১.
তখন সন্ধ্যাবেলা। চাঁদ তার খেলা দেখানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যে জায়গার কথা বলতে যাচ্ছি, সেটা একটা পার্ক। সন্ধ্যাবেলায় মানুষের আনাগোনাটা কম নয় মোটেই। কিশোর থেকে বৃদ্ধ। বৃদ্ধ একদল জগিং করছিল তখন। একদল বসে গল্পগুজব। বিষয় সমসাময়িক রাজনীতি। তিন চারটে কিশোরের দল চটপটি খাচ্ছিল। তক্কাতক্কি করছিল সকালের ম্যাচ নিয়ে। দুটো মেয়ে রিকশা দিয়ে যাচ্ছিল। রিকশা থামিয়ে একজন ফুঁচকার অর্ডার দিল। একটা যুবক বারবার সেদিকে আড়চোখে তাকাচ্ছিল। আশপাশ দিয়ে অনবরত চলছিল গাড়ি। যেমনটি সবসময় হয়।
শুধু ব্যাতিক্রম ছিল একটি ছেলে। পার্কের এক কোণে একা বসা। বয়স সতের হবে। লম্বা, শ্যামলা। চেহারায় অসাধারণ কিছুই নেই তার। দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল সে। তাকিয়ে ছিল চাঁদের দিকে। গভীর দৃষ্টিতে। এক নজরে। অনেকক্ষণ। সাথে দীর্ঘশ্বাস। এক সময় উঠে পরে। হাঁটা দেয়।
২.
আমার কাজের চাপ অনেক বেশিই। সাধারন আট দশ জন পেশাজীবীদের মতই। সকাল থেকে সন্ধ্যা অফিস। একনাগাড়ে বসে ফাইলপত্র দেখা। সে এক বিরক্তিকর জীবন। তাই ছুটির দিনে মেজাজ খুব ফুরফুরে থাকে। ঘুমও হয় ভালো। সেদিনও ভালো ছিল। ঘুম থেকে উঠেই দেখি টি-টেবিলে চায়ের কাপ। উনি রেখে গেছেন। উনি আবার ছুটির দিনে আমার প্রতি খুব যত্নশীল। ঐদিনটায় খুব একটা জ্বালাতন করেন না ঘুম থেকে তোলার জন্য। সে যাই হোক। মূল ঘটনায় আসি। পত্রিকা কিনতে বেরোলাম। সূর্যের ঝলমল হাসি পরিবেশটাকে রাঙিয়ে দিয়েছে বেশ। মূল সড়কে আসার পর দেখি রাস্তার অপাশে একটা জটলা। এগোলাম সেদিকে। দেখার জন্য। ব্যাপার কি। গিয়ে দেখি জটলার মাঝে নিথর একটা দেহ পরে আছে। হাতে নেকলেস ধরা। সোনার। ছিনতাই করতে যাচ্ছিল। বেশ হয়েছে। ভাবছিলাম। ছিনতাই করতে যাবেই বা কেন। মরেছে বেশ হয়েছে।
পরদিন পত্রিকার শিরোনাম, " গণধোলাইয়ে ছিনতাইকারীর মৃত্যু "। বিবরণ থেকে জানতে পারলাম তার বাবা নেই, মায়ের অসুখ আর সামনে বোনের বিয়ে। তাই এই কাজ করতে নামতে হয়েছে।
আর ইনসেটে পার্কের ছেলেটি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



