বিনা বিচারে ২২ বছর সিলেট কারাগারে বন্দি থাকার পর গতকাল মুক্তির স্বাদ পেলেন ফজলু মিয়া।
ছবিটা দেখছিলাম । আর নিউজটা পড়ছিলাম। ফুলের মালা গলায় পরে ফজলু মিয়া জেল থেকে বের হয়েছেন। মনে হয়েছে তিনি যেনো বিদেশ থকে এসেছেন । তাকে বরণ করতে এসেছেন রাষ্ট্রের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটার)।

সিলেটের ফজলু মিয়াকে ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে এবং আচরণে অস্বাভাবিকতার কথা বলে উন্মাদ আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দেয়। সেদিনের টগবগে যুবক আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ। দুই দশকেরও বেশি কারাবাসকালে তিনি প্রায় ২০০ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। রায় বা মুক্তি কোনোটিই মেলেনি। মাঝখানে হারিয়ে গেছে তাঁর জীবন। শেষ পর্যন্ত ফজলুর জামিনের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু বিনা বিচারে অপচয় হওয়া ২২ বছর আজ কে তাঁকে ফিরিয়ে দেবে?

বিনা বিচারে ফজলু মিয়া ২২ বছর জেল কেটেছেন। ভাই বাইশ বছর। ৫৪ ধারায় তাকে আটক করে জেলে পুরো হয়। দিন যায়,মাস যায়,বছর পেরোয়। যুগ অতিক্রান্ত হয়। দুই দশক পেরো্য। আমি ভাবি একটা মানুষ মানে কত কিছু। তাকে জড়িয়ে আছে কত মায়ার লতা পাতা। এখন তার কেউ নেই। আচ্ছা লোকটার কি বউ ছিলো ,বাচ্চা ছিলো ?? বউ টা কি প্রতিদিন কোর্টে না খেয়ে ঘুরেনি ? উকিল,মরির,সেরেস্তাদার এদের হাতে পায়ে ধরেনি। এমনও দিন হয়তো গেছে উকিল সাহেবের হাত পা ধরে উকিল সাহেব যখন চলে যাচ্ছেন তখন উকিল সাহেবের বউ বলছে, হানি তাড়াতাড়ি বেড়োও তোমার মিটিং। উকিল সাহেবের টাইটার নব টিক করে দিয়ে বলছে, বেটি আর সময় পায়না । ফজলুর বউটা এভাবেই হেটেছে। হ্য়তো কোন এক বৃষ্টি ভেজা সকালে জজ সাহেবের বাড়ীর সামনে তীর্তের কাক হয়ে বসেছিলো। জজ সাহেবের সাথে দেখা করবে বলে। বলবে, আমার বাচ্চা। বাচ্চা। স্যার। জজ সাহেবের গাড়ী সাই করে তার সামনে দিয়ে গেছে জমে থাকা পানি তাকে ছিটিয়ে। এই পানি হয়তো স্পর্শ করেছে বাচ্চার মুখ।

ফজলু মিয়া এখন অপ্রকৃতিস্তত,পাগল। কিছু মনে নেই। তার বুউটা এখন কোথায় ? ফজলুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয়তো এখন অন্য কারো বাহুডোরে রাত কাটে। তার মেয়েটি হ্য়তো না খেয়ে মারা গেছে। না হলে মা হয়তো তাকে না খাওয়াতে পেরে বিক্রি করে দিয়েছে। মেয়েটি কি কখনও ঘুমুবার সময় বাবাকে কি মিস করেছে?
শুনেছি আদালত অন্ধ। আন্ধা কানুন। তারপরও আদালতের একটি অর্ন্তদৃষ্টি থাকে। বিচারক মানবিক হোন। কিন্তু এখনে কেউ সুয়োমোটো করেনি ।কেউ কথা বলেনি !!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



