
পৃথিবীটা আসলেই অদ্ভুত। এখানে রহস্যের সীমা নেই। পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে, যা আশ্চর্য হওয়ার মতো। আজব সব ঘটনার কারণে যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা এ পৃথিবী।

(রোমের গাড়িতে পাখির বিষ্ঠা)
১। ইতালীর রোম শহরে ছাতার ব্যবহার কেন বেশী?
রোম বেশ বিখ্যাত একটি শহর যেখানে সুপ্রাচীন সময় থেকে মানুষ নিজেদের জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করে আসছে। খুব মজার আর আশ্চর্যের বিষয় যে প্রতি বছরের অক্টোবরের দিকে ইউরোপের উত্তরদেশ ও পূর্বদেশ থেকে আগত প্রায় লাখ লাখ অভিবাসী পাখি রোমে আশ্রয় নেয়। অক্টোবরের প্রতি ভোরে রোমে লাখখানেক পাখি অবতরণ করে এবং সেখানকার কিছু ফার্ম থেকে জলপাই গুরুভোজ করে। খানিক বিশ্রাম নেয়ার পর সেগুলো যথেষ্ট পরিমাণে ত্যাগ করে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। বাড়িঘর, দোকান, গাড়ি,যানবাহন, রাস্তাঘাট চারিপাশের সব জায়গায়। এবং সারা শহর মলত্যাগ করে ভরিয়ে দেয়। ধরুন আপনি সকাল বেলা খুব পরিচ্ছন্ন হয়ে গাড়ি নিয়ে অফিসের দিকে যাওয়ার জন্যে বেরুলেন এবং তৎক্ষনাত যা কাজ ঘটার তা ঘটে গেলো! আপনার কেমন অনুভূত হবে? খুব বিরক্ত হবেন নিশ্চয়ই? অথচ এমতাবস্থায় কিছুই করার নেই। এই অদ্ভুত সময়ে রোমবাসী রোদ বৃষ্টি ছাড়াও ছাতা ব্যবহার করতে বাধ্য থাকে!

(সান ফ্রান্সিসকোর মানুষের বিষ্ঠা দ্বারা পরিপূর্ণ এলাকা)
২। বিষ্ঠার নগরী স্যান ফ্রান্সিসকোঃ
পৃথিবীর অন্যতম সম্পদশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর শহর স্যান ফ্রান্সিসকো। আধুনিক জীবন যাপনের সব কিছুই পাওয়া যাবে স্যান ফ্রান্সিসকোতে শুধুমাত্র পাবলিক টয়লেট বাদে ! হ্যাঁ, সত্যিই তাই। স্যান ফ্র্যান্সিসকোর জনসংখ্যা ইসানীং এত বেড়েছে যে, রাস্তার ভাসমান মানুষদের জন্য টয়লেট বানানোর পর্যাপ্ত জায়গাই যে নেই সেখানে! এ কারণে ঘরহারা মানুষজনও বাধ্য হচ্ছেন রাস্তার পাশে কাজ সারতে! এ কারণেই দিন দিন বিষ্ঠার নগরীতে পরিণত হচ্ছে শহরটি।

৩। ভণ্ড সন্ন্যাসীদের স্বর্গরাজ্য বোস্টনঃ
যদি সাধারণ আমেরিকান নাগরিক কে কোনো সন্ন্যাসী সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলেন, তবে যে কেউ এক বাক্যে জবাব দিবে " শান্তিপূর্ণ "। তবে কিছু বিরুদ্ধ আর প্রতারক গোষ্ঠী আছে যারা হতাশাজনক ভাবে একটি খ্যাতি বয়ে বেড়ায় নিজেদের এমন সন্ন্যাসী পরিচয় দিয়ে। যারা তাদের মেকি প্রার্থনার কবলে ফেলে মানুষদের প্রতিনিয়ত ঠকিয়ে বেড়ায়। বোস্টন শহরের নান্দনিকতার আড়ালে এই সমস্যা টি প্রধান একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জঘন্য এই নিন্দনীয় কাজের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ট্যুরিস্টদের কথা চিন্তা করে বোস্টন শহরে আর্মির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভেবেই দেখুন ভণ্ড সন্ন্যাসীদের প্রকোপ রোধে সেনাবাহিনী মোতায়েন- ব্যাপারটা কতটা সিরিয়াস!

৫। পানিয় জলের সমস্যা নিউইয়র্কে!
নিউইয়র্ক শহরের অধিকাংশ ট্যাপের পানি চিংড়ি মাছ জাতীয় ছোট প্রাণীতে পরিপূর্ণ যেগুলো কে কোপপডস বলে। এই কঠিন আবরণ যুক্ত প্রাণী গুলো খুব নগন্য এবং নিরীহ প্রজাতির। কিন্তু পানি থেকে ছোট্ট এই প্রাণী গুলো বিনাশ করাই হলো বিপদজনক আর ক্ষতিকর। Department of Environmental Protection অনুযায়ী তারা " স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জলাধার পরিচ্ছন্ন" শর্ত আরোপ করে। কিন্তু ঝামেলা হলো এই কোপপডস কীট নিধন ইহুদিদের ধর্ম অনুযায়ী মারাত্মক পাপ হিসেবে বিবেচিত। সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী খোলযুক্ত সামুদ্রিক জ্যান্ত প্রাণী ধ্বংস করা নিষিদ্ধ। নিউইয়র্ক শহরের অধিকাংশ ট্যাপের পানি চিংড়ি মাছ জাতীয় ছোট প্রাণীতে পরিপূর্ণ যেগুলো কে কোপপডস বলে। এই কঠিন আবরণ যুক্ত প্রাণী গুলো খুব নগন্য এবং নিরীহ প্রজাতির। কিন্তু পানি থেকে ছোট্ট এই প্রাণী গুলো বিনাশ করাই হলো বিপদজনক আর ক্ষতিকর। Department of Environmental Protection অনুযায়ী তারা " স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জলাধার পরিচ্ছন্ন" শর্ত আরোপ করে। কিন্তু ঝামেলা হলো এই কোপপডস কীট নিধন ইহুদিদের ধর্ম অনুযায়ী মারাত্মক পাপ হিসেবে বিবেচিত। সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী খোলযুক্ত সামুদ্রিক জ্যান্ত প্রাণী ধ্বংস করা নিষিদ্ধ।

৫। বিস্ফোরণের শীর্ষে সুইডেনের মালামোঃ
শান্তির দেশ সুইডেন। বর্জ্য পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি পৃথিবীর অন্যতম পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। কিন্তু দেশটির আরো একটি রেকর্ড রয়েছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। সুইডেনের মালমো শহর রয়েছে গ্রেনেড বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে দুনিয়ার শীর্ষে। গ্রেনেড বিস্ফোরক সেখানে খুবই সস্তা, রাস্তাঘাটে কিনতে পাওয়া যায়। ২০১৭ তে মালমোতে মোট ২০টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছে।আর অবিস্ফোরিত হিসেবে আবিষ্কার করা হয়েছে আরো ৩৯টি ! সেখানে এত বেশিমাত্রায় গ্রেনেড বিস্ফোরণ রেকর্ড করা হয়েছে যে, তাতে দেখা যায় পুলিশ স্টেশনগুলোও তা থেকে নিরাপদ নয়। বেস কয়েকবার স্বয়ং নিরাপত্তারক্ষী পুলিশরাই স্বীকার হয়েছেন বিস্ফোরণের!

৬। মৃত্যু যেখানে নিষিদ্ধ!
আজব এক কারণে ইতালির সেলিয়া এলাকায় মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে রীতিমতো আইন প্রণয়ন করে মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের জনসংখ্যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় মেয়র ডেভিড জিচিনেলা এই আইন প্রণয়ন করেছেন বলে জানা যায়।এই আইনে মৃত্যু নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যদি কেউ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরের যত্ন না রাখেন তার জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। ষাটের দশকে সেলিয়ার জনসংখ্যা ছিল ২০০০-এর কাছাকাছি। বর্তমানে এই শহরে বসবাস করেন মাত্র ৫৬০ জন। তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ৭০-এর কোঠায়। এ ভাবে চলতে থাকলে দ্রুত জনশূন্য হয়ে যাবে সেলিয়া। তাই এই পরিস্থিতি রোধ করতেই নাকি এমন আইন প্রণয়ন করেছেন ডেভিড।

৭। কালাচি গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙতে সময় লাগে ৫/৬ দিনঃ
দক্ষিণ কাজাখিস্তানের কালাচি গ্রাম। এই গ্রামের প্রায় এক চতুর্থাংশ বাসিন্দা কাজ করতে করতে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন। তাদের ঘুম কিন্তু এক কিংবা দুই ঘণ্টায় কাটে না। এই ঘুম ভাঙতে নাকি কখনও পাঁচ থেকে ছয়দিনও লাগে। ঘুম ভাঙার পর এসব মানুষকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত ও হতবিহ্বল মনে হয়। তবে এটি স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এসব বাসিন্দা রাত জেগে কাজও করেন না কিংবা কোনো নেশাদ্রব্যও সেবন করেন না। ২০১৩ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো এই সমস্যা দেখা দেয়। এ পর্যন্ত গ্রামের ১২২ জন বাসিন্দা এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি স্কুলের ৮ শিক্ষার্থী একই সময় একই সঙ্গে ঘুমে ঢলে পড়ে। কয়েক মাস পরে গ্রামের ৬০ বাসিন্দা এই ‘হঠাৎ ঘুমের’ কবলে পড়েন। নবম বারের মতো ২০২০ সালের ডিসেম্ব মাসে এই ঘটনা ঘটলে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে শুরু করে।

৮। শয়তানের নগরী মগুইচেংঃ
চীনের ঝিনজিয়াং অঞ্চলের একটি মরুভূমি মগুইচেং। এর আক্ষরিক অর্থ ‘শয়তানের নগরী’। স্থানটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও জনশূন্য। অনেক অদ্ভুত ঘটনা এখানে ঘটে বলে আশেপাশের লোকজন বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। দর্শনার্থীরা এ স্থানে রহস্যময় আওয়াজ, বিষন্ন সুর, গিটারের মৃদু ধ্বনি, শিশুদের কান্না ও বাঘের গর্জন শুনতে পান। তবে এসব শব্দের কোনো উৎসের সন্ধান গবেষকরা আজও খুঁজে পাননি।
সূত্রঃ বিভিন্ন ওয়েব সাইড
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



