somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিজ্ঞতাঃ পথে পাওয়া জ্ঞান -নুরুন নাহার লিলিয়ান

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃগুগল
হঠাৎ করেই আমার মাঝে মাঝে নানা রকম ভাব মাথায় উকি দেয় । এই ধরেন ভাল লাগছে না । মনটা আউলা ঝাউলা । তখন একা একা রেস্তরায় খেতে চলে যাওয়া ,শপিং মলে ঘুরে বেড়ানো অথবা খামাখা রিক্সা নিয়ে এদিক সেদিক যাওয়া । আর রিক্সা ওয়ালার মুড চেহারা ভাল হলে তার জীবন কাহিনি শোনা ।এছাড়া ও চুপচাপ কোন একটা রেস্তরাঁয় বসে নিজের পছন্দ মতো মেন্যু অর্ডার করে আশেপাশের চিত্র দেখা । আড় চোখে পাশের টেবিলের ভুঁড়ি ওয়ালা লোকটি হাত ডুবিয়ে খাচ্ছে তা দেখা , আরেক টেবিলে অশান্তিতে টুঁই টুম্বুর মহিলা মোবাইলে কাউকে ইচ্ছে মতো ঝাড়ি দিচ্ছে তা দেখা , হাঁটুর সমান ছোট শিশুটি রেস্তরায় এসে মহা খুশিতে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে একবার রেস্তরাঁর টয়লেটের দিকে যায় অথবা মেইন গেটের দিকে যায় । । কোন ভাবেই তাকে বেবি কর্নারে পাঠানো যায় না ।এদিকে মা রেস্তরাঁর সোফায় পা উঠিয়ে পাশের ভাবির সাথে দিব্বি সুখের আলাপনে মত্ত । আসলে এই শহরের একটা রেস্তরাঁয় ও অনেক ধরনের মুড নিয়ে মানুষ ঢুকে । সবার পেটের ক্ষুধা এক রকম থাকে না । হঠাৎ করেই দেখা যাবে কেউ কেউ আমার মতো একদম চুপচাপ ভীষণ মনোযোগ দিয়ে খেয়ে উঠছে । আমি অবাক হয়ে দেখি মানুষের পেটের ক্ষুধা । পকেটে বা পার্সে যার যতো টাকাই থাকুক । খাওয়ার পর একটা তৃপ্তি প্রায় সব মানুষের এক । ক্ষুধা নিবারনের তৃপ্তি । পেট পূর্ণ হওয়ার তৃপ্তি । দিন শেষে এই পেটের ক্ষুধার জন্যই সবাই দৌড়ায় । এক মুঠো অন্ন । আর এই অন্ন জোগাড়ে হাজারও পেশায় ,ভুমিকায় মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে । জীবনটা উপভোগের সাথে গভীর ভাবে অনুভব করার ও আছে ।
কিছু দিন আগে ঢাকা শহর বেশ গরম হল । অনেক গরম হওয়ার পরের কিছু দিন একটু শান্ত ছিল । এই সুযোগে আমি রিক্সা নিয়ে গেলাম শিশু একাডেমী ফুলের চারা কিনতে । চারা কেনা শেষে রিক্সা খুঁজে পাই না । কোন রিক্সা ওয়ালাই আমাকে নিতে চাচ্ছে না । আমি রাস্তা ঘাটে খুব বেশি দর কষাকষি করি না । পরিস্থিতি বুঝে এক দামেই উঠে পড়ি । অনেক রিক্সা যাওয়ার পর একটা ফুরফুরে মেজাজের রিক্সা ওয়ালা নিজ থেকেই এগিয়ে এল । আমার চারা গুলো রিক্সায় তুলে নিল । আমাদের কোয়াটারে ঢুকার পর একদম তিন তলায় আমার বারান্দায় দিয়ে গেল ।
রিক্সা ওয়ালা শিক্ষিত লোক । শাহবাগ আসার পর লোকটাকে জিজ্ঞেস করে ছিলাম বাড়ি কই মামা ।
-- মাইমেনসিং মামা
--ঢাকায় কতো দিন মামা?
--মেলা বছর মামা!
আমি হেসে দিলাম তার মামা বলার ধরন দেখে । আর ও একটা বিষয় তার বার বার কল এলে ও সে ধরেনি । হাতের মোবাইলটা ও বেশ দামি ।এপোল আই ফোন সিক্স । লোকটা বেশ পরিপাটি । আমার কৌতূহল বাড়াল ।
মামা ফোন কেটে দিচ্ছেন যে ...মামি রাগ করব তো
--না । মামা,মামি না । আমার ছেলে মালয়েশিয়া থিকা ইমুতে কল দিতাছে । ছেলে চায় না আমি রিক্সা চালাই ।
--ছেলে বিদেশে । তারপর ও কষ্ট করতে ভাল লাগে ।
--নাহ ! মামা! রিক্সাটায় আমার ইতিহাস আছে । আমি স্কুলের শিক্ষক আছিলাম । গ্রামের পলিটিক্সের শিকার হইয়া চাকরি যায় । ছেলের মায়ের অসুখ হয় । চোরা জ্বরে মারা যায় । সেই সময় দূরে গিয়া রিক্সা চালাইয়া পেট সংসার চালাইছি । রিক্সাটা ইচ্ছা করলেই ছাড়তে পারি না ।
আমি দেখলাম লোক বেশ ইমোশনাল হয়ে গেছে । এক্সিডেন্ট করতে পারে । তাই অন্য দিকে মনোযোগ নিতে বললাম ,"মামা সামনে স্পীড বেকার ধিরে চালান । বাম দিকে মোড় দিয়ে কফি হাউজের গলি ।"
একটা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে ভাবলাম আজকাল প্রকৃত জ্ঞান স্কুল কলেজে পাওয়া যায় না । কারন জ্ঞান যারা দেয় তাদের বিবেক , চরিত্র জীবন ক্রমশ প্রশ্ন বিদ্ধ । বরং জীবন মুখী জ্ঞান রাস্তা ঘাঁটে পাওয়া যায় । মানুষের মুখে , চোখে আর জীবনের দিকে তাকালেই পাওয়া যায় । কিছু কিছু মানুষের জীবনে মনের ক্ষুধাটা হাহাকারটা পেটের ক্ষুধার চেয়ে কম না । একটা ক্ষুধা সব মানুষের পেটে থাকে । একটা ক্ষুধা সব মানুষের মনে থাকে । মানুষ দিন রাত সেই ক্ষুধাটার পেছনেই ছুটে । অবিরাম ছুটে চলে ।
#পথে পাওয়া জ্ঞান
#নুরুন নাহার লিলিয়ান

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজয়ী

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিজয়ী
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

বিজয়ী কখনো কখনো হেরে যায়
হঠাৎ কেউ টপকে যায় তাকে
সেরা সবসময় সেরা থাকে না
পরাজিত হয়ে সে কাঁদে, ভেঙে পড়ে।
জয়লাভ প্রায় প্রত্যেকে আনন্দিত করে
আর হার প্রায় প্রত্যেকে দুখি করে।
আমরা কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিল্প ও সাহিত্যের নবজাগরণ: যুগপৎ আন্দোলন এবং মৌলিকতার স্বরূপ।

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২



সভ্যতার বিকাশ, সমাজের রূপান্তর এবং মানুষের আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে শিল্প ও সাহিত্য এক অবিনাশী চালিকাশক্তি। একটি জাতির মননশীলতা কেমন হবে, তার নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ় তা নির্ভর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×