somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

সুরের জাদুকর সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক রাহুল দেব বর্মণের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

২৭ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পঞ্চাশের দশকে বলিউড মিউজিকের পুরোধা রাহুল দেব বর্মন। আর ডি বর্মনের আর একটি নাম পঞ্চমদা। হিন্দি চলচ্চিত্র জগৎ তাঁকে এই নামেও ডাকত। তবে নামটি দিয়েছিলেন অভিনেতা অশোক কুমার। সুরের সম্রাট শচীন দেব বর্মন এবং মীরা দেব বর্মনের হাত ধরেই সঙ্গীতের শিক্ষা শুরু আর ডির। সেদিন একবারের জন্যও কেউ ভাবেননি, একদিন নিজের বাবার সঙ্গে গানের দুনিয়ায় টক্কর লাগবে তাঁর। একমাত্র জানতেন সবার মাথার ওপরে বসে থাকা ওপরওয়ালা। সাতের দশকের শেষের দিকে আস্তে আস্তে যখন পড়ন্ত সূর্য বর্মন দাদা তখনই প্রাচ্য-পাশাত্যের সুরে গান বানিয়ে আসর মাত করেছিলেন শচীন কর্তার ছেলে পঞ্চম। যিনি জন্ম থেকেই নাকি পা বা সরগমের পঞ্চম সুর একবারে গলায় তুলেছিলেন বলে ডাক নাম হয়েছিল পঞ্চম। উস্তাদ আলি আকরব খাঁ ও আশিষ খানের যোগ্য শিষ্য ছিলেন তিনি। অসংখ্য জনপ্রিয় হিন্দি, বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক আরডি বর্মন। তিনি প্রথম কাজ করেন অভিনেতা মাহমুদ প্রযোজিত ‘ছোটে নবাব’ ছবিতে ১৯৬১ সালে। মিউজ়িক শিক্ষা পেয়েছিলেন প্রখ্যাত সারদ বাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান এবং তবলা বাদক শামতা প্রসাদের কাছে। মাউথ অরগান বাজাতে পারতেন পঞ্চম। ভারতে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইলেকট্রনিক অর্গানের সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের শ্রোতা ও দর্শককে পরিচয় করিয়েছিলেন। গানটি ছিল ও মেরে সোনা রে ।৩৩১টি ছবিতে মিউজ়িক কম্পোজ় করেছিলেন আর ডি বর্মন। এর মধ্যে ২৯২টি হিন্দি, ৩১টি বাংলা, ৩টি তেলেগু, ২টি তামিল, ২টি ওড়িয়া ও ১টি মারাঠি। সংগীত জীবনে আরডি বর্মনের জনপ্রিয় ছবি, ইয়াদো কি বারাত, গোলমাল, খুবসুরত, সনম তেরি কাসাম, ১৯৪২: আ লাভ স্টোরি, রকি, শোলে। শেষ কাজ করা সিনেমাটি হল ‘১৯৪২ আ লাভ স্টোরি’। আজ কিংবদন্তি শিল্পী আর ডি বর্মনের ৮১তম জন্মবার্ষিকী ৷ ১৯৩৯ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের কলতায় জন্মগ্রহণ করেন। কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক রাহুল দেব বর্মণের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


১৯৩৯ সালের ২৭ জুন ভারতের কলতায় জন্মগ্রহণ করেন রাহুল দেব বর্মণ। তার বাবা শচীন দেব বর্মণ একজন খ্যাতিমান সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন এবং মা মীরা দাসগুপ্ত ছিলেন গীতিকার। প্রাথমিকভাবে রাহুলের ডাকনাম টুবলু রাখা হয়েছিলো, এটা তার নানা রেখেছিলেন, পরে তার ডাকনাম পঞ্চম হয়ে ওঠে। কেউ কেউ বলে থাকেন সা রে গা মা পা এর 'পা' ধ্বনি দ্বারা রাহুল একদম ছোটোবেলায় ক্রন্দন করতেন তাই তার নাম সা রে গা মা পা এর পঞ্চম ধ্বনি অনুযায়ী পঞ্চম হয় বা 'প' অক্ষর থেকে পঞ্চম রাখা হয়। কেউ কেউ আবার এও বলেন যে অভিনেতা অশোক কুমার (১৯১১-২০০১) রাহুলের ডাকনাম পঞ্চম রেখেছিলেন। ছোট বেলা থেকে বাবা-মা শচীন দেব বর্মন ও মীরা দেব বর্মনের সুরের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা পঞ্চমের। ভালো তবলা বাজাতে পারতেন। মাত্র ন বছর বয়সে একটা সুর দিয়েছিলেন পঞ্চম। ছোট্ট পঞ্চমের দেওয়া সেই সুর ১৯৫৬ সালের ‘ফান্টুস’ ছবিতে ব্যবহার করেছিলেন শচীন দেববর্মন | সেই গান টি হল ‘আয়ি মেরি টোপি পালট কে আ’। আরেকটি গান সার জো তেরা চাক্রায়েও রাহুলের সুর করা ছিলো এবং এটিও শচীন ১৯৫৭ সালের চলচ্চিত্র পিয়াসাতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি প্রথম কাজ করেন অভিনেতা মাহমুদ প্রযোজিত ‘ছোটে নবাব’ ছবিতে ১৯৬১ সালে। মিউজক শিক্ষা পেয়েছিলেন প্রখ্যাত সারদ বাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান এবং তবলা বাদক শামতা প্রসাদের কাছে। খুব ভালো মাউথ অরগান বাজাতে পারতেন পঞ্চম। বাবার সহকারী হয়ে কাজ শিখেছেন, কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরীর কাছে রাহুল সঙ্গীতের ব্যাপারে অনেক কিছু শিখেছিলেন। রাহুল তার বাবা শচীনের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন এবং মাঝেমধ্যে শচীনের কোনো কোনো সঙ্গীতানুষ্ঠানে হারমোনিয়াম বাজাতেন তিনি। ১৯৬৬ সালের চলচ্চিত্র তিসরি মঞ্জিল ছিলো রাহুলের জীবনের প্রথম হিট চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। ১৯৬৮ সালের চলচ্চিত্র 'পড়োশন' এ তিনি কিশোর কুমারকে নিয়ে সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন। ৩৩১টি ছবিতে মিউজ়িক কম্পোজ় করেছিলেন আর ডি বর্মন। এর মধ্যে ২৯২টি হিন্দি, ৩১টি বাংলা, ৩টি তেলেগু, ২টি তামিল, ২টি ওড়িয়া ও ১টি মারাঠি। সংগীত জীবনে আরডি বর্মনের জনপ্রিয় ছবি, ‘তিসরি মঞ্জিল ‘ ,ইয়াদো কি বারাত, ‘কাটি পতঙ্গ’, ‘গোলমাল’, ‘খুবসুরত’,’কুদরত’ ‘শোলে’, ‘শান’, ‘সাগর’, ‘পরিন্দা’, সনম তেরি কাসাম’, ‘১৯৪২- আ লাভ স্টোরি’,। তার শেষ কাজ করা সিনেমাটি হল ‘১৯৪২ আ লাভ স্টোরি’।


ব্যক্তিগত জীবনে রাহুলের প্রথম স্ত্রী ছিলেন রিটা। রিটা প্যাটেল নাম্নী এই তরুণীর সঙ্গে রাহুলের দার্জিলিংএ পরিচয় হয়েছিলো। রিটা তার বান্ধবীদেরকে বাজী লাগিয়েছিলেন যে তিনি রাহুলের সঙ্গে ডেটিং এ যাবেন, হয়েওছিলো তাই, রাহুল রিটাকে ১৯৬৬ সালে বিয়ে করেন। মাত্র ৫ বছর স্থায়ী হয়েছিল সেই দাম্পত্য। রাহুলের সঙ্গে রিটার ১৯৭১ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং রাহুল শোকে মুষড়ে পড়েছিলেন। রাহুল 'মুসাফির হুঁ ইয়ারো' গানটির সুর রিটার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেই করেন, কিশোর কুমারকে দিয়ে গাওয়ানো গানটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিলো, গানটি ১৯৭২ সালের চলচ্চিত্র 'পরিচয়' এর জন্য ছিলো। এরপর দীর্ঘ ৯ বছর পর ১৯৮০ সালে গায়িকা আশা ভোঁসলেকে বিয়ে করেন রাহুলদেব। ১৯৬০ সালে গণপত রাওয়ার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আশা নিজের কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে থাকেন। দুজনের পরিচয় দীর্ঘদিনের। গানের মধ্যে দিয়েই তৈরি হয়ে যায় পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। আর ডি বর্মনের প্রেমের প্রস্তাবে আশা ভোসলে প্রথমে সেভাবে না এগোলেও, পরের দিকে প্রেমে পড়ে বিয়েও করেন দুজনে। পরবর্তীকালে তাঁদের বিয়ে হলেও তাঁদের সাংসারিক জীবন খুব একটা সুখের হয়নি বলে জানা যায়। স্বামীর প্রতি অনুযোগ ছিল আশার। পঞ্ছম সব সব ভাল ভাল প্রেমের গান দিয়ে দেন দিদি লতাকে, আর আশার জন্য থাকত ক্যাবারে, জ্যাজ প্রধান সব গান। এই নিয়ে বাকবিতণ্ডাও কম হয়নি দুজনের। পরবর্তীকালে আশা নিজেই জানিয়েছেন একাধিক সাক্ষাত্‍কারে| তবে আশা ভোসলে-রাহুল দেববর্মণ জুটি আমাদের উপহার দিয়েছেন কালজয়ী সব গান। আশা রাহুলের চেয়ে ছয় বছরের বড় ছিলেন।তিনি আজীবন রাহুলকে মূলত বন্ধু মানতেন। ১৪ বছর সুর নিয়ে, গান নিয়ে একসঙ্গে ঘর করার পর ১৯৯৪-এর ৪ জানুয়ারি সুরলোকের পাকাপাকি বাসিন্দা হলেন পঞ্চম। আশাকে ছাড়াই। রাহুল মারা গেলে আশা কিছুটা শোক প্রকাশ করেন। আর ডি বর্মন বৈষয়িক দিকে সম্পূর্ণ উদাসীন। তিনি ছিলেন দিলদার। নিজের মিউজিশিয়নদের অসম্ভব ভালো বাসতেন আর সন্মান করতেন। তাঁর সুরে গান কিশোর কুমার থেকে অমিত কুমার, মান্না দে, মহম্মদ রফি, ভুপিন্দর সিং, শৈলেন্দ্র সিং প্রমুখ। কিশোর কুমার এর গলায় সব থেকে বেশি গান রয়েছে তাঁর সুর করা। কিশোর কুমারকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন আর ডি। আর ডি বর্মন এমন একটি নাম, যাকে নিয়ে লিখতে বসলে পাতার পর পাতা লিখলেও শেষ করা যায় না। ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাবইতে মৃত্যুবরণ করেন আরডি বর্মণ। মৃত্যুর পর রাহুল দেব বর্মণের জনপ্রিয়তা তো কমেইনি, বরং বেড়েছে তার প্রাসঙ্গিকতা। আজ কিংবদন্তি শিল্পী আর ডি বর্মনের ৮১তম জন্মবার্ষিকী। কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক রাহুল দেব বর্মণের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৪১
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে নিয়ানডার্থাল জিন: করোনার প্রাদুর্ভাব

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:১১


ঘন্টা খানিক আগে একটা সাইন্টিফিক পেপার প্রকাশ হয়েছে.....পড়ে মাথা বন বন করে ঘুরছে....এত দেশ থাকতে কেন শুধু বাংলাদেশে????? এশিয়াতে তো করোনার প্রাদুর্ভাব কম এবং সেটা ব্যাখা করে ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারী পুরুষ সম্পর্ক

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৫৭




একজন পুরুষের জীবনে অনেক নারী আসে।
কমপক্ষে পাঁচ জন নারী। এরকম নারী জীবনের যে কোনো সময় আসতে পারে। বিয়ের আগে বা পরে। কিন্তু তারা জীবনে আসে। জীবন থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাটির চুলা

লিখেছেন সোহানাজোহা, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৩১


ছবি কথা বলে: আজ হাটবার আপনে দেড়ি না করে বাজারে যান গা, নাতি নাতনি ছেলে বউ শহরের বাসায় নদীর মাছ খায় কিনা আল্লাহ মাবুদ জানে! (মাটিরে চুলাতে দাদীজান পিঠা ভাজছেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তর মেরুতে নিশি রাতে সূর্য দর্শন - পর্ব ৪

লিখেছেন জোবাইর, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

বিভিন্ন ঋতুতে ল্যাপল্যান্ড: শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ

রেন্ট-এ-কার' কোম্পানীর সেই মেয়েটি কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে আগে থেকেই পূরন করা একটা ফরমে আমার দস্তখত নিয়ে কিরুনা স্টেশনের পাশের পার্কিং এরিয়াতে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নন্দের নন্দদুলাল : স্বপ্ন রথে

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৬

স্বপ্নের অশ্বারোহী
দূরন্ত ইচ্ছেতে ঘুরে বেড়াই, নন্দ কাননে
তাম্রলিপি থেকে অহিছত্র
পুন্ড্রবর্ধন থেকে উজ্জয়িনী, স্বপ্ন সময়ের নন্দদুলাল।

আমাদের শেকড়
বাংলার আদি সাম্রাজ্যে যেন
পতপত ওড়ে পতাকা সবুজ-লাল,
মিলেনিয়াম নন্দ ডাইনাস্টির স্বপ্ন সারথীর স্বপ্নরথে

মানচিত্র: নন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×