somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুকে অন্যের লেখা শেয়ার করলে কার্টেসি লিখুন ।

০২ রা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে "collected" যার বাংলা প্রচলিত অর্থ আছে "সংগৃহীত"। আর এই বাংলা সংগৃহীত শব্দটার ও আক্ষরিক মানে আছে । কোন কিছুর নাম ,পরিচয় কিংবা সেই বিষয়টির সম্পর্কে কোন তথ্য না পাওয়া গেলে তা আমরা লিখি সংগৃহীত । উৎস জানা না থাকলে কোথাও থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এটা বুঝাতেই লেখা হয় সংগৃহীত । যদি কোন মানুষ অচেনা জায়গায় মারা যায় এবং লাশের ব্যক্তিটির কোন তথ্য জানা না থাকে বা পাওয়া না যায় তখন তাকে আমরা বলি বেওয়ারিশ ।

ফেসবুকে হাতেখড়ি হওয়ার পর থেকে অনেক ধরনের লেখার নিচেই দেখি অনেকে লিখে সংগৃহীত ।আপনি আপনার পরিচিত জনের লেখা পছন্দ করেছেন আর কপি করে শেয়ার করলেন। নিচে লিখে দিলেন সংগৃহীত । কিন্তু কেন ভাই একজন মানুষ চিন্তা করেছে । তার চিন্তাটা আপনার আবেগ ছুঁয়েছে । আপনি ব্যক্তির চিন্তাটা শেয়ার করবেন অথচ ব্যক্তির নামটা Courtesy বা সৌজন্যতায় লিখতে কার্পণ্য কেন ।

আপনি চিন্তাগত দিক থেকে কতোটা নিষ্ঠুর আর স্বার্থপর ভাবুন তো । যার লেখা আপনার আবেগ ছুঁয়ে যায় । আপনার মনকে নাড়া দেয় তাকে বা তার চিন্তার স্বীকৃতি দিতে আপনার উদারতার রশিতে টান পড়ে । আপনার মন যেহেতু এতোই খাটো কি দরকার অন্যের চিন্তা থেকে উৎসারিত গল্প, কবিতা এমন কি ফেসবুক স্ট্যাটাস ও শেয়ার করার । মনের মই না থাকলে অন্যের মন নিয়ে টানাটানি করলে আপনার মনটাই ছিঁড়ে জেতে পারে ।

আমার পরিচিত কিংবা ফেসবুকে লিস্টে থাকা অল্প পরিচিত ,বেশি পরিচিত , আগের , বর্তমান কিংবা অতীত অপরিচিত দেখি দুই এক সময় লেখা শেয়ার দেয় । সরাসরি শেয়ার দিলে লেখকের উৎস জানা যায় । অনেকে একটু বেশি সচেতনতা কিংবা একটু চালাকি করতে গিয়ে কপি করে শেয়ার দেয় । এমন কি কার্টেসি বা সৌজন্যতায় কে নামটা দেয় না ।

আবার লিখে দেয় কালেক্টেড । এটা শুধু ওই লেখক কে অপমানই নয় জীবিত মানুষকে বেওয়ারিশ বানিয়ে দেওয়ার মতো । জীবিত মানুষটি মৃত মানুষের লিস্টে তার নাম দেখে । কি অদ্ভুত মানুষের চিন্তা ধারা । কয়েক মাস আগে আমি কোথাও যাচ্ছিলাম । পথে জ্যাম ভুলতে ফেসবুকে ঢুকলাম । একটা নোটিফিকেশন এল । কেউ আমাকে ম্যানশন করেছে ।

আমি চেক করলাম । পরিচিত এক ছোট ভাই । সে এক সময়ে জাতীয় পত্রিকায় চাকরি করত । আমার প্রথম বই" ইন্দিরা রোড " ২০০৬ সালে তখন প্রকাশ । আমি অনেক পত্রিকা অফিসে পাঠাই । সে ও সেখান থেকেই পায় । আমার সাথে যোগাযোগ করে ।বইটি সম্পর্কে তার ভাল লাগা জানায় । ওর সাথে অনেক বছর ধরে টুকটাক সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা ও হয় । সে এখন কোন এক সরকারী দফতরে আছে । হঠাৎ সেদিন ম্যানশনে দেখি সে বলেছে ' আপু আপনার স্ট্যাটাস্টা ভাল লেগেছে তাই শেয়ার করলাম । কিন্তু স্ট্যাটাসে এক কোনায় আমার চোখ আটকাল ।

সেখানে সে লিখেছে কালেক্টেড । কিন্তু সে তো আমাকে চেনে । কমেন্টে আমাকে ম্যানশন ও করেছে ।তাহলে কার্টেসি লিখতে সমস্যা কোথায় । আমি মজা করে লিখলাম । আরে তুমি তো আমাকে বেওয়ারিশ করে দিলে । উত্তর এল ,"কেন আপু ?কি করেছি? আপনার স্ট্যাটাস্টা রিয়েলি জোস!
আমি উত্তরে লিখলাম " কালেক্টেড না লিখে কার্টেসিতে আমার নামটা থাকলে আমার কাছে আরও জোস মনে হতো ।"

আমার ট্রাফিক জট খুলে গেছে । আমি ফেসবুক থেকে ও বের হয়ে গেছি । দুই এক দিন পর ওর একটা ছবি এল হোমে যে সে নতুন ঠিকানায় । আমি কৌতূহল বশত ওর টাইম লাইনে গেলাম । আর চেক করলাম আমার সেই কমেন্টের পর আর কোন কিছু সে বলেছে কিনা । কিন্তু দেখলাম কার্টেসির প্রতিবাদ করায় সে সেই স্ট্যাটাসই ডিলিট করেছে । এই ধরনের আচরন দিয়ে সে কেবল তার মনের সংকীর্ণতা ,অতি সেন্টিমেন্টাল পরিস্থিতি ,বা পারসোনালিটির ডিসঅর্ডারিটি প্রমান করেছে ।

অথচ সে পজিটিভ হলে উত্তরটা অনেক সুন্দর হতে পারত । যেমন "জি আপু আমি এডিট করে কার্টেসি যোগ করে দিচ্ছি ।" কিংবা "সরি আপু মাথায় ছিল না" ।
এমন অনেক ধরনের আন্তরিক বাক্য । তাকে যে আমার লিস্টে রাখতে হবে কিংবা আমাকে যে তার লিস্টে থাকতে হবে এমন কোন যৌক্তিক কারন পেলাম না । তাই আনফ্রেন্ড করে দিলাম । কারন ফেসবুক বন্ধু বা সামাজিক হতে হলে পজিটিভ হতে হয় । সামাজিক বিষয় এবং পরিস্থিতি বুঝার ক্ষমতা রাখতে হয় ।সমাজে আমরা কম বেশি আশে পাশের অনেকের সহযোগিতা নেই । কিন্তু কখনও কখন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিনা । মানুষের কাজের বা সাহায্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ , ভুল হলে আন্তরিক হয়ে দুঃখ প্রকাশ একটা শিল্প । নয়ত অর্জিত সার্টিফিকেট গুলো কে কিংবা মানুষ হিসেবে আপনার পরিচয় কে কলঙ্কিত করতে পারে ।

#ফেসবুকে অন্যের লেখা শেয়ার করলে কার্টেসি লিখুন ।
#নুরুন নাহার লিলিয়ান ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চেয়ারের আত্মকথা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩০


চেয়ারের আত্মকথা

চেয়ারটি নাকি একদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, "মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসে, আমাকে বানানো কাঠটাকেও যদি ততটা ভালোবাসত, তবে পৃথিবীতে এত অহংকার জন্মাত না।"

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

চেয়ারটি বলল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×