
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জাতক বা জাতিকার জন্ম মাস তাঁর ব্যক্তিত্ব বা ভাগ্য় নির্ধারণে সাহায্য করে। কোনও ব্যক্তির আচরণ এবং তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে সেই ব্যক্তির জন্ম সময়, কাল বা জন্ম মাসের উপর। জাতকের ভাগ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে দেওয়া সম্ভব তাঁর জন্ম মাস থেকে। পার্সোনালিটি অ্যানালিসিস করেন যারা তাদের মতে জুন মাসে যারা জন্ম গ্রহণ করেন, তাদের চরিত্র নাকি বাকি অনেকের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। এরা একদিকে যেমন লোকসমাজে বেজায় জনপ্রিয় হন, তেমনি বন্ধু এবং জীবনসঙ্গী হিসেবেও এদের গ্রহণযোগ্যতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে এখানেই শেষ নয়, একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে জুন মাসে যারা জন্ম গ্রহণ করেন, তাদের চরিত্রের এমন কতগুলি দিক রয়েছে, যা বাস্তবিকই চমকপ্রদ! এদের জীবন অতি কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাটে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে অতে হাড় ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়। তবে এদের মানসিকতা উদার প্রকৃতির। তবে জন্মছকে গ্রহের দোষ থাকলে বিলাসীতার কারণে প্রচুর অর্থ অপচয় করে। এরা কোনও অবস্থাতেই অমর্যাদাপূর্ণ কাজ করে না। যে কোনও কাজ করার আগে প্রচুর চিন্তা-ভাবনা করে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেন। এরা দীর্ঘ ও সুঠাম দেহী, লম্বা ও চিন্তাশীল হয়। বেশির ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা গিয়েছে জুন মাসে জন্মানো জাতকরা নিজেদের মনের কথা সহজে কাউকে বলে ও বুঝিয়ে উঠতে পারেন না। অনেকে এদের এই কারণে ভুল বোঝে। বা এই স্বভাবজাত কারণের জন্যই এদের বহু সম্পর্ক হারাতে হয়, যা এরা নিজেরাও জানেন না। জুন মাসে জন্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিরা রোমান্টিক প্রকৃতির হয়। তবে অনেকে মনে করে থাকি যে এই মাসে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা হিংসুটে প্রকৃতির হয়। যদি আপনি বা আপনার কোনও পরিচিতের জন্মদিন জুন মাসে হয়ে থাকে, তাহলে এ তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগতেও পারে। বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে জুন মাসে যারা জন্ম গ্রহণ করেন তাদের চরিত্র মূলত চার ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ

১-৮ তারিখের মধ্যে যাদের জন্মঃ
এই সময়ে যারা এই পৃথিবীতে এসেছেন তারা জনসাধারণের মধ্যে যে বেজায় জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই! শুধু তাই নয়, এমাসে জন্মগ্রহণকারী মানুষেরা এমন হন যে ব্যক্তিগত জীবনে সুখে-শান্তিতে কীভাবে থাকতে হয়, তা এদের থেকে ভাল কেউ জানে না। তবে এখানেই শেষ নয়, এদের আরও কতগুলি গুণ রয়েছে। যেমন ধরুন টাকা জমাতে হয় কীভাবে সে বিষয়ে এদের স্পষ্ট ধারণা থাকে, সেই সঙ্গে এরা এতটাই বুদ্ধিমান হন যে কর্মক্ষেত্রে সফলতার স্বাদ পেতে সময় লাগে না। তবে এমন মানুষদের চরিত্রের একটাই খারাপ দিক রয়েছে, তা হল এরা যে কোনও সম্পর্কেই নিজেদেরকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই তো অনেকেই এদের স্বার্থপর মানুষ হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন। তাই এমন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে ভাবার আগে সবদিকটা একবার বিবেচনা করে নিতে ভুলবেন না যেন!
৯-১৫ তারিখের মধ্যে যাদের জন্মঃ
ঝামেলা কীভাবে সৃষ্টি করতে হয়, তা এদের থেকে কেউ ভাল জানে না। কথায় কথায় সমস্যায় পরতে এবং ফেলতে এদের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই এমন মানুষদের বাবা-মাকে সারা জীবন চিন্তায় চিন্তায় কাটাতে হয়। শুধু তাই নয়, ৯-১৫ তারিখের মধ্যে যারা জন্মান, তাদের বিশ্বাস করাটা একটু কঠিন। কারণ নিজেদের স্বার্থে এরা রুপ বদলে ফেলতে বেজায় পারঙ্গম। শুধু তাই নয়, এরা বেজায় মুডিও বটে। তাই তো এদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যেমন সমস্যার, তেমনি ঝামেলারও বটে। তবে এমন মানুষেদর চরিত্রের কিছু ভাল দিকও রয়েছে, যেমন ধরুন, কাউকে সঠিক পরামর্শ দিতে এরা ভাল পারেন। সেই সঙ্গে যাকে এরা একবার ভালবেসে ফেলেন, তাদেরকে কীভাবে সুখ-শান্তিতে রাখা যায় সেই চিন্তাতেই মজে থাকেন সারাক্ষণ।
১৬-২২ তারিখের মধ্যে যাদের জন্মঃ
মনের মানুষ বলতে যা বোঝায় এরা একেবারেই তেমন। আসলে বেজায় বুদ্ধিমান হলেও মন দিয়ে ভাবতে এবং মনের কথা শুনতেই এমন মানুষেরা বেশি ভালবাসেন। তাই তো সরল মানুষদের তালিকায় একেবারে উপরের দিকে এদের রাখা যেতেই পারে। প্রসঙ্গত, এরা যেমন ইমোশনাল হন, তেমনি মানুষের ভালবাসতে জানেন। তাই তো বন্ধু এবং জীবনসঙ্গী হিসেবে এদের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তবে মাঝে মধ্যে এরা ইমোশনাল হয়ে এমন কাজ করে ফেলেন যে অনেকেই এদের ভুল বুঝে ফেলেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন খাঁটি সোনার মানুষ হয়ে থাকেন এরা। তাই এমন কারও সন্ধান পেলে সহজে হারিয়ে ফেলবেন না যেন!
২৩-৩০ এর মধ্যে যাদের জন্মদিনঃ মনের কথা মুখের উপর বলে দিতে এরা দুবারও ভাবেন না। শুধু তাই নয়, পরিশ্রম করার ক্ষমতার দিক থেকে এদের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো কর্মক্ষেত্রে এমন মানুষদের সফলতা লাভ করতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয় না। শুধু তাই নয়, স্বপ্ন কীভাবে পূরণ করতে হয়, তা এদের থেকে কেউ ভাল জানে না। আর যদি সম্পর্কের কথা বলেন, তাহলে বলতে হয় এরা কর্মক্ষেত্রে যতটা সফল, পরিবারিক জীবনে ততটাই বিফল। কারণ এমনন মানুষদের বৈবাহিক জীবন খুব একটা সুখের হয় না। তাই এরা অনেকে অনেক টাকার মালিক তো হন, কিন্তু জীবনের একটা বড় অংশই এদের একা থেকে যেতে হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
‘পার্থিব বিষয়াদি জ্যোতিষ্কমণ্ডলী দ্বারা প্রভাবান্বিত এবং এদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যত্ ঘটনাবলী আগাম বলা সম্ভব’ এই বিশ্বাসই জ্যোতিষশাস্ত্র নামে পরিচিত। যতদূর জানা যায়, ঈসা (আঃ)-এর জন্মের তিন হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় এর সূচনা হয় এবং গ্রিস সভ্যতাবলয়ে তা পূর্ণতা লাভ করে। ইসলামে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা ও বিশ্বাস হারাম। বিশ্বাস নিয়ে জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া, তার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা, জ্যোতিষশাস্ত্রের বই কেনা, রাশিফল পড়া —সবকিছুই নিষেধ। কারণ এর মাধ্যমে জ্যোতিষবিদ দাবি করেন, ভবিষ্যত্ জ্ঞান তার কাছে রয়েছে। অথচ কোরআন মাজিদে আল্লাহ বলেছেনঃ
১। ‘অদৃশ্যের কুঞ্জি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না’ (সূরা আন’আম : ৫৯)
২। ‘বল আল্লাহ ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না’ (সূরা আন-নামল : ৬৫)
তাই জ্যোতিষের কথায় বা জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে বিধৃত রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করা কোনোভাবেই সঠিক নয়।
সূত্রঃ Bengali News
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



