somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

ব্রিটিশ রাজসভার রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের ২৫০তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

০৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইংরেজ সাহিত্যের অন্যতাম ব্রিটিশ রাজসভার রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং স্যামুয়েল টেলর কলরিজ উভয়ে মিলে ইংরেজি সাহিত্যে একটি রোমান্টিক ধারার সূত্রপাত করেন। কোলরিজের আন্তরিক সহযোগিতায় ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত হয় দুজনের যৌথ কাব্য ‘লিরিক্যাল বালাডস’ যা সমগ্র বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কবিতার জগতে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে। অতীতের সব ধারা ছাপিয়ে সূচনা ঘটে রোমান্টিক যুগের। মূলত ইংরেজি সাহিত্যে রোমান্টিক ধারার প্রবর্তক হলেও উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ প্রকৃতির কবি হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিত। প্রকৃতির তুচ্ছ ও সাদামাটা বিষয়-আশয়কে অসাধরণ মহিমায় সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ইংরেজ সাহিত্যে যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ। ১৭৮৭ সালে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ। ‘দি ইউরোপিয়ান’ ম্যাগাজিনে তার প্রথম সনেট প্রকাশিত হয়। এ সময় তিনি ক্যামব্রিজের সেন্ট জনস কলেজে পড়ালেখা করতেন। তার বেশিরভাগ কবিতার মধ্যে পাওয়া যায় সৃষ্টিজগতের সূক্ষ্ম জীবনবোধ, মানবতার জয়গান এবং প্রেম ও প্রকৃতি নিঃসর্গের নিগূঢ়তম রহস্যময় উপাদান। একজন দক্ষ সমালোচক হিসেবেও ইংরেজি সাহিত্যে তার অবস্থান ছিল বেশ শক্ত। পরিণত বয়সে এসে কাব্য সাধনায় মত্ত হন বলেই হয়তো লেখালেখির সূচনালগ্ন থেকে সাফল্যের সুঘ্রাণ পেতে শুরু করেন ইংরেজি কবিতার বাঁক বদলের এই শক্তিমান পুরুষ। পাহাড়ে ঘেরা ওয়াই নদীর সবুজ উপত্যকা। বলা হতো ‘গেট অফ ওয়েলস’। প্রকৃতির হাতে গড়া এই জলছবির টানে বারবারই সেখানে ছুটে যেতেন উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ থেকে স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের মতো কবিরা। আর জন্ম নিত একের পর এক ‘মাস্টারপিস’! আজ রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী। ১৭৭০ সালের আজকের দিনে তিনি যুক্তরাজ্যের কাম্বারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ রাজসভার রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ১৭৭০ সালের ৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় নিচু হ্রদ এলাকার শহর ককারমাউথে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জন ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও মাতা অ্যান ক্রুকসান। এই দম্পতির পাঁচটি সন্তানের মধ্যে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছিলেন দ্বিতীয়। ওয়ার্ডসওয়ার্থ বাবার কাছে মিলটন, শেক্সপিয়র ও স্পেনসারের কবিতা শিখতেন। ককারমাউথে পড়ালেখা করলেও নানাবাড়ি কাম্বারল্যান্ডের পেনরিলেও তিনি মাঝে-মধ্যে থাকতেন। ১৭৭৮ সালে মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ার্ডসওয়ার্থকে হকসহেড গ্রামার স্কুলে পাঠিয়ে দেন তার বাবা। ১৭৯১ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৭৯১ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ফরাসি বিপ্লবের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন ওয়ার্ডসওয়ার্থ। মূলত ফরাসি বিপ্লবের ‘সাম্য ও মৈত্রী’ আদর্শের বাক্য শুনে এবং তারুণ্যের প্রবাহে বিপ্লবের প্রতি উৎসাহী হয়ে পড়েন তিনি। ছুটে যান ফ্রান্সে। তবে সে ঘোর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বয়স আটাশের কোটায় পা দেয়ার আগেই বিপ্লবের নীতি ও আদর্শের বিপথগামী অবস্থা দেখে দারুণভাবে মর্মাহত হন তিনি। বিশেষত ১৭৯২ সালের ‘সেপ্টেম্বর ম্যাসাকার’ ঘটনায় পিচাশপ্রতীম উল্লাসে মানুষ হত্যা এবং অমানবিক ধ্বংসলীলার প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে তার চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবতর্ন আসে। তিনি ফিরে আসেন ইংল্যান্ডে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে। এখানে এসে দারুণ আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। এ সময়ে রাইজল কার্লভার্ট নামে তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু অর্থের জোগান দিতে শুরু করেন এবং কাব্যসাধনায় মগ্ন হওয়ার জোর পরামর্শ দেন। পাশে দাঁড়ান বোন ডোরেথি। বোনের অনুপ্রেরণা ও সেবাযত্নের পাশাপাশি বন্ধু রাইজলের আর্থিক সহযোগিতায় ওয়ার্ডসওয়ার্থের কাব্যতরী ধীরালয়ে ভাসতে ভাসতে একদিন তা প্রবলভাবে ছুটতে শুরু করে। অল্পদিনের মধ্যেই পরিচয় হয়ে যায় ইংরেজি সাহিত্যের আরেক দিকপাল, তারুণ্যের কবি স্যামুয়েল ট্রেইলর কোলরিজের সঙ্গে। গবেষকদের মতে, ওয়ার্ডসওয়ার্থ টিনটার্ন অ্যাবে এবং স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ দ্য অ্যানসিয়েন্ট ম্যারিনার কবিতা লেখার পর যদি চিরতরে দুজন কবিতার পথ থেকে সরেও দাঁড়াতেন, তারপরও বিশ্বসাহিত্যে তারা অমর ও অক্ষয় আসনটিতেই অধিষ্ঠিত থাকতেন। কাকতালীয়ভাবে হলেও এটাই ধ্রুবসত্য, টিনটার্ন অ্যাবে এবং দ্য অ্যানসিয়েন্ট ম্যারিনার শিরোনামের বিশ্বকাঁপানো এই দুটি কবিতাই ঠাঁই পেয়েছিল লিরিক্যাল বালাডস গ্রন্থে। তারপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছেঃ ‘অ্যান ইভিনিং ওয়াক’, ‘ডেসক্রিপটিভ্ স্কেচেজ’, ‘দ্য বর্ডারার্স’, ‘দ্য হোয়াইট ডু অব রাইলস্টোন’, ‘পয়েমস’, ‘দি এক্সকারশন’, ‘এক্লেজিয়াসটিক্যাল সনেটস’ ও ‘ইয়ারো রিভিজিটেড’। ১৮৩৮ সালে কবি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল আইনে ডক্টরেট করেন। পরের বছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেয়।


(স্ত্রী মেরি হাচিসটন ও কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ)
ব্যক্তিগত জীবনে ১৭৯১ সালে নভেম্বরে ফ্রান্সে ভ্রমণের সময় তিনি অ্যানেট ভেলন নামে এক ফরাসি নারীর প্রেমে পড়েন উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ। ১৭৯২ সালে ভেলন একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন যদিও ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও ভেলন কোনো প্রকার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি। আর্থিক সংকট ও ব্রিটেনের সঙ্গে ফ্রান্সের বিরূপ সর্ম্পকের কারণে ওয়ার্ডসওয়ার্থ পরবর্তী বছরে ভেলনকে ছাড়াই ইংল্যান্ডে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ওয়ার্ডসওয়ার্থ তার জীবনে ভেলন ও তার কন্যা সন্তান ফেরলিনকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করে গেছেন। ১৮০২ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ তার বাল্যকালের বান্ধবী মেরি হাচিসটনকে বিয়ে করেন। তার পরের বছর মেরি প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। ১৮৪৭ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তার কন্যা ডোরার অকাল মৃত্যুর পর, ওয়ার্ডসওয়ার্থ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। তারপর তিনি আর কখনও হাতে কলম নেননি। ১৮৫০ সালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর কয়েক মাস পর স্ত্রী মেরি তার দীর্ঘ আত্মজীবনীমূলক কবিতা দ্য প্রিলিউড প্রকাশ করেন। যদিও তার সাহিত্যজীবনের এই মাস্টারপিসটি মানুষকে অত বেশি আকর্ষণ করেনি।১৮৪৭ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তার কন্যা ডোরার অকাল মৃত্যুর পর, ওয়ার্ডসওয়ার্থ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। তারপর তিনি আর কখনও হাতে কলম নেননি। ১৮৫০ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি যুক্তরাজ্যের কম্বারল্যান্ডে মৃত্যিুবণ করেন। তার মৃত্যুর কয়েক মাস পর স্ত্রী মেরি তার দীর্ঘ আত্মজীবনীমূলক কবিতা দ্য প্রিলিউড প্রকাশ করেন। যদিও তার সাহিত্যজীবনের এই মাস্টারপিসটি মানুষকে অত বেশি আকর্ষণ করেনি। আজ রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী। ব্রিটিশ রাজসভার রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×