
সুরের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র ও এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের এক সফল ব্যক্তির নাম প্রবাল চৌধুরী। বাংলাদেশের গর্ব অমর কন্ঠসঙ্গীতশিল্পী প্রয়াত "প্রবাল চৌধুরী" র কন্ঠে গীত "আমি ধন্য হয়েছি আমি ধন্য" গানটি চির অমরত্ব লাভ করেছে নি:সন্দহে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। প্রবাল চৌধুরী বিশ শতকের ষাটের দশক থেকে তিনি বাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সংগীত পরিচালক ছিলেন প্রবাল চৌধুরী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এ শিল্পী বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন তিনি । চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আধুনিক গানের একজন গুণী শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত আর ভরাট কণ্ঠের অধিকারী এই শিল্পীকে আশির দশকে সঙ্গীতবোদ্ধারা অভিহিত করেছিলেন বাংলাদেশের হেমন্ত মুখোপাধ্যায় হিসেবে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিচালনাও করতেন প্রবাল চৌধুরী। 'সোনা বউ' চলচ্চিত্রের 'আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য, তোমারি প্রেমেরই জন্য। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে 'লোকে যদি মন্দ কয়, সেতো নহে পরাজয়', 'আরে ও প্রাণের রাজা, তুমি যে আমার' ইত্যাদি। জনপ্রিয় এই শিল্পীর আজ ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী প্রবাল চৌধুরীর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

প্রবাল চৌধুরী ১৯৪৭ সালের ২৪ আগস্ট চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিনাজুরিত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে শৈশব থেকেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং জীবন কাটান চট্টগ্রাম শহরের সাংস্কৃতিক এলাকা রহমতগঞ্জের ১৬ নং দেওয়ানজী পুকুরপাড়স্থ নিজ বাস ভবনে। যাঁর যাদুকরী কণ্ঠ শুনে অনেকে মনে করতেন এপার বাংলার হেমন্ত মুখার্জী। আর যখন তিনি তার প্রিয়শিল্পী হেমন্তের কোন গান গাইতেন, তখন তো তাঁকে প্রবাল বলার কোন অবকাশই পাওয়া যেত না। মা লীলাবতী চৌধুরী ছিলেন তাঁর গানের প্রধান অনুপ্রেরণা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রবাল চৌধুরীর কণ্ঠে মোস্তাফিজুর রহমান গামার লেখা ‘ভেবো না গো তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে কবে’ গানটি মুক্তি সেনাদের যারপরনাই প্রেরণা যুগিয়েছে। ‘লোকে যদি মন্দ কয় সে তো নহে পরাজয়’,‘ফুলের বাসর ভাঙলো যখন স্মৃতি কেন বেদনার বাসর সাজায়’ গানগুলো প্রবাল চৌধুরীকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগ থেকে যুগান্তর। তার অন্যান্য ভাই বোন কল্যাণী ঘোষ, উমা খান ও শিল্পজগতে যথেষ্ট পরিচিত নাম। এ পর্যন্ত তিনি সাড়ে ৬ হাজার গানে কন্ঠ দিয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবেও প্রবাল চৌধুরীর পরিচিতি ছিল সর্বাগ্রে। ১৯৭১ সালে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে দেশ মাতৃকার টানে তিনি যোগ দিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। ওই সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন শিল্পী প্রবাল চৌধুরী। সোলো এবং ডুয়েট মিলে তার দশটির মতো গানের অ্যালবাম রয়েছে।


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রখ্যাত শব্দ সৈনিক, বাংলার সঙ্গীতাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, দেশ বরেণ্য কন্ঠশিল্পী প্রবাল চৌধুরীর ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী প্রবাল চৌধুরীর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


