
পানিতে কিছু ছুড়ে মারলে সেটি তরঙ্গের সৃষ্টি করে, ধাতব বস্তু খুব দ্রুত নাড়ালে সেটি বাতাসে তরঙ্গ সৃষ্টি করে, রেডিও টাওয়ারে একটি ইলেকট্রন নাড়ালে তা রেডিও ওয়েভ সৃষ্টি করে। তেমনি কোন নক্ষত্র অথবা কোন গ্রহ যদি নাড়ানো হয় তা সৃষ্টি করে গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ।
গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ বুঝতে হলে আপনাকে আগে স্পেসটাইমকে উপরের ছবিটির মত একসাথে একটি গ্রাফ পেপারের মত কল্পনা করে নিতে হবে ।
বস্তুর গ্রাভিটির কারনে স্পেসটাইম বেঁকে যায়, কল্পনা করুন , টান টান করে চারপাশে ধরে রাখা চাদরের উপরে একটি লোহার গোলক ছেড়ে দিলেন। গোলকটি যেভাবে চাদরটিকে একটু দাবিয়ে দিবে, বস্তুর গ্রাভিটিও স্পেসটাইমকে সেভাবে বেঁকিয়ে দেয়।এখন চাদরটি যদি বেশ বড় হয় আর আপনি যদি লোহার গোলকটি নাড়াতে নাড়াতে থাকেন তবে দেখবেন চাদরের অন্য পাশেও গোলকটি নাড়ানোর প্রভাব পড়ছে। চাদরের উপরে পড়া এই প্রভাবকে যদি স্পেসটাইম গ্রাফে কল্পনা করেন তবে সেটিই গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ।
প্রশ্ন হল পানিতে তরঙ্গ আগাতে থাকলে পানির উচ্চতা কমে বাড়ে,শব্দের ক্ষেত্রে স্পেসিফিক স্থানে বাতাসের চাপ কমে বাড়ে, রেডিও ওয়েভের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভের শক্তির পরিবর্তন হয়। গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের ক্ষেত্রে কি হয় ?
গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের ক্ষেত্রে স্পেসটাইমের মধ্য দিয়ে তরঙ্গ বয়ে যায়। অনেকটা নিচের ছবিটির মত।

গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ যখন ভ্রমন করে তখন তা স্পেসটাইমে প্রভাব ফেলে, কিন্তু তা এতই দুর্বল যে তা শনাক্ত করতে রীতিমত ব্যায়বহুল ও সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির দরকার পরে।
কিভাবে বুঝবেন গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের অস্তিত্ব ? মনে করুন ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে একটি আয়না রেখেছেন, এবার আয়নায় লেজারের আলো ফেলুন।লেজারের আলো আয়নায় পরে আবার তাঁর উৎসে ফিরে আসতে যদি সমান সময় লাগে তবে গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের অস্তিত্ব ওখানে নেই। কিন্তু যদি হিসাবে সামান্য গরমিল খুজে পান তাহলে নিশ্চিত হয়ে যান এটি গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের কাজ। যেহেতু এই তরঙ্গ স্পেসটাইমে একটি তরঙ্গের সৃষ্টি করে ফলে আলো আয়নাটিতে হিট করে আবার উৎসে ফিরে আসলে দেখা যায় যে যাওয়া ও আসার ক্ষেত্রে তা ভিন্ন ভিন্ন সময় নিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

