somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি মনের হরষে গাই গান !!

২৯ শে জুলাই, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি মনের হরষে গাই গান!!
© নূর মোহাম্মদ নূরু

হরষ এর বাংলা অর্থ ⇒ হর্ষ;
হর্ষ, হরষ, হরিষ এর অর্থ → [হর্‌শো, হরোশ্‌, হরিশ্‌] (বিশেষ্য) ১। আনন্দ; উল্লাস; পুলক। ২। উদ্‌গম; উদ্ভেদ; খাড়া হওয়া; শিহরণ (রোমহর্ষ)। হর্ষণ (বিশেষ্য) পুলক; হর্ষ; আনন্দ। (বিশেষণ) ১। আনন্দদায়ক। ২। শিহরে বা খাড়া করে তোলে এমন (রোমহর্ষণ)। হর্ষিত (বিশেষণ) ১। আমোদিত। ২। আনন্দিত; পুলকিত। ৩। তোষিত। হর্ষবর্ধন (বিশেষ্য) থানেশ্বরের প্রভাকর বর্ধনের পুত্র। (বিশেষণ) আনন্দবর্ধন। হর্ষোচ্ছ্বাস (বিশেষ্য) অতিশয় উৎফুল্লতা। {(তৎসম বা সংস্কৃত) হৃষ্‌+অ(ঘঞ্‌)};
আর মনের হরষে মানে মনের আনন্দে, মনের উল্লাসে বা মনানন্দে।

মানুষ মনের হরষে অনেক উদ্ভট কাজ করে থাকে অন্যের কাছে হয়তো তার কোন মানেই নাই, তবে যিনি তা করে থাকেন তার কাছে রয়েছে এর বিপুল আনন্দ! কেউ হয়তো চলতি পথে হঠাৎ করে হেসে উঠলো; অন্য পথিক তা দেখে তাকে পাগল ঠাওরেতে পারে তাই বলে তাকে হাসতে বাঁধা দেবার অধিকার রাখেনা। কেউ যদি মনের হরষে আপন মনে বেসুরো গলায় গান গেয়ে ওঠে তাকে থামিয়ে দেবার কোন আইন কোন কালে কোন দেশেই ছিলোনা আর এখনো নাই।

সবাই মেহেদী হাসান বা লতা মুঙ্গেশকর হয়না; কেউ কেউ হয়। তারা বিশ্বব্যাপী জনপ্রীয়তা পায় তাদের সুললিত কণ্ঠের কারনে। হয়ে থাকেন স্মরণীয, বরনীয় মানুষের মনে যুগ থেকে যুগান্তরে। এটাই তাদের সাধনার পুরস্কার। পরবর্তীতে কেউ কেউ তাদের পথ অনুসরণ করে স্মরণীয় হয়ে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন; তবে সবাই সেই সাফল্য লাভ করতে পারেনা যদিও কেউ কেউ সম্পূর্ণটা আয়ত্ত করতে না পারলেও কাছাকাছি আসবার কারণে শ্রোতাদের প্রশংসায় ঝুলি পূর্ণ করেন; আর কেউ কেউ অঙ্কুরেই ঝরে পড়ে পথের ধুলায়। তাই বলে কি তার সাধনায় বাঁধ সাধতে হবে? গুণীজনেরা বলেন; তুমি কাউকে প্রশংসা করতে পারণা সেটা তোমার সংকীর্ণ মনের পরিচয়, কিন্তু তাকে তার কোন কাজের জন্য উপহাস করার অধিকার তোমার নাই।
ইসলাম ধর্মের উপদেশ; কাউকে নিন্দা বা উপহাস করোনা, তাকে বলো সে যেটা করেছে তা ভালো হয়েছে; তবে আর একটু পরিশ্রম বা সাধনা করলে আরো ভালো করবে; এতে সে উৎসাহিত হবে এবং আরো ভালো করার চেষ্টা করবে। সবাই সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলোয়াত করতে পারেনা, তাই বলে কি কেউ তাকে তা পাঠে বারণ করার অধিকার রাখে? হাবসি বেলাল আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর খুবই প্রিয় ছিলেন তার মধুর কণ্ঠের আযানের জন্য, কিন্তু তাই বলে অন্যদের আযান পরিত্যজ্য তাতো নয়।

আমার সুপ্ত মনের বাসনা আমি মানুষের হৃদয় ঠাঁই পেতে চাই। এজন্য বিভিন্ন পন্থা আছে, কেউ দাতা হয়, কেউ হয় নেতা; কেউ শিল্পী হয়, কেউ অভিনেতা। আমি সব বিষয়ই চেষ্টা করে দেখেছি কিন্তু সফলকাম হতে পারিনাই সেটা আমার দুর্ভাগ্য ; তাই বলে আমাকে সাফল্যের চুড়ায় উঠতে গোড়াতেই বাঁধা দেওয়া কেনো? কেনো আমার মৌলিক অধিকার হরণ? আপনার অধিকার আছে আমার নাচ, গান, কবিতা অপছন্দ করার; করুন কোন সনস্যা নাই, কিন্তু আপনি আমার সুকুমার বৃত্তির চেষ্টাকে থামিয়ে দেবার অধিকার রাখেন না। আমার মন হরষের বহিঃপ্রকাশে বাঁধা দিতে পারেন না।

আমার স্বাধীনতা আমার অধিকার। আপনি আমাকে অপছন্দ করার অধিকার রাখেন; আমার নাচ গান না দেখার অধিকার রাখেন। ইচ্ছা হলে আমার চ্যানেল আন সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন। কিন্তু যদি ভয় দেখিয়ে আমাকে দমিয়ে বা থামিয়ে দিতে চান, তা হলে আমিও ছড়াকার সাংবাদিক আবু সালেহ'র মতো বলতে বাধ্য হবো;
''ধরা যাবেনা ছোঁয়া যাবেনা বলা যাবেনা কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা
"।

প্রকাশকালঃ ২৯ জুলাই ২০২২ ইং
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৫৮
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×