somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চক্ষুকথন

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আলো আমাদের চোখের লেন্সের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করে রেটিনায় প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। ডিটেইলসে না যাই, সেখান থেকে অনেক কাহিনী করে হিসেব করে মস্তিষ্ক আমাদের চারপাশের সব কিছু দেখায়। সমস্যা হল সবাই সমান দেখি না কেন ? কারো চশমা লাগে কারো লাগে না ,তার উপর চশমায় পাওয়ারেরও ব্যাপার আছে,কারো পজিটিভ কারো নেগেটিভ। ইভোল্যুশন বাই ন্যাচারাল সিলেকশনতো বলে যোগ্যতমই টিকে থাকবে তাহলে এই ত্রুটি নিয়ে মানুষ কিভাবে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ? আরো কথা হল পশুপাখিদের কি চশমার দরকার হয় ?


আসলে পশুপাখিদের তো আর চাইলেই চোখের ডাক্তারের কাছে নেওয়া যায় না। :D
পশুপাখির জগতে অন্যান্য ইন্দ্রিয় যদি যথেষ্ট শক্তিশালী হয় তাহলে চোখে দেখতে পাওয়াকে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবেই দেখা হয়। কলেজে হয়ত ঘাস ফড়িং-এর চোখ পড়ে এসেছেন। ঘাসফড়িং দুইভাবে বস্তু দেখতে পায়। পরিষ্কার কয়েকশো প্রতিবিম্ব একসাথে অথবা ঝাপসা একটি প্রতিবিম্ব (যেমনটা আমরা মানুষরা দেখি শুধু ঝাপসা ভাবটুক ছাড়া)। অনেক প্রাণী দুরের শিকারিকে পরিষ্কারভাবে দেখতে হলে কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখার বিলাসিতা বাদ দিয়ে দিতে হয় আর কি, ব্যাপারটা অনেক এরকম।
আর কোন প্রাণী যদি খারাপ দৃষ্টির জিন বহন করেই থাকে তাহলে সেই জিনটি তার বংশধরদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই সাধারণত কার না কার শিকারে পরিণত হয়। যদি সে সফলভাবে ঐ জিনটি বংশধরদের মাঝে পাস করতে পারে তাহলে খারাপ দৃষ্টির জিনটি নিয়ে পরে সেই বংশধরেরা প্যাড়ায় পরে। মোট কথা, শিকার আর শিকারির রাজ্যে যে জিনটি কাজে লাগে না সেটি টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।

তাহলে প্রাণিজগতে খারাপ জিন টিকিয়ে রাখতে এত কষ্ট হলে আমার আমার চশমা লাগে কেন ? ইভোল্যুশন বাই ন্যাচারাল সিলেকশন এর কারণে খারাপ দৃষ্টির জন্য দায়ী জিন বহু আগেই হারিয়ে যাওয়ার কথা। টেকনিক্যালি চাইলে মনুষ্যত্ব, সামাজিকতা, সম্পর্কের বন্ধন ইত্যাদিকে দায়ী করতে পারেন :D। একসাথে থাকার ফলে দলে যদি দুয়েকজন খারাপ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন থাকতোও,তাদেরকেসহ দল রক্ষা করতে তেমন সমস্যা হত না। আর পরে চশমাতো আমরা ঠিকই বানিয়ে ফেললাম। তাই চশমা ব্যবহার করে খারাপ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নরাও সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে, বংশধরদের মাঝে সেই জিনটিও ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনয়ত। যে কারণে প্রায়ই আমরা দেখতে পাই কাউকে না কাউকে চশমা ব্যবহার করতে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০ জনে ৭ জন চশমা অথবা লেন্স ব্যবহার করে। ১৯৫৬ সালে যেখানে চীনে ১০ জনে ১ জনের চশমা প্রয়োজন হত সেখানে ২০১৬ সালের দেখা যায় ইয়াং জেনারেশনের ৯০% এরই চশমা অথবা লেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তবে সমস্যাটি শুধুমাত্র জিনগত নয়। প্রথমে ধারনা করা হত হয়ত খুব কাছে নিয়ে সারাদিন বই পরা অথবা ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার ফলে সমস্যাটি হয়ে থাকে কিন্তু সাম্প্রতিক রিসার্চে দেখা গেছে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর রিস্ক ফ্যাক্টর হতে পারে উজ্জ্বল সূর্যের আলোতে যথেষ্ট সময় না থাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বানের পানির মতো আসছে রেমিট্যান্স, রিজার্ভেও রেকর্ড"।

লিখেছেন পলাতক মুর্গ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৩৮


গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল, এই অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই তার চেয়ে ১৪৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

= সব শেষ হয়ে যায় একদিন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:১৮



©কাজী ফাতেমা ছবি
=একদিন সব শেষ হয়ে যায়=
একদিন আনন্দের ঢেউ ছিলো মন নদীতে,প্রাথমিকে যখন
হইহুল্লোড়ে কেটে যায় পাঁচটি বছর- মন বেখবর,
ক্লাস পার্টি ছিলো না, ছিলো না সেদিন আনন্দের লহর
বন্ধুদের ছেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরকমও হয়!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৯



একবার অস্ট্রেলিয়ার এক বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে একজন বাংলাদেশী জয়েন করলো বিক্রয়কর্মী হিসাবে। প্রথমদিনে পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করলো সে।

সারাদিনের কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার সময়ে তার বস তাকে ডাকলো।

বস:... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাতা আবিষ্কার

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৫১


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জুতা আবিষ্কার' কবিতার ছায়া অবলম্বনে একটি রম্য কবিতা

রাজামশাই কহিলেন শোন কান খুলিয়া,
মন্ত্রী উজির বুদ্ধি বাহির কর সকলে মিলিয়া।
বর্ষার বারি আর প্রখর রোদ লাগিবে কেন গায়,
বৃষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"কালের পরিক্রমা"

লিখেছেন উম্মে সায়মা, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৫




চোখ বুজলেই বুঝি ঘুম?
পা বাড়ালেই বুঝি চলা?
চোখ মুদেও জেগে থাকা
এক পা দু' পা হেঁটেও থেমে থাকা
কখনো এইতো রীতি

জীবন বহতা নদী
ঘড়ির কাঁটা জানান দেয়
টিকটক টিকটক
একসময় গ্রাস করে জরা
শীতের সকালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×