তখন আমার রংতুলি ছিলোনা। রং পেঞ্চিল ছিলো। পেঞ্চিল দিয়ে আকঁতে ভাল লাগতোনা। দু'টাকা দামের কিছু আর্ট কলম ছিলো। কিনে নিয়ে আসতাম।
একটু একটু করে ছবিগুলো আকঁতাম। অন্য কাউকে দিতামনা। রং শেষ হয়ে যাবার ভয়ে পকেটে রেখে দিতাম। কোন কোনদিন দেখা যেত প্যান্টের সব জায়গায় আর্ট কলমের কালি। বার্থরুমে গিয়ে অনেক্ষণ ঘষেও কালিগুলো যেত না। ঐদিকে কান ধরে ফেলতো। বলতাম, এই বার শেষবার। আর হবেনা।
সে শেষবারের শেষ আর হল না। এখনো কখনো কখনো কালো কালির কলম কালি ছেড়ে দেই। খাম খেয়ালিটা এখনো গেলনা। কলমের সাথে এই অলীক প্রেম সার্ফেক্সেলকে ব্যার্থ করে দেই।
তখন রংতুলির বড্ড শখ ছিলো। আব্বুকে বারবার বলতাম, "আব্বু, লাল রং এবং কালো রং এর টিউব আর একটা তুলি। আচ্ছা তুলি লাগবেনা। স্কুল থেকে আসার সময় রেজা ভাইয়ের দোকান থেকে নিয়ে নিবো। ও হে, আব্বু একটা সবুজও আনিও।" পেছনে মা দাড়িয়ে থেকে বলতো, "আগের মত সাদা প্যান্টটা নষ্ট করবি?"
আমি রেগে যেতাম। আর কিনতাম না রং তুলি। স্কুল থেকে আসার সময় আমার বোন একটা কিনে নিতো লাল রং এর টিউব।
-কিরে বোন, তুইতো ছবি আকিঁস না!
-মা দিয়েছে টাকা তোর জন্যে।
-ও, তাহলে একটা তুলিও কিনে নে।
শুধু তুলি না, কাল আর সবুজ কালির টিউবও কিনে নিতো।
এর পর আর রংতুলি ভাল লাগতো না। কাল পেঞ্চিল আর সাদা রাবার হলেই চলতো। যেখানটাই মুছতে হবে, একটু ঘষা দিতাম। কাজ শেষ। সব মুছে যেত।
সাদা রাবার এখন আর খুজে পাইনা। ৫ টাকার পেঞ্চিলের রাবার প্রায় শেষ। ভুলগুলো সতর্কতার সাথে করি। তবুও ভুল হয়ে যায়।
পুরানো মেরিট কলমের রাবার দিয়ে খাতার উপর ঘষি। কাজও হয়, কোন কোন দিন।
তখন আর এখন, মাঝখানে অনেক সময়। মা পাশে থাকতো তখন। আর এখন একা। মায়ের ফোন রিসিভ করতে গিয়ে কেটে যায়। সাইলেন্ট মোড সবসময় এক্টিভ থাকে। বোনটারে কল দেয়া হয়না। ফেবুতে মেসেজ দেয়াও। ভাইটার সঙ্গে মালেশিয়া যাওয়ার প্ল্যান চেঞ্জ করতে হয়। আব্বুর সাথে কথা হয়না।
এখন আমি পুরুপুরি শহুরে মানুষ। রাস্তার পাশের এক্সিডেন্ট কাটিয়ে যায়। দেখিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


