
ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে "collected" যার বাংলা প্রচলিত অর্থ আছে "সংগৃহীত"। আর এই বাংলা সংগৃহীত শব্দটার ও আক্ষরিক মানে আছে । কোন কিছুর নাম ,পরিচয় কিংবা সেই বিষয়টির সম্পর্কে কোন তথ্য না পাওয়া গেলে তা আমরা লিখি সংগৃহীত । উৎস জানা না থাকলে কোথাও থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এটা বুঝাতেই লেখা হয় সংগৃহীত । যদি কোন মানুষ অচেনা জায়গায় মারা যায় এবং লাশের ব্যক্তিটির কোন তথ্য জানা না থাকে বা পাওয়া না যায় তখন তাকে আমরা বলি বেওয়ারিশ ।
ফেসবুকে হাতেখড়ি হওয়ার পর থেকে অনেক ধরনের লেখার নিচেই দেখি অনেকে লিখে সংগৃহীত ।আপনি আপনার পরিচিত জনের লেখা পছন্দ করেছেন আর কপি করে শেয়ার করলেন। নিচে লিখে দিলেন সংগৃহীত । কিন্তু কেন ভাই একজন মানুষ চিন্তা করেছে । তার চিন্তাটা আপনার আবেগ ছুঁয়েছে । আপনি ব্যক্তির চিন্তাটা শেয়ার করবেন অথচ ব্যক্তির নামটা Courtesy বা সৌজন্যতায় লিখতে কার্পণ্য কেন ।
আপনি চিন্তাগত দিক থেকে কতোটা নিষ্ঠুর আর স্বার্থপর ভাবুন তো । যার লেখা আপনার আবেগ ছুঁয়ে যায় । আপনার মনকে নাড়া দেয় তাকে বা তার চিন্তার স্বীকৃতি দিতে আপনার উদারতার রশিতে টান পড়ে । আপনার মন যেহেতু এতোই খাটো কি দরকার অন্যের চিন্তা থেকে উৎসারিত গল্প, কবিতা এমন কি ফেসবুক স্ট্যাটাস ও শেয়ার করার । মনের মই না থাকলে অন্যের মন নিয়ে টানাটানি করলে আপনার মনটাই ছিঁড়ে জেতে পারে ।
আমার পরিচিত কিংবা ফেসবুকে লিস্টে থাকা অল্প পরিচিত ,বেশি পরিচিত , আগের , বর্তমান কিংবা অতীত অপরিচিত দেখি দুই এক সময় লেখা শেয়ার দেয় । সরাসরি শেয়ার দিলে লেখকের উৎস জানা যায় । অনেকে একটু বেশি সচেতনতা কিংবা একটু চালাকি করতে গিয়ে কপি করে শেয়ার দেয় । এমন কি কার্টেসি বা সৌজন্যতায় কে নামটা দেয় না ।
আবার লিখে দেয় কালেক্টেড । এটা শুধু ওই লেখক কে অপমানই নয় জীবিত মানুষকে বেওয়ারিশ বানিয়ে দেওয়ার মতো । জীবিত মানুষটি মৃত মানুষের লিস্টে তার নাম দেখে । কি অদ্ভুত মানুষের চিন্তা ধারা । কয়েক মাস আগে আমি কোথাও যাচ্ছিলাম । পথে জ্যাম ভুলতে ফেসবুকে ঢুকলাম । একটা নোটিফিকেশন এল । কেউ আমাকে ম্যানশন করেছে ।
আমি চেক করলাম । পরিচিত এক ছোট ভাই । সে এক সময়ে জাতীয় পত্রিকায় চাকরি করত । আমার প্রথম বই" ইন্দিরা রোড " ২০০৬ সালে তখন প্রকাশ । আমি অনেক পত্রিকা অফিসে পাঠাই । সে ও সেখান থেকেই পায় । আমার সাথে যোগাযোগ করে ।বইটি সম্পর্কে তার ভাল লাগা জানায় । ওর সাথে অনেক বছর ধরে টুকটাক সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা ও হয় । সে এখন কোন এক সরকারী দফতরে আছে । হঠাৎ সেদিন ম্যানশনে দেখি সে বলেছে ' আপু আপনার স্ট্যাটাস্টা ভাল লেগেছে তাই শেয়ার করলাম । কিন্তু স্ট্যাটাসে এক কোনায় আমার চোখ আটকাল ।
সেখানে সে লিখেছে কালেক্টেড । কিন্তু সে তো আমাকে চেনে । কমেন্টে আমাকে ম্যানশন ও করেছে ।তাহলে কার্টেসি লিখতে সমস্যা কোথায় । আমি মজা করে লিখলাম । আরে তুমি তো আমাকে বেওয়ারিশ করে দিলে । উত্তর এল ,"কেন আপু ?কি করেছি? আপনার স্ট্যাটাস্টা রিয়েলি জোস!
আমি উত্তরে লিখলাম " কালেক্টেড না লিখে কার্টেসিতে আমার নামটা থাকলে আমার কাছে আরও জোস মনে হতো ।"
আমার ট্রাফিক জট খুলে গেছে । আমি ফেসবুক থেকে ও বের হয়ে গেছি । দুই এক দিন পর ওর একটা ছবি এল হোমে যে সে নতুন ঠিকানায় । আমি কৌতূহল বশত ওর টাইম লাইনে গেলাম । আর চেক করলাম আমার সেই কমেন্টের পর আর কোন কিছু সে বলেছে কিনা । কিন্তু দেখলাম কার্টেসির প্রতিবাদ করায় সে সেই স্ট্যাটাসই ডিলিট করেছে । এই ধরনের আচরন দিয়ে সে কেবল তার মনের সংকীর্ণতা ,অতি সেন্টিমেন্টাল পরিস্থিতি ,বা পারসোনালিটির ডিসঅর্ডারিটি প্রমান করেছে ।
অথচ সে পজিটিভ হলে উত্তরটা অনেক সুন্দর হতে পারত । যেমন "জি আপু আমি এডিট করে কার্টেসি যোগ করে দিচ্ছি ।" কিংবা "সরি আপু মাথায় ছিল না" ।
এমন অনেক ধরনের আন্তরিক বাক্য । তাকে যে আমার লিস্টে রাখতে হবে কিংবা আমাকে যে তার লিস্টে থাকতে হবে এমন কোন যৌক্তিক কারন পেলাম না । তাই আনফ্রেন্ড করে দিলাম । কারন ফেসবুক বন্ধু বা সামাজিক হতে হলে পজিটিভ হতে হয় । সামাজিক বিষয় এবং পরিস্থিতি বুঝার ক্ষমতা রাখতে হয় ।সমাজে আমরা কম বেশি আশে পাশের অনেকের সহযোগিতা নেই । কিন্তু কখনও কখন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিনা । মানুষের কাজের বা সাহায্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ , ভুল হলে আন্তরিক হয়ে দুঃখ প্রকাশ একটা শিল্প । নয়ত অর্জিত সার্টিফিকেট গুলো কে কিংবা মানুষ হিসেবে আপনার পরিচয় কে কলঙ্কিত করতে পারে ।
#ফেসবুকে অন্যের লেখা শেয়ার করলে কার্টেসি লিখুন ।
#নুরুন নাহার লিলিয়ান ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




