সম্রাট মেহেদী হাসানের কাছে।তিনি গান শিখেছেন গজল সম্রাট মেহেদী হাসানের কাছে। ছোটবেলাতেই তিনি শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। সেই থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত গান করেছেন। টেলিভিশনে গান গাইতে শুরু করেন ১৯৬৪ সাল থেকে। সত্তরের দশকে অনেক উর্দু গীত ও গজল গেয়েছেন। প্রখ্যাত গজলশিল্পী মেহেদী হাসানের কাছে তিনি গজল শিখেছেন। ১৯৬৩ সালে ১০ বছর বয়সে ‘নতুই সুর’ নামক চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে প্রথম টেলিভিশনে তার গাওয়া গান প্রচারিত হয়। তিনি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আলাউদ্দিন আলী, খান আতা প্রমুখের সুরে গান গেছেন। পাকিস্তানে থাকার সুবাদে করাচী টিভিসহ উর্দু ছবিতেও গান করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের মূহুর্তে শাহনাজ রহমতুল্লাহর কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিল ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি। এযাবত শাহনাজ রহমতুল্লাহর চারটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। অ্যালবামগুলো হল, বারটি বছর পরে, শুধু কি আমার ভুল।
চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠঃ গুনাই (১৯৬৬), ডাক বাবু (১৯৬৬), বেহুলা (১৯৬৬), নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৬), সাইফুল মুল্ক্ বদিউজ্জামাল (১৯৬৭), নয়নতারা (১৯৬৭), আনোয়ারা (১৯৬৭), রাখাল বন্ধু (১৯৬৮), সাত ভাই চম্পা (১৯৬৮), বাঁশরী (১৯৬৮), সুয়োরানী দুয়োরানী (১৯৬৮), পীচ ঢালা পথ (১৯৬৮), এতটুকু আশা (১৯৬৮), পরশমণি (১৯৬৮), মুক্তি (১৯৬৯), ভানুমতি (১৯৬৯), পাতালপুরীর রাজকন্যা (১৯৬৯), আলিঙ্গন (১৯৬৯), নীল আকাশের নীচে (১৯৬৯), বিজলী (১৯৭০), মধুমিলন (১৯৭০), আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী (১৯৭০), কত যে মিনতি (১৯৭০), রং বদলায় (১৯৭০), বিনিময় (১৯৭০), অধিকার (১৯৭০), স্মৃতিটুকু থাক (১৯৭১), জয় বাংলা (১৯৭২), গান গেয়ে পরিচয় (১৯৭২), বাহরাম বাদশাহ (১৯৭২), অশ্রু দিয়ে লেখা (১৯৭২), প্রতিশোধ (১৯৭২), ঘুড্ডি (১৯৮০), ছুটির ফাঁদে (১৯৯০)। সঙ্গীতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী (১৯৯০), একুশে পদক (১৯৯২), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু সম্মানায় ভূষিত হয়েছেন।


ব্যক্তিগত জীবনে শাহনাজ রহমতুল্লাহ ১৯৭৩ সালে আবুল বাশার রহমতুল্লাহর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক কন্যা ও এক পুত্র রয়েছে, তারা হলেন নাহিদ রহমতউল্লাহ এবং একেএম সায়েফ রহমতউল্লাহ। ২০১৯ সালের ২৩শে মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বারিধারায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। শিল্পী হিসেবে খুবই উঁচু মানের ছিল। তার কোনো তুলনাই হয় না। তার গানের স্টাইল, গলার আওয়াজ এত অসাধারণ যে, পাকিস্তানের লোকজনও পাগল হয়ে যেত তার গান শুনে। অনেক দিন থেকেই গান থেকে দূরে ছিল। তারপরও শাহনাজের ভক্তের সংখ্যা একটুও কমেনি। সবাই শাহনাজকে মনে রাখবে। আমি তো আমার গল্প বলেছি, খোলা জানালায় চেয়ে দেখছি, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায় তাকে আর দেখা যাবে না। যাই হোক, আল্লাহর ইচ্ছা।আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×