somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

করোনা ভাইরাস, তোমরা তোমার রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবেঃ ইতালির প্রধানমন্ত্রী সমাধান খুঁজেন আকাশে !!!

২৩ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সূরা আর রহমান। মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৫৫ তম সূরা। এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৭৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩। সূরা আর রহমান মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় জ্বীন ও মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, "অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?" এ আয়াতটি ৩১ বার রয়েছে। আল্লাহ এই সূরায় তাঁর বিভিন্ন প্রকার নিয়ামত ও অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রত্যেক নিয়ামত বা কয়েকটি নিয়ামত উল্লেখ করার পর মানব-দানবকে এ কথা জিজ্ঞাসা করেছেন। এমন কি হাশরের মাঠের ভয়াবহতা এবং জাহান্নামের শাস্তির কথা উল্লেখ করার পরও এই জিজ্ঞাসার পুনরাবৃত্তি করেছেন। যার অর্থ এই যে, পরকাল সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়াও অতি বড় নিয়ামত। যাতে পরকালের শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে আগ্রহীরা তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা করে। আমরা নিজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো আমরা কি ছিলাম ? প্রথমে এই বিষয়ে চিন্তা করলেই দেখবো যে, আমরা এক ফোটা নাপাক পানি ছিলাম, তারপর সেটা মায়ের রেহেমে ছিল ক্রমান্বয়ে প্রতি ৪০ দিন অন্তর-অন্তর স্তর পরিবর্তন হয়। সেটা প্রথমে জমাটবদ্ধ রক্তে পরিণত হয়ে এরপরেই গোস্ত পিন্ড, তারপর অস্থি,এরপর গোশত দিয়ে সেই অস্থিকে আবৃত করেছেন। মায়ের রেহেমে দশ মাস দশ দিন এ অবস্থায় ছিলাম , মহান মালিক খাছ অনুগ্রহ করে আমাদেরকে পূর্ণ মানবাকৃতির রূপ দান করেছেন। এরপর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা দুনিয়াতে আগমন করলাম। এটাও একটি অশেষ নেয়ামত,ধারাবাহিকভাবে শৈশব থেকে কৈশোরে উপনীত হই। তখন ঐ উপলব্ধি করা যায় যে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে কি ধরনের অনুগ্রহ করেছেন । আমাদের মানবদেহকে আল্লাহ উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। যদি আমরা দেহের প্রতি লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাব অসংখ্য নেয়ামত বিদ্যমান। আমাদের মানবদেহে অবস্থিত সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করে শেষ করা যাবে না। জ্বিনরাও মানুষদের মত আল্লাহর একটি সৃষ্টি। বরং মানুষের পর জ্বিনরাই হল দ্বিতীয় এমন সৃষ্টি, যাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি দানে ধন্য করা হয়েছে। আর এর বিনিময়ে তাদের নিকট কেবল এতটুকু চাওয়া হয়েছে যে, তারা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে। তাঁর সাথে যেন অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন না করে।


কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব যদি তার আসল মালিককে ভুলে যায় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে, নেয়ামতের শুকরিয়া না করে তার নাফরমানি করে বা অবাধ্য হয় তাহলে তার মালিক তার প্রতি শুধু অসন্তুষ্টই হন না, বরং তাকে শাস্তি দিতে বাধ্য হন। তখন তার উপর বালা মুসিবত বা গজব আসে। ইসলামের ভাষ্যমতে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, বেপরোয়া হয়ে ওঠে তখনই আল্লাহর গজব নেমে আসে শান্তির পৃথিবীতে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘ভূমিতে ও পানিতে সব জায়গায়, লোকজন কুকাজে অশান্তি ছড়ায়, যেরূপ কাজ তারা করে থাকে, আল্লাহ চান তার শাস্তি দিতে…….” (সূরা: রূম, আয়াত: ৪১)। দুর্ভিক্ষ, মহানাদ, শীলাবৃষ্টি, মহামারী, পানিতে নিমজ্জন, অগ্নিকান্ড, বন্যা, এডিস মশা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, করোনা ভাইরাস এসব হচ্ছে আল্লাহর গজবের অন্তর্ভুক্ত। এসব আল্লাহর গজব আসে মানুষের লাগামহীন পাপের কারণে। আ’দ, সামুদ, লুত (আ.) এর সম্প্রদায়, শুয়াইব (আ.) এর সম্প্রদায় তাদের নবীদেরকে অস্বীকার করায় এবং লাগামহীন পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহপাক তাদেরকে গজব দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন। (সূরা : শু’আরা, আয়াত : ১০৫-২০৯)
গজবের দ্বারা পাপীদের ধ্বংসের কথা পবিত্র কুরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। ব্যক্তিগত, সামাজিকভাবে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অপকর্ম করার কারণে পূর্ববর্তী জাতিকে যে গজব দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে‘এবং আমি সংহার করেছিলাম কারুন, ফিরাউন ও হামামকে। মুসা সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের নিকট এসেছিলো। তখন তারা দেশে দম্ভ করতো। কিন্তু তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি। তাদের প্রত্যেকেই তার অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছিলাম। তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড ঝটিকা, তাদের কাউকে আঘাত করেছিলো মহানাদ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছিলাম ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের কারো প্রতি জুলুম করেননি। তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিলো’। (সূরা : আনকাবুত, আয়াত : ৩৯-৪০) পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে ‘তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন’। (সূরা : শূরা, আয়াত : ৩০) অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে ‘যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের উপর বিপদ-আপদ আসে (মানুষের ব্যক্তিগত বা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কর্মদোষে সাধারণত বিপদ-আপদ ঘটে) তখন মানুষ হয়ে পড়ে অকৃতজ্ঞ’। (সূরা : শূরা, আয়াত : ৪৮) পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে‘কল্যাণ যা তোমার হয় তা আল্লাহর নিকট হতে এবং অকল্যাণ যা তোমাদের হয় তো তোমার নিজের কারণে’। (সূরা : নিসা, আয়াত : ৭৯)
তবে আল্লাহ তাআলা যেহেতু অতিশয় মেহেরবান ও দয়াময়, তাই তিনি তাত্ক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করেন না। তিনি অবকাশ দেন, বারবার সুযোগ দেন। তা ছাড়া আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ}আল্লাহ তাআলার কাছে এ দোয়া করেছিলেন যে তাঁর উম্মতকে যেন আগেকার উম্মতের মতো শাস্তি তথা মানবাকৃতিকে বানর, শূকর ইত্যাদির আকৃতিতে রূপান্তর, পাথরের বৃষ্টি, ভূমি উল্টিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট করা না হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে বহু রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর (রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে) তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-শোক দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনীত হয়।’ (সূরা: আনআম, আয়াত: ৪২)।
কাজেই যে কোনো বিপদে বান্দা আল্লাহ-মুখী হবে। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে, আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আমার রব এটাই চান। তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা, পাপ থেকে ফিরে আসা।
আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার কিছু কারণঃ


পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেলে
মানুষ পাপ করতে করতে যখন পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়। পাপিষ্ঠ ফেরাউনকে আল্লাহ তাআলা তখনই ধরেছেন, যখন সে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘হে মুসা! তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে অত্যন্ত উদ্ধত হয়ে গেছে।’ (সুরা ত্বাহা : ২৪)
নমরুদকে আল্লাহ তাআলা তখনই শাস্তি দিয়েছেন, যখন সে নিজেকে প্রভু বলে দাবি করেছে। অনুরূপভাবে আদ, সামুদ প্রভৃতি জাতিকে তাদের সীমাহীন পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বনি ইসরাইলরা আল্লাহর কিতাব তাওরাতকে অস্বীকার, উত্তম জিনিস তথা মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে খারাপ জিনিস তথা ভূমির উৎপন্ন জিনিস চাওয়া, আমালেকা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আল্লাহর অগণিত নিয়ামত ভোগ করেও অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে চির লাঞ্ছনা ও আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে। আগের নবীদের এসব কাহিনী পবিত্র কোরআনে আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে যদি উম্মতে মুহাম্মদী (সাঃ)ও তাদের মতো পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ হবে এবং একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।

বিধর্মী কার্যকলাপের ফলে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন সরকারি মালকে নিজের মাল মনে করা হয়, আমানতের মালকে নিজের মালের মতো ব্যবহার করা হয়, জাকাতকে জরিমানা মনে করা হয়, ইসলামী আকিদাবর্জিত বিদ্যা শিক্ষা করা হয়, পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, বন্ধুদের আপন মনে করা হয়, বাবাকে পর ভাবা হয়, মসজিদে শোরগোল করা হয়, পাপী লোক গোত্রের নেতা হয়, অসৎ ও নিকৃষ্ট লোক জাতির চালক হয়, ক্ষতির ভয়ে কোনো লোককে সম্মান করা হয়, গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন অধিক হয়, মদ্য পানের আধিক্য ঘটে, পরবর্তী সময় লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের বদনাম করে—তখন যেন তারা অপেক্ষা করে লু হাওয়া (গরম বাতাস), ভূমিকম্প, ভূমিধস, মানব আকৃতি বিকৃতি, শিলাবৃষ্টি, রক্তবৃষ্টি ইত্যাদি কঠিন আজাবের, যা একটার পর আরেকটা আসতে থাকবে, যেমন হারের সুতা ছিঁড়ে গেলে মুক্তার দানাগুলো একটার পর একটা পড়তে থাকে। (তিরমিজি)

ব্যভিচার, মাপে কম দেওয়া ইত্যাদি অপকর্মের ফলে
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘পাঁচটি মন্দ কাজ এমন আছে, যদি তোমরা তাতে জড়িয়ে পড়ো বা তা তোমাদের মধ্যে বাসা বাঁধে, তবে খুবই খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন এ পাঁচটি মন্দ কাজ তোমাদের মধ্যে জন্ম না নেয়।’
ক. ব্যভিচার যদি কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের মধ্যে এমন এমন রোগ দেখা দেবে, যা আগে ছিল না।
খ. ‘মাপে কম দেওয়া।’ এ মন্দ কাজ যদি কোনো জাতির মধ্যে জন্ম নেয়, তবে তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং তারা অত্যাচারী শাসকের শিকারে পরিণত হয়।
গ. ‘জাকাত’ না দেওয়া। এ মন্দ কাজ যাদের মধ্যে দেখা দেয়, তাদের ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। যদি সে অঞ্চলে পশু বা পাখি না থাকত, তবে আদৌ বৃষ্টি হতো না।
ঘ. আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। এ মন্দ কাজ যখন সমাজে দেখা দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অমুসলিমদের আধিপত্য চাপিয়ে দেন। আধিপত্যবাদীরা তখন মুসলমানদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়।
ঙ. ‘কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালানো।’ যদি মুসলমান শাসকরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালায়, তবে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজে ভাঙন সৃষ্টি করে দেন। তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে সন্ত্রাস ও খুন-খারাবি শুরু হয়ে যায়।’ (বায়হাকি, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০১৯)
হজরত ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বীনের কার্যকলাপে শৈথিল্য প্রদর্শন করা হলে সেই সম্প্রদায়ের লোকদের অন্তরে ভয়-ভীতি ঢেলে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে জিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক মাপে কম দিলে তাদের রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করা হলে সে গোত্রে রক্তপাত বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তাদের মধ্যে শত্রুতা প্রবল করে দেওয়া হয়। (মুয়াত্তা মালেক, মিশকাত : পৃ. ৪৫৯)

অন্যায় কাজে বাধা না দেওয়ার ফলে
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা দেওয়া ফরজ। মুমিন এ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না। হজরত হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তাঁর শপথ! তোমরা অবশ্যই ন্যায় কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখবে। অন্যথায় আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর আজাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমাদের পরিত্যাগ করা হবে এবং তোমাদের দোয়াও কবুল করা হবে না।’ (তিরমিজি)

অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে
অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। কথিত আছে, হজরত আদম (আ.)-এর পুত্র কাবিল যেদিন হাবিলকে হত্যা করে, সেদিনই পৃথিবীতে প্রথম ভূমিকম্প হয়। কেননা অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে সদা সেখানে অবস্থান করবে।’ (সুরা নিসা : ৯৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে দূরে থাকবে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন—ইয়া রাসুলুল্লাহ! বিষয়গুলো কী কী? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন : ১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। ২. জাদুটোনা করা। ৩. যথাযথ কারণ বাদে কাউকে হত্যা করা, যা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। ৪. সুদ খাওয়া। ৫. এতিমের সম্পদ গ্রাস করা। ৬. রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা। ৭. মুসলিম সরলা নির্দোষ মহিলাদের নামে ব্যভিচারের দুর্নাম রটনা করা। (মিশকাত, প্রথম খণ্ড, বাবুল কাবাইর ওয়া আলামাতুন নিফাক, সহীহ বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, হাদিস নম্বর : ২৭৬৬)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) মহানবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ কোনো অমুসলিমকে হত্যা করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৬৮৬, সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ২৫)

দুনিয়াপ্রীতি বৃদ্ধি পেলে
মুমিন দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে অধিক ভালোবাসে। সাহাবায়ে কিরাম দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতেন এবং দ্বীনের জন্য মরণকে বেশি পছন্দ করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের ওপর এমন দুঃসময় আসবে, যখন অন্যান্য জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে যেন ক্ষুুধার্ত মানুষ খাদ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক হয়েও বন্যার ফেনার মতো ভেসে যাবে। দুশমনদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়ভীতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি উঠে যাবে। তোমাদের অন্তরে ওহান (কাপুরুষতা) সৃষ্টি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ওহান কী? রাসুল (সা.) বললেন, দুনিয়ার মহব্বত ও মৃত্যুর ভয়। (আবু দাউদ) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি বিষয় ক্ষতিকর : ক. চোখ নষ্ট হওয়া, খ. কলব শক্ত হওয়া, গ. দীর্ঘ আশা করা ও ঘ. পার্থিব লোভ।

ধনীরা কৃপণ হলে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মধ্যে উত্তম লোকরা তোমাদের নেতা (রাষ্ট্রপ্রধান) হয়, ধনীরা দানশীল হয় এবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়, তখন তোমাদের জন্য জমিনের নিম্নভাগ থেকে জমিনের উপরিভাগ উত্তম। আর যখন তোমাদের মধ্যে ধনী লোকরা কৃপণ হয়, কার্যাবলি মহিলাদের নির্দেশমতো চলে, তখন তোমাদের জন্য জমিনের উপরিভাগ থেকে জমিনের নিম্নভাগ উত্তম।’ (তিরমিজি, পৃষ্ঠা : ৪৫৯)


উপসংহারঃ
বিপদাপদ, অসুখ বিসুখ আল্লাহর অনুমতিতেই হয়। মানুষ চক্রান্ত করুক, আর যাই করুক, জগতের সবকিছু আল্লাহর অনুমতিতে ঘটে।
এভাবে আল্লাহ তায়ালা কাউকে পরীক্ষা করেন, কাউকে আজাব দেন। মহামারি তেমনই একটি বিষয়। করোনা ভাইরাস, এটিও একটি মহামারি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যখন কোনো জাতির ওপর আজাব আসে, তখন শুধু পাপীরাই এতে আক্রান্ত হয় না। বরং মহামারি শুরু হলে নেক বান্দারাও আক্রান্ত হয়। দ্বীনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা, নেক কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাঁধা প্রদান করা ছেড়ে দেয়ার কারণে এই আজাব আসে। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমূহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবান কেন হয়নি, যারা জমিনে ফাসাদ করা থেকে নিষেধ করত? এমন লোক কমই ছিল, তাদের আমি বাঁচিয়ে নিয়েছিলাম। জালিমরা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল এবং তারা ছিল অপরাধী।’ (সূরা: হুদ, আয়াত: ১১৬)।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগের লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ, ৪০১৯)। বিশ্ব বর্তমানে পাপ ও পতনের চরমে পৌঁছেও মানব সভ্যতা প্রতি মুহূর্তে নানান বিপর্যয়ের মুখোমুখী। এইডস, ডেঙ্গু, ইবোলা, নিপা, জিকা, করোনা, কতো নাম-জাতের রোগেই না আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
মহামারি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি আল্লাহর গজব বা শাস্তি, বনি ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারি। অতএব, কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১০৬৫)। তাই আমাদের উচিত, যেখানে এ ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা দেবে, সেখানে যাতায়াত থেকে বিরত থাকা।
মহামারি আল্লাহর গজব হলেও এতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপী-জাহান্নামি মনে করা যাবে না। রাসূল (সা.) এর ভাষায় মহামারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিও শহিদ। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহিদ- মহামারিতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহিদ হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)।অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, মহামারিতে মৃত্যু হওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৩০)।

একথা সবার জানা যে ইতালীএখন লাশের শহর। বাতাসে শুধু লাশের গন্ধ। উৎসবপ্রিয় ইতালিয়ানরা আজ নিজেদের অবরুদ্ধ রেখেছেন যার যার ঘরে। আর লাশের সারি এতোই দীর্ঘ যে লাশ সমাহিত করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবেই প্রতিদিন শত শত লাশ বের করতে হচ্ছে ইতালির ডাক্তারদের। কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ইতালি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী কণ্টির কণ্ঠে তাই হতাশা ও ভেঙ্গে পড়ার সুর।
জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি বলেছেন, 'আমরা মহামারীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারা গেছি। আর কী করতে হবে তা আমরা জানি না। পৃথিবীর সমস্ত সমাধান শেষ হয়ে গেছে। একমাত্র সমাধান আকাশের কাছে।'
তাঁর এ ভাষণ বিশ্বের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। স্তব্দ হয়ে গেছে পুরো বিশ্ব। করোনাভাইরাসে মৃত্যুর নীরিখে চীনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ইতালি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯৩ জন মারা গিয়েছেন। করোনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এত মত্যু, বিশ্বের আর কোনো দেশে হয়নি। করোনাভাইরাসে ইতালির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে লোম্বারদিয়া অঞ্চল।


ইতালির প্রধানমন্ত্রী কণ্টির হতাশায় কিসের আভাস? করোনা গজব না আশির্বাদ!!
, রোগ-মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির দুটি রূপ রয়েছে। হযরত ইমাম গাযযালী বলেন, ‘যে বিপদ মানুষকে আল্লাহমুখী করে, সেটি তার জন্য রহমত। আর যে বিপদে মানুষ আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায় কিংবা আল্লাহ থেকে উদাস ও বেভুল অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, এটি তার জন্য গজব।’ দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও এমন বিপদ, রোগ-মহামারি এসেছে। হযরত ওমর (রা.)-এর যুগে ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার মহামারিতে গভর্নর আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ শাহাদতবরণ করেন। সাহাবী মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-ও প্লেগ মহামারিতে শহীদ হন। অনেক সাহাবী ও পরবর্তীতে বহু ওলী-আউলিয়া এসবে শাহাদতবরণ করেছেন। তাহলে বিপদকে এককথায় গজব বলা উচিত হবে না। এখানে একই সমস্যা ঈমান ও জীবনবোধের আলোকে দুটি রূপ নিয়ে ধরা দেয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে মহামারিতে মৃত্যুবরণকারীরা শহীদ।’ নবী করিম (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহামারির সময় ধৈর্য্য সহকারে, সওয়াবের আশায় নিজেকে ঘরে রুদ্ধ রাখে, এ ধারণা নিয়ে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন এর বাইরে কোনো কিছুই ঘটবে না। সে ব্যক্তিও শহীদের সাওয়াব পাবে।’ মহামারিতে তার মৃত্যু হোক বা নাই হোক। ফতহুল বারী, শরহে বুখারী ১৯৪/১০।

হাদিসের আলোকে করোনা থেকে বাঁচতে আমল ও করণীয়
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে
‘বিসমিল্লা-হিল্লাজী লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামী‘উল আলীম’,
অর্থাৎ: ‘আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী’;
সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮৮)।

এছাড়া নবীজি (সা.) মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়তে বলেছেন,
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া সাইয়ি ইল আসক্কাম’।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।’ (আবু দাউদ, ১৫৫৪, সহীহ)।
বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করুন
আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে বহু রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর (রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে) তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-শোক দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনীত হয়।’ (সূরা: আনআম, আয়াত: ৪২)।
কাজেই যে কোনো বিপদে বান্দা আল্লাহ-মুখী হবে। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে, আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আমার রব এটাই চান। তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা, পাপ থেকে ফিরে আসা।
নিজ এলাকায় থাকুন
বেশির ভাগ মহামারিই সংক্রামক। তাই নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান করলে সে জায়গা থেকে বের হয়ে যেয়ো না। তদ্রূপ অন্য কোনো এলাকায় মহামারি দেখা দিলে, আর সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সেখানে যেয়ো না।’ (তিরমিযী, ১০৬৫)।
অর্থাৎ মহামারিতে আক্রান্ত এলাকার মানুষ সেখানে অবস্থান করবে, বের হবে না। আর বাহিরের মানুষ সেখানে প্রবেশ করবে না। প্রত্যেকেই আপন আপন ভূমিতে থাকবে।
যদি কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তা হলে এর প্রতিদান কী?
নবীজি (সা.) বলেন, অতএব, প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে এবং এ বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না; তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহিদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব।’ (সহিহ বুখারী, ৫৭৩৪)।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ঈমানের অঙ্গ। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, الطَّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ ‘পবিত্র ঈমানের অংশ।’ হাত সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। বাহিরে বের হলে মুখে বা নাকে হাত দেবেন না। বাসায় ফিরে হাত ধৌত করে খাবার স্পর্শ করবেন। রাস্তার পশু-পাখি ধরা থেকে বিরত থাকুন।


মুখ ঢেকে হাঁচি দিন
আল্লাহর রাসূল যখন হাঁচি দিতেন, হাত দিয়ে অথবা এক টুকরো কাপড় দিয়ে মুখ চেপে ধরতেন। (তিরমিযী)। এই ছোট্ট কাজটি যদি আমরা সচেতনভাবে পালন করি, তাহলে ধ্বংসাত্মক অনেক সংক্রামক ভাইরাসই প্রতিহত করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ!। বাংলাদেশে সার্বিক প্রস্তুতি দুর্বল। অবশ্য, দ্রুত সিরিয়াস হলে প্রতিরোধ, চিকিৎসা, সচেতনতা সবই করা সম্ভব। এখানে লোকচুরি কিংবা কূটকৌশলের আশ্রয় না নিয়ে পরিস্থিতি সবাইকে নিয়ে সামাল দেয়া দরকার। গোপন রাখলে বিপদ কমবে না। সর্বস্তরে তওবা, ইস্তেগফার করতে হবে। অন্যায়, দুর্নীতি ও হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে। এই মুসিবতকে উপলব্ধি না করে বড় বড় কথা, পাল্টা চ্যালেঞ্জ কিংবা ঈমান বিধ্বংসী ফালতু কথাবার্তা কমাতে হবে। দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে শেষ বিচারের দিন মহান আল্লাহর দরবারে জবাব দেয়ার চিন্তাটি এখনই তাজা করার মোক্ষম সময়। সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্যই হয়তো আল্লাহ এই বিপদটি আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যাদের হাতে দেশের সব টাকা জমা হয়েছে, তারা জনগণের সেবা করার এই সুযোগটি হেলায় হারাবেন না। আল্লাহ আমাদের নাজাত দান করুন আর নিরাপদ রাখুন। আমিন।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৩৯
১৯টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×