somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা জানুয়ারি, ২০২১

২৪ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০২১ সালের পহেলা জানুয়ারি, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রথম দিন। তড়িঘড়ি করে ফার্মগেটের উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়ছি। গেটের বাইরে বেরুতেই দেখি; ফুটপাথে লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথায় বেশ বড় বড় ফাঁক, ভেতরের মগজ প্রায় বাইরে উপচে পড়ছে। হবে হয়তো ব্লগার-টগার! কর্তন দাঁতের সাথে জিহবা লাগিয়ে 'চুকচুক' শব্দ করেই এড়িয়ে গেলাম (তাড়া আছে তো!)। কিছুদূর হেঁটে বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম। বাসের জন্য অপেক্ষারত মানুষদের লাইন এতই বড় যে, সবার হাতে পোস্টার ধরিয়ে দিলে সেই মানববন্ধন 'ব্লকবাস্টার হিট' হবে! বেশ কিছুক্ষণ পর একটা দ্বিতলবিশিষ্ট বিআরটিসি বাস এলেই, মানুষ হুড়মুড় করে বাস দখল করে নেয় নিমিষে। ওঠার সময় প্রত্যেকে এমন ভয়ংকর আচরণ করলো, যেন জান্নাতে প্রবেশের দরজা সাময়িকভাবে খোলা হল! এভাবে ঘন্টা কয়েক যাবার পর লাইনের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করলাম। তারও বেশ কিছু সময় পর দূর থেকে একটি খালি বাস দেখে নিজেকে স্বর্গবাসী মনে করতে লাগলাম। কিন্তু, এই বাস কোন যাত্রীর জন্য নয়। ভেতরে কিছু যুবক জাতীয় মানুষ একটি মেয়ের সাথে ধ্বস্তাধস্তি করায় ব্যস্ত। হেল্পারের ভূমিকায় পুলিশ কনস্টেবল মনে হয়! ঐ দৃশ্য দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকা যায়? না, আন্দোলনে যাবো না; হেঁটেই ফার্মগেট যাবো (কাজ আছে তো!)।
যেই না তালতলা এসে পৌঁছেছি, আবারো রাস্তায় ভিড়! ভিড় ঠেলে সামনে গিয়েই আবিষ্কার করলাম, আজ আরও একটা ব্লগার পড়েছে। বুক থেকে ২০ মিলিগ্রাম বাতাস ছেড়ে বললাম, 'আহ... দেশে তবে জামাতি শাসনও প্রতিষ্টিত হচ্ছে'। এই বলে ৫০-৬০ কদম এগিয়ে যেতেই মাইকের তীব্র হুংকার কানে আসলো। মাইক না, বিএনপি'র কোন এক নেতার চিৎকার। পরমুখে জানতে পারলাম, পল্টন অফিসে তালা দেওয়ায় এখানে আয়োজন করে রাজনৈতিক কনসার্টের ব্যবস্থা। এবং মূল বিষয় 'ঈদের পর আর কোন ছাড় নেই...'। ক্ষমতা হারিয়ে বেচারা দলটি যেন ঈদ খুঁজে বেড়াচ্ছে! আফসোস! হঠাত একটি ভরা বাসের কম গতি দেখেই হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়লাম।
খামার বাড়ির কাছাকাছি এসে মনে পড়লো আজ তো ঢাকায় আমার এক পুরোনো বন্ধুর আসার কথা। ফোনে জিগ্যেস করলাম, 'কিরে! কি খবর? ট্রেন কতদূর?' উত্তরে সে বলল, 'আর বলিস দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। চলন্ত ট্রেনে আমার কমপার্টমেন্টে তরুণীকে নিয়ে টানাটানি চলছে।' কথার পরপরই ফোন কেটে গেল। সরকারি ডিজিটাল ফাইভজি সিম, কথায় কথায় নেটওয়ার্ক ফেইল খায়!
ফার্মগেটে পৌঁছেই চা খাবার জন্য দাঁড়ালাম। কোচিং বাণিজ্য সেই আগের মতই চলছে, শুধু গাইডের ব্যাবসাটা মনে হয় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সব জায়গায় গাইডের বিকল্প হিসেবে প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। পিএসসি থেকে শুরু করে এইএসসি পর্যন্ত, হানড্রেড এন্ড টেন পারসেন্ট গ্যারান্টি সহকারে। যে কাজে এসেছিলাম, তা হয়নি বলে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। ভাবছি, বাংলাদেশ তো অনেক বড় দেশ! এখানে একই শহরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে গোটা একটা দিনের অপচয়!
মিরপুর টু ফার্মগেট চক্কর মেরেই ক্লান্ত। এই ক্লান্তি দূর করার জন্য ভাবলাম ফেসবুকে ঘুরে আসি। ফেসবুকে ঢুকেই দুটো ইভেন্টের ইনভাইট পেলাম। একটি হল- 'ব্লগারের মৃত্যুর বিচার চাই'( তেইশ লক্ষ সামথিং গোয়িং)। অপরটা 'ধর্ষণের বিপক্ষে আওয়াজ তোল'(পঞ্চান্ন লক্ষ সামথিং গোয়িং। এদের মধ্যে অনেকে ধর্ষণের কাহিনীটা জানার কৌতূহলে গোয়িং মারছে)। সবার স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে বিক্ষোভ সমাবেশ। অনেকে গায়ে বাতাস না লাগিয়ে 'ফিলিং লাভড', 'ইটিং ভাত', 'ওয়াচিং ফিফটি শেডস অফ গ্রে' ইত্যাদি মার্কা স্ট্যাটাস মারছে। কিছু বাংলাদেশি নায়িকা, বলিউডের সোনাক্ষি নামক নায়িকাকে অনুকরণ করে ঠোঁট মিলিয়ে হিন্দি ছবিরই ডায়ালগ মারছে। যেন বাঙলা বলার চাইতে হিন্দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন! তাসলিমা নাসরীন এখনো পৃথিবীতে পজিটিভ কিছু পাচ্ছেন না! কোন কোন ধর্মবিদ্বেষী ধর্মগুলোকে নিয়ে বাজেভাবে ট্রল করছে। যুক্তি দিয়ে করলে আলাদা হিসাব, কিন্তু অকারণে রগচটাদের ক্ষেপীয়ে যে তারা কি মজা পায়, তা ভাবছি। হয়তো তাদের অন্য ডাইমেনশনে যাবার বড্ড তাড়া।
'ধুর, অসহ্য!' ফেসবুক বন্ধ করলাম, টিভি ছাড়লাম। ছাড়তেই দেখি টক শো, উপস্থিত আছেন মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী। তিনি কথা বলছেন খেলা নিয়ে! ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম; এই লোককে রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলা, সব জায়গায় জ্ঞান ছাড়তে ক্যান আনে!! বাকি কিছু চ্যানেলে চক্কর দিয়ে বিজ্ঞাপনের একটা কোর্স করলাম। ক্লান্ত দেহ; ফরমালিনের গন্ধযুক্ত কিছু মূল্যবান খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লো। এভাবেই কাটলো ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রথম দিন!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৩:২৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×