somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিনা বিচারে ২২ বছর কারাগারে বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন ফজলু মিয়া। কিন্তু হারানো ২২ বছর কে তাঁকে ফিরিয়ে দেবে?

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিনা বিচারে ২২ বছর সিলেট কারাগারে বন্দি থাকার পর গতকাল মুক্তির স্বাদ পেলেন ফজলু মিয়া।
ছবিটা দেখছিলাম । আর নিউজটা পড়ছিলাম। ফুলের মালা গলায় পরে ফজলু মিয়া জেল থেকে বের হয়েছেন। মনে হয়েছে তিনি যেনো বিদেশ থকে এসেছেন । তাকে বরণ করতে এসেছেন রাষ্ট্রের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটার)।


সিলেটের ফজলু মিয়াকে ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে এবং আচরণে অস্বাভাবিকতার কথা বলে উন্মাদ আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দেয়। সেদিনের টগবগে যুবক আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ। দুই দশকেরও বেশি কারাবাসকালে তিনি প্রায় ২০০ বার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। রায় বা মুক্তি কোনোটিই মেলেনি। মাঝখানে হারিয়ে গেছে তাঁর জীবন। শেষ পর্যন্ত ফজলুর জামিনের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু বিনা বিচারে অপচয় হওয়া ২২ বছর আজ কে তাঁকে ফিরিয়ে দেবে?


বিনা বিচারে ফজলু মিয়া ২২ বছর জেল কেটেছেন। ভাই বাইশ বছর। ৫৪ ধারায় তাকে আটক করে জেলে পুরো হয়। দিন যায়,মাস যায়,বছর পেরোয়। যুগ অতিক্রান্ত হয়। দুই দশক পেরো্য। আমি ভাবি একটা মানুষ মানে কত কিছু। তাকে জড়িয়ে আছে কত মায়ার লতা পাতা। এখন তার কেউ নেই। আচ্ছা লোকটার কি বউ ছিলো ,বাচ্চা ছিলো ?? বউ টা কি প্রতিদিন কোর্টে না খেয়ে ঘুরেনি ? উকিল,মরির,সেরেস্তাদার এদের হাতে পায়ে ধরেনি। এমনও দিন হয়তো গেছে উকিল সাহেবের হাত পা ধরে উকিল সাহেব যখন চলে যাচ্ছেন তখন উকিল সাহেবের বউ বলছে, হানি তাড়াতাড়ি বেড়োও তোমার মিটিং। উকিল সাহেবের টাইটার নব টিক করে দিয়ে বলছে, বেটি আর সময় পায়না । ফজলুর বউটা এভাবেই হেটেছে। হ্য়তো কোন এক বৃষ্টি ভেজা সকালে জজ সাহেবের বাড়ীর সামনে তীর্তের কাক হয়ে বসেছিলো। জজ সাহেবের সাথে দেখা করবে বলে। বলবে, আমার বাচ্চা। বাচ্চা। স্যার। জজ সাহেবের গাড়ী সাই করে তার সামনে দিয়ে গেছে জমে থাকা পানি তাকে ছিটিয়ে। এই পানি হয়তো স্পর্শ করেছে বাচ্চার মুখ।


ফজলু মিয়া এখন অপ্রকৃতিস্তত,পাগল। কিছু মনে নেই। তার বুউটা এখন কোথায় ? ফজলুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয়তো এখন অন্য কারো বাহুডোরে রাত কাটে। তার মেয়েটি হ্য়তো না খেয়ে মারা গেছে। না হলে মা হয়তো তাকে না খাওয়াতে পেরে বিক্রি করে দিয়েছে। মেয়েটি কি কখনও ঘুমুবার সময় বাবাকে কি মিস করেছে?
শুনেছি আদালত অন্ধ। আন্ধা কানুন। তারপরও আদালতের একটি অর্ন্তদৃষ্টি থাকে। বিচারক মানবিক হোন। কিন্তু এখনে কেউ সুয়োমোটো করেনি ।কেউ কথা বলেনি !!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৫৯
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×