somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঊনবিংশ শতাব্দীর মধুসূদনের পরবর্তী কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা মহাকাব্যের ধারায় হেমচন্দ্রের বিশেষ দান হচ্ছে স্বদেশ প্রেমের উত্তেজনা সঞ্চার। কবি হেমচন্দ্র বঙ্গদেশীয়দের কানে নব ভারত সঙ্গীত ধ্বনিত করলেন। তাঁর খ্যাতি ছিলো গগণস্পশী। বঙ্কিমচন্দ্র তার রচনার অনুরাগী ছিলেন এবং কিশোর রবীন্দ্রনাথের রচনায় পড়েছিলো তার ছায়া। হেমচন্দ্র পাঠকের সামনে খুলে দিলেন বঙ্গদর্শন গোষ্ঠী। মধুসূদনকে জাতীয় কবি হিসেবে তুলে ধরতে বঙ্গদর্শন প্রস্তুত। কবিওয়ালাদের শব্দালঙ্কার আর মিলের জগত পেছনে ফেলে অমিত্রাক্ষরে মধুসূদন নতুন ধ্বনিঝঙ্কার প্রবর্তন করলেন। আর সেই ছন্দ ও শব্দের জগতকে হেমচন্দ্র জাতীয়তাবাদের অঙ্গনে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। ১৯০৩ সালের আজকের দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করনে। আজ তার ১১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাজবল্লভহাট গ্রামের গুলিটায় এক কুলীনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হুগলীর উত্তরপাড়া গ্রামে। তার পিতা কৈলাসচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা আনন্দময়ী। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পিতা কৈলাসচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন অতিশয় দরিদ্র। কৌলীন্যের বলে কৈলাসচন্দ্র গুলিটা, রাজবল্লভহাট গ্রাম নিবাসী কলকাতা আদালতের মোক্তার রাজচন্দ্র চক্রবর্তীর একমাত্র সন্তান আনন্দময়ীকে বিবাহ করে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কৈলাসচন্দ্র বিশেষ কোনও কাজকর্ম করতেন না বিধায় শ্বশুরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলেন। হেমচন্দ্র কলকাতার খিদিরপুর বাঙ্গালা স্কুলে পাঠকালে তার নানা রাজচন্দ্র চক্রবর্তীর মৃত্যু হলে আর্থিক সংকটে পড়ে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারী দয়াপরবশ হয়ে ১৮৫৩ সালে হেমচন্দ্রকে কলকাতার হিন্দু কলেজে সিনিয়র স্কুল বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন। এই স্কুল থেকে ১৮৫৫ সালে জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে মাসিক দশ টাকা বৃত্তি লাভ করেন। একই বছর কলকাতার ভবানীপুর নিবাসী কালীনাথ মুখোপাধ্যায়ের কন্যা কামিনী দেবীর সংগে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৮৫৭ সালে সিনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে দুই বছরের জন্য মাসিক পচিশ টাকা বৃত্তি লাভ করেন। ১৮৫৯ সালে চতুর্থ বার্ষিক শ্রেণিতে পাঠকালে বৃত্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে লেখাপড়া ত্যাগ করে মিলিটারি অডিট অফিসে কেরানী পদে চাকরি গ্রহণ করেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি এ পাশ করে আইনজীবীর পেশা গ্রহন করেন।


বিশিষ্ট বাঙালি কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্য চিন্তাতরঙ্গিনী ১৮৬১ প্রকাশিত হয়। ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয় বীরবাহু । এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছেঃ কবিতাবলী (১৮৭০), মহা কাব্য বৃত্রসংহার (১৯৭৫), আষাকানন (১৮৭৬), ছায়াময়ী ( ১৮৮০),। তাঁর রচিত "ভারত সঙ্গীত" কবিতাটি ঊনবিংশ শতকের জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম। তাঁর অনুবাদ গ্রন্থঃ রোমিও-জুলিয়েট। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই বিশিষ্ট কবি শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে যান। পরবর্তীতে ১৯০৩ সালের ২৪ মে কলকাতার খিদিরপুরে মুত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর। আজ কবির ১১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ২:২৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদীস সংগ্রাহক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬



হাদীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুসলমানদের জন্য।
যদিও দুষ্টলোকজন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাতে সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হয় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুড ওল্ড নাইন্টিজ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৭ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪২



আমরা গল্প করছিলাম সাত্তার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে। সাত্তার মিয়া জঘন্য চা বানায়। আমার বন্ধু সোবহানের মতে এই চা ঘোড়ার মুতের সমতূল্য। সাত্তার মিয়ার সামনেই এসব আলোচনা করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি নিয়ে আসলে রাজনীতি করেছে কারা, ছবির জন্য নামাজ পড়িয়েছে কারা

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৪



ছবি দেখুন। আমাদের যে ছবিটা দেখানোর জন্য এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে আমরা শুধু সেই ছবিটাই দেখেছি এবং অনেকে দ্বিদ্ধানিত আছি এই ভেবে যে হয়ত আসলেই শুকনা জায়গা ছিলোনা বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন কাটালাম এবারের ঈদ!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১৩

(পোস্টটা গতকালের লেখা)

গতকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর গত হয়ে গেল! মনের মাঝে আনন্দ বিষাদের বিচিত্র সব অনুভূতি খেলা করে চলছিল সেই সকাল থেকেই। এবারের রোযার মাসটা আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে খুব ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×