somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ওবাইদুল্লাহ ওবাইদ
কৈশোর থেকে সাহিত্য চর্চা করি। সোশ্যাল একটিভিস্ট হয়ে ওঠা স্বপ্ন ছিল না। প্রত্রিকার সম্পাদনা রবের পক্ষ থেকে অনন্য জিম্মাদারি। পত্রিকা চালাতে গিয়ে স্বৈরাচারের একাধিক মামলায় যুক্ত হওয়াটাও খোদা ইচ্ছে। ধর্মকে যেমন ভালোবাসি, তেমনই ধর্মের নামে অধর্মকে চরম ঘৃণা ক

এ বছর বৈশাখী মেলা কে নিয়ে একটি ভূতের গল্প।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগামী কাল পহেলা বৈশাখ। সে উপলক্ষ্যে পৌরসভা এলাকা রামগড বাজারে বৈশাখী মেলা ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়। যার দুরত্ব আমাদের এলাকা থেকে প্রায় দশ থেকে বারো কিলোমিটার হবে। আমরা কয়েক জন বন্ধু মিলে মেলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিকেল চারটার দিকে বাস যোগে আমরা সকলে মেলাঙ্গনে পৌঁছি। মেলায় ঘোরাঘুরি আর ফূর্তি করে'ই সময় পার করছিলাম। সময় তখন প্রায় সাত কি তার একটু বেশি হবে। মেলাঙ্গন হঠাত্‍ ধর ধর মার মার আওয়াজে ভারি হয়ে ওঠে। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি লোকেরা কাউকে ধরার জন্য দৌডাচ্ছে। আমিও তাদের পিছু নিলাম। অল্পতে তাকে ধরতে সক্ষম হয়। সাথে সাথে শুরু হয় গণপিটুনি। পাশের কাউতে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম লোকটি পকেটমার। তা-ই গণপিটুনি। এসব হৈ হুল্লোডে পরে কখন যে আমি আমার বন্ধুদের হারিয়ে ফেলি, তা আঁচও করতে পারলাম না। সারা রামগড বাজার তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম। কোথাও ফেলাম না। এদিকে রাত আস্তে আস্তে গভীর হতে লাগলো। পাহাডি এলাকা আবার গভীর রাত। তাই রাস্তায়ও কোন যানবাহন নেই। মেলাঙ্গনও সময়ের তালে তালে মানবশূণ্য হতে লাগলো। নিরবতায় পুরো এলাকাকে বেষ্টন করে পেললো। কি করবো? কোথায় যাবো? কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। এক প্রকার কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়ে পরলাম। অনন্যোপায় হয়ে একা হেঁটেই বাডি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। একেতো গভীর অন্ধকার রাত। অন্য দিকে একা ও দীর্ঘ পথ; -এমন সিদ্ধান্ত নেয়া দুস্কর। তাছাডা ভূত পেতনিরও তো একটা ব্যাপার আছে! নাহ ভূত পেতনির বিষয়টি তেমন ভাবছি না। কারণ, আমার দাদা একজন বৈদ্য। তিনি প্রায় জ্বিন হাজিরা দেখেন। মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেন। তার সাথে ঘটে যাওয়া প্রায় ঘটনা আমার সাথে শেয়ার করতেন। যার সব গুলোই থাকতো ভূতের কাহিনী। তাই ভূত টুতের ভয় আমার একটু কম'ই ছিলো। আল্লাহর নাম নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তার বর্ণনাটি দিয়ে রাখলে ভালো হয়। রাস্তার এক তৃতীয় অংশ, যার দু'দ্বারে চা বাগান। আর কিছু ছিলো রাবার বাগান। চা বাগানের মাঝে মাঝে সম পরিমাণ দুরত্বে অনেক গুলো বট গাছ আছে। আমাকে প্রথমে চা বাগান অতিক্রম করতে হবে। আর চা বাগান এলাকায় রয়েছে একটি ব্রীজ। যাকে ঘিরে নানা কাহিনী মানুষের মুখে শুনা যায়। ব্রীজটি ভয়ংকর হওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। তার পশ্চিমের দিকে একটি বিরাট বট গাছ রয়েছে। যেটি সম্পূর্ণ ব্রীজটির উপর ঝুলে আছে। যার ফলে দিনেও সেখানে সন্ধে সন্ধে ভাব থাকে। আর তার ঠিক দক্ষিণ পার্শ্বে কয়েকটি পুরনো কবর। আল্লাহর নাম স্মরণ করতে করতে সামনে এগোতে লাগলাম। চারো দিকে ঝিম ধরা নিরবতা। মাঝে মাঝে কুকুর আর শিয়ালের চিত্‍কার শুনা যাচ্ছে। অনেকটা ভয় কাজ করছে আমার ভেতর। যত'ই ব্রীজটির কাছে আসছি তত'ই ভয় বেডে চলছে। এভাবে চলতে চলতে ব্রীজটির একদম নিকটে এসে পৌঁছে যাই। আল্লাহর নাম জপতে জপতে যখন'ই ব্রীজটির ঠিক মধ্যখানে এসে পৌঁছি, তখন'ই আমার জীবনের সব চেয়ে ভয়ংকর ও স্মরণিয় ঘটনাটি ঘটে। ব্রীজের দু'পাশ থেকে দুটো মোটা হাত এসে আমার দু পা আঁকডে ধরলো। সাথে সাথে অদৃশ্য থেকে আকাশ পাতাল ভারি করা তাচ্ছিল্যের হাসি। হাহ হাহ হাহ হিহি হিহি উম্ম্ম্ম পাইছিইইই। পেছন থেকে ঝডো হাওয়া। কিন্তু কোন গাছের পাতাই নডছে না। যখনি সামনের দিকে নজর দিলাম। দেখতে পেলাম এক অবর্ণনিয় দৃশ্য। ইয়া বডো দেহের অধিকারী এক দানব আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তার দেহে দুটি মস্তক। সারা শরীর চক্ষু বিশিষ্ট। নাভির অল্প উপরেও তার একটি মুখ রয়েছে। তার অট্ট হাসিতে যেন পুরো ভুবন কাঁপছে। আস্তে আস্তে সে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। এ কঠিন দৃশ্য আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। সেখানেই অজ্ঞান হয়ে গেলাম। পরে যখন জ্ঞান ফিরে আসে, তখন দেখতে পেলাম দু'দল দানব আমাকে নিয়ে তুমুল ঝগডায় লিপ্ত। এক দল আমাকে উপর থেকে নিচের দিকে নিক্ষেপ করছে। আরেক দল আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না। আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সকালে শরীরে সূর্যের তাপ পডতেই আমার চেতনা ফিরে আসে। নিজেকে আবিষ্কার করি চা বাগানের অনেক ভেতরে। শরীরে অনেক কাঁটা ছিডার দাগ। ক্লন্ত শরীর। সেদিন অনেক কষ্টে বাডি ফিরে আসি। বাডিতে আসতেই সবাই ঘিরে ধরে জানতে চায় তাদেরকে না বলে কাল রাতে কোথায় ছিলাম? কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো আমার দাদা এমন ভাব করছেন যেন তিনি সব'ই জানেন! আমার পক্ষ থেকে সব প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে দিচ্ছেন। যেমন সে আমার এক বন্ধুর বাডিতে ছিল। সেখানে খাওয়া দাওয়া করেছে ইত্যাদি। পরে তিনি আমাকে এক পাশে ডেকে নিয়ে বল্লেন "আমি তাবিজ দোয়ার কাজ করি বিধায় কিছু খারাপ জ্বিন আমার শত্রু হয়ে আছে। আর তারাই সুযোগ পেয়ে তোর উপর হামলা করেছিলো। পরে আমার বন্ধু জ্বিন গুলো গিয়ে তোকে বাঁচিয়েছে"। তিনি পরে আমাকে নিষেধ করে দেন এসব যেন কাউকে না বলি
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×