somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

অন্তর্ধান রহস্য, একটি রম্য কথন !!

৩১ শে মে, ২০২২ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অন্তর্ধান রহস্য, একটি রম্য কথন !!
নূর মোহাম্মদ নূরু

বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক এক আমেরিকান জমিদার কন্যা। রূপে গুনে অনন্যা। টাকা পয়সা ধন দৌলত আর বিশাল যায়গা জমিনের একচ্ছত্র অধিপতি। যেমন ছিলো তার রূপ তার অধিক ছিলো অহংকার। আর সে কারণে তার রূপে মুগ্ধ যুবকেরা পুড়ত পতঙ্গের মত কিন্তু তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপও করতেন না। এই পতঙ্গের মাঝে তার দেশী যুবক ছাড়াও কিছু বিদেশীরাও ছিলো এমন কি আমাদের দেশের চাঁ অদ্যাক্ষরের একজন গাজীও ছিলেন। সে কথায় পরে আসছি!

নদীর পানি আর মেয়েদের রূপ কখনোই এক জায়গায় স্থির থাকেনা। নদীর আছে জোয়ার ভাটা আর নারীর রূপের পতন। ধন দৌলত আর অনন্য রূপে রূপবতী আমেরিকান সেই রূপসীর রূপে ভাটা শুরু হলো। নদীর জোয়ার আর যৌবন বালির বাঁধে কি টিকানো যায়? তিনি চিন্তিত হয়ে পরলেন সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে। কে দেখভাল করবে তার এই বিশাল সম্পত্তি! বিপদে কে হবে তার সহায়!

সামনের অনাগত অন্ধকার দিনের কথা চিন্তা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বিয়ে করার। যেম ন ভাবা তেমন কাজ। তিনি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন, "বিশাল সম্পত্তির একমাত্র মালিক ৭০ বছরের অশিতিপর বিগতা যৌবনা সুন্দরীর মালিক হতে আগ্রহীরা রাজকন্যা ও রাজ্য পেতে বিলম্ব না করে যোগাযোগ করো"।

সম্পদের লালশায় অনেকেই তার দারস্থ হলো কিন্তু বিগতা যৌবনার ধনসম্পদের জালে তাদের ফাঁসানো গেলোনা। ভগ্ন মনোরথ হয়ে, যখন তিনি প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিলেন তখন দেবদূত হয়ে তার দরজায় কড়া নাড়লেন আমদের চাঁ অদ্যাক্ষরের সেই গাজী, যার কথা আগেই বলেছিলাম। ভদ্র মহিলা সুযোগের হাত ছাড়া না করে গাজী সাবকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তড়িঘড়ি করে ওই দিনই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। আত্মীয়, বন্ধু বান্ধব নিয়ে বিশাল আয়োজনে খানা পিনা, নাচ গানের পর এবার ফুল শয্যার পালা। রাত গভীর থেকে গভীরতর হলো। সব নীরব নিস্তব্ধ! যথা নিয়মে রাতের পরে ভোর হয়। নতুন সকাল কিন্তু গাজী সাবের ঘুম আর ভাংগে না! ডাক্তার ডাকা হলো, তিনি আসলেন, দেখলেন, সব বুঝলেন। গাজী সাব আর নাই! ব্যথায় বাথাতুর হলেন তার নব পরীনিতা। কিন্তু বিধির বিধান লংঘন করার উপায়তো নেই। তবে তার মতো অনেকেই বুঝতে পারছিলেন না তার মৃত্যু রহস্য। তার মৃত্যু সনদ চাইলেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার গাজী সাবের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মৃত্যু সনদে লিখলেনঃ
"The patient has died drinking expired milk"

ডাক্তারের কাছ থেকে মৃত্যু সনদ পাবার পরে গোপনীতার সাথে এক অজানা স্থানে তার শেষ কৃত্য সম্পাদন করা হলো। যেহেতু গাজীসাব ছিলেন ভীন দেশী মানে বাংলাদেশী। কোন অহেতুক ঝামেলা ও বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য এই সাবধানতা অবলম্বন করা। সেই থেকে বাংগালী পাড়ায় আর দেখা যায় নি চাঁ অদ্যাক্ষরের গাজীকে। তার বন্ধু মহলে তাকে নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণ হয়, মাতম হয় কিন্তু তিনি যে তিমিরে সেই তিমিরেই আছেন অদ্যাবধি। তার নিখোঁজের খবর পেয়ে তার সহদর গোল্ড গাজী এখানে আসেন গাজীর সন্ধানে কিন্তু তার লাশ দূরে থাকুক তার লাশের কংকালটিরও হদিস করতে পারেন নাই অদ্যাবধি। বিদেশ বিভূইয়ে এভাবে পতন হলো একটি নিখাদ বাংগালী নক্ষত্রের। আমরা চাঁ-গাজীর অকাল প্রায়ণে গভীর ভাবে শোকাহত!

প্রশ্ন? গাজী সাব কত দিন আগের দুধ পান করে ছিলেন?

বিঃঃদ্রঃ মোবাইল থেকে লেখা তাই অনিচ্ছাকৃ ভাবে অনেক আবশ্যিক যুক্ত অক্ষর বাদ দিতে হলো বলে দুঃখ প্রকাশ করছি।

প্রকাশকালঃ ঢাকা, ৩১ মে ২০২২ইং
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২২ বিকাল ৪:০৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×