somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

…এখনই সময়…

১০ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একজন নিতান্তই সাধারন মানুষ। সেই ৫ই ফেব্রুয়ারী থেকে বুকের ভেতর কোথায় যেন একটা টান অনুভব করি। কিছু বলার জন্য, নিজের অভিব্যাক্তিটা প্রকাশ করার জন্য, নিজের দায়িত্ব নেবার জন্য, নিজের দেশকে রক্ষা করার জন্য। হ্যাঁ, দায়িত্ব-ই বললাম। যখন এই মাটি কে আপনি ‘মা’ মনে করবেন তখন সেটার সমস্ত-টা আগলে রাখা আপনার দায়িত্ব। যেখানে যা হচ্ছে হোক, জ্বলুক, পুড়ুক, মরুক – আমারতো কিছু হচ্ছে না, দিব্যি সংবাদপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছি, টিভি দেখছি, টক-ঝাল-মিষ্টি শো দেখছি, সমসাময়িক সব অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞ্যাত আছি – ব্যাস, হয়ে গেলো? নাহ – আমার তেমন মনে হয় না, মনে হয় না বলেই আজকের এই লেখা, মনে হয় না বলেই লাখ লাখ তরুন ৫ই ফেব্রুয়ারী রাস্তায় বেড়িয়ে এসেছিলো। সত্ত্যি বলতে কি – ৫ই ফেব্রুয়ারীর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি টিভি-র সামনে বসে কেঁদেছিলাম, ঐ মুহূর্তে ঐখানে থাকতে না পারার জন্যে – বাস্তবতার বেড়াজালে জড়িয়ে সে অনেক আগেই দেশমাতা কে বিদায় বলে চলে এসেছিলাম এই মরু-প্রান্তরে, যেখানে প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত লাখো তরুণের স্বপ্ন, আত্মকথা রোদে পুড়ে খাক হয়ে যায়, কেউ তার খবর রাখে না। সে যাহোক, ঐ তারুণ্যের জোয়ার দেখে আমার মধ্যে খুবই একটা আশার ঢেউ উঠেছিলো, দেখতে পাচ্ছিলাম দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, উন্মুখ হয়ে বসেছিলাম টিভি-র সামনে পুরোটা সময়, বারবার মনে হচ্ছিল...ইস, এখন যদি সেই ৭ই মার্চের মতো একটা ‘শেখ মুজিব’ কণ্ঠ শোনা যায়...তাহলেই বদলে যাবে আমার এই দেশ-টা। যেমন করে বদলে গিয়েছিলো সেই ১৯৭১-এ। কিন্তু দুঃখের বিষয়টা এই যে, তেমন একটা দরাজ কণ্ঠ আজ আমাদের মধ্যে নেই। অমন একজন কে পেতে হলে, যে কোনো জাতিকে অতি সৌভাগ্যবান হতে হয়। সেই একজন কি আমাদের দেশে আছে??? যার সামনে সবাই দাঁড়িয়ে যেতে পারে দেশের সকল আবর্জনা দূর করে একটা সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়তে। আমরা কি সত্ত্যি এতটাই দুর্ভাগা...???

যে যাই বলুক, সাধারন চোখে দেখা সৎভাবে আমি মনে করছি এটা সত্যি “গণজাগরণ’’। কোন দল বা ব্যক্তি-বিশেষের স্বার্থ উদ্ধারের সমাবেশ নয়। আজ সময় এসেছে বুক চেতিয়ে, চোখ বন্ধ করে সকল অন্যায় আর অত্যাচারের মুখোমুখি দাড়াবার, সমস্ত পুরাতন-কে বিদায় জানাবার, বুড়িয়ে যাওয়া সমস্ত রাজনীতিকদের ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে উদ্ধত কণ্ঠ জানান দেবার। নতুন কিছু সৃষ্টি ওদের দাঁড়া সম্ভব না, ঐ কাজ তরুণদের – আজকের এই গণজাগরণের। এখনি সময়...পরিবর্তনের, পরিমার্জনের, নতুন ইতিহাস সৃষ্টির – একটা নতুন অভ্যুত্থানের সময়...এই এখনি...। এই সময়টা চলে গেলে আর সহজে একে পাওয়া যাবেনা, কোন জন্মে আবার কবে ফিরে পাব তার কোন ঠিক নেই। সময়ের কাজ সময়ে না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরাই, আজকের এই তরুনরাই দায়ী থাকব ইতিহাসের কাছে। শ্লোগান, অবরোধ, অনশন যাবতীয় প্রতিবাদ শব্দসমষ্টি দিয়ে হয়ত আমরা আমাদের অবস্থান জানান দিতে পারি কিন্তু এইসব দিয়ে কোন অভ্যুত্থান ঘটবে না, এইসব করে কখনো চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা যাবে না। এর জন্য, ঐ দুর্নীতির ঘুণে খাওয়া রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লুটে যাওয়া নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিতে হবে। আমরা কি পারি না, এই গণজাগরণের পক্ষ থেকে বৈধ ভাবে একটা নতুন দল গঠন করে আগামী নির্বাচনে ওদের মুখোমুখি হতে? তারপর বাংলার জনগণই বেছে নেবেন তাদের ভাগ্য। যদি তাই না হয়, তাহলে এই সম্পূর্ণ জাগরণের যথার্থ সত্ত্যি খুব বেশি মেকি মনে হয় আমার কাছে। আজ যদি, এই সময় আমরা সেই লুটে যাওয়া নেতৃত্ব আমাদের হাতে নিতে না পারি তবে খুব স্পষ্টই বলতে পারি - আবার সেই পচাগলা নোংরা রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হবে এই মাটিতে। ৪২ বছর ধরে যাদের শরীর, মনের পরতে পরতে জমেছে রক্তচোষা দুর্নীতির লালিমা। যাদের ঔরসজাত প্রজন্ম বড় হবে বিলাতে, দূর দূর পর্যন্ত আকাশের মেঘ ভেদ করে উঠে যাওয়া দালানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে...ওদের ঘুম থেকে উঠা থেকে আবার সুগভীর রাতে সুনিন্দ্রায় যাবার আগ পর্যন্ত সমস্ত বিলাসিতার যোগান দিতে হবে আমাদেরকেই। হাঁটে, মাঠে, ক্ষেতে-খামারে শেষ বিন্দু পর্যন্ত নোনা ঘাম বের করে... যতদিন যাবে, ততই বাড়বে এই রক্তচোষা শাসনের পরিমান। ওদের নীল তিমির মতো হা করে থাকা উদর পূর্ণ করতে আমরা রাস্তায়-ক্ষেতে খেঁটে মরবো।

এই জন্যই আমাদের এখনি ওদের মুখোমুখি দাঁড়ানো উচিত। দৃপ্ত কণ্ঠে জানিয়ে দেয়া উচিত যে – আর কতো? দেয়ালে পিঠ ঠেকার বদলে আপনাদের চাপে যে এখন আমাদের প্রাণটা যাবার উপক্রম হয়েছে। দিনের পর দিন, যে ক্ষমতায় আসছে নিজের ইচ্ছে মতো, নিজের খেয়াল-খুশি মতো লুটপাট করছে, লুটপাটে কোনো আইন বিঘ্ন ঘটালে সংবিধান পরিবর্তন করে নিজেদের রাস্তা পরিষ্কার করছে, জাতীয় সব অপকর্ম করে একে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে, নির্লজ্জের মতো টিভি-ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দিনের পর দিন মিথ্যা বুলি শুনিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতার প্রশাধনে মোড়া আমাদের নেতা-রা। মজার ব্যাপার হলো - এ’রা সংখ্যায় কতজন জানেন? মাত্র ৩০০ জন...আচ্ছা ঠিক আছে, ধরি ৩টা প্রধান রাজনৈতিক দল...কখনো এরা বা কখনো ওরা...তাহলে দাড়াল ৩০০x৩=৯০০জন...। হ্যাঁ, এই ৯০০জন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নোনা ঘাম পান করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তা-তেও যদি তাঁরা খান্ত হতো। নাহ, তাঁদের রক্তও চাই, দাবিয়ে রাখার জন্য বিশুদ্ধ রক্ত। তাদের স্বার্থের জন্যই আমাদের কে বাসে, ট্রেনে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, রাস্তায় বোমা ফাটিয়ে, পাখির মতো মারছে দিনের আলোতে। যেন আমরা “টুঁ” শব্দটি পর্যন্ত না করতে পারি। ঐভাবে আমাদের মেরে ওরাই প্রকাশ্যে হুংকার দেয়...“তোদের জন্ম হয়েছে মার খাবার জন্য...এই তোদের নিয়তি...”। ২৫০ বছর ব্রিটিশ মেরেছে... ২৫বছর পাকিস্তানি মেরেছে... আর এখন আমরা মারবো, যারা বাংলাদেশ জন্মের সময় হর্তা-কর্তা ছিলাম। কিন্তু, আমার প্রশ্ন কেন? মুক্তিযুদ্ধের দোহাই দিয়ে আর কতকাল শাসন করতে চান? আর কতকাল আমাদের রক্ত চুষবেন? মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব আর ঘোষণা দিয়ে কি আজন্মের মতো বাঙালি-দের কিনে নিলেন – যে যার যখন ইচ্ছে এসে এসে মেরে যাবেন? বাংলাদেশ-টা কি শুধু আপনাদের দুই পরিবারের? আমরাই কি আপনাদের, আপনাদের ঔরসজাত প্রজন্মের চূড়ান্ত বিলাসী জীবন যাপনের একমাত্র উৎস???

নাহ, অনেক হয়েছে...এবার ক্ষেমা দেন। আমরা আর চাইনা আপনাদের দেশপ্রেম। এবার অবসর নেন। আপনাদের দেশপ্রেমের পরিনাম ভোগ করতে করতে আমরা এখন প্রতিনিয়ত দুর্নীতির স্বর্ণ-শিখরে থাকার প্রতিযোগিতা করি সারা পৃথিবীর সাথে, হাঁয় সেলুকাস – সত্যি...। ক্ষমা চাই, এবার ছাড়েন। আপনাদের সময় ফুরিয়েছে, এখন আমাদের দিন, নতুনদের দিন, তারুণ্যের দিন। সেই ১৯৭১-এ যেমন করে আপনারা তারুণ্যের শক্তিতে বাংলাদেশ অর্জন করেছিলেন, সেই তারুণ্যের শক্তিতেই আমরা এখন বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই উদ্ধত বল যাদের ভেতর আছে, আমি তাদের সবাইকে আহবান করবো...আসুন, এখনি সময় আমাদের দায়িত্ব নেবার, নেতৃত্ব দেবার – দুর্নীতি, লুটপাট, খুনোখুনির রাজনীতি থেকে বাংলার চিরশান্তিকামী মানুষদের মুক্ত করার...এখনই সময়।

পরিশেষে, পরমগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই নতুনের জয়গানের কথা কে-না জানে। তার স্বরে স্বর মিলিয়ে আবার সব পুরাতনকে বলছি...জায়গাটা এবার স্ব-শ্রদ্ধ সম্মানে ছেড়ে দিন...নইলে লুণ্ঠিত হবে...তারুণ্যের শক্তি-তে...!!!

“শিকল-দেবীর ওই-যে পূজাবেদী
চিরকাল কি রইবে খাড়া?
পাগলামি, তুই আয় রে দুয়ার ভেদি।
ঝড়ের মাতন বিজয়-কেতন নেড়ে
অট্টহাস্যে আকাশখানা ফেড়ে
ভোলানাথের ঝোলাঝুলি ঝেড়ে
ভুলগুলো সব আন-রে বাছা-বাছা।
আয় প্রমত্ত, আয় রে আমার কাঁচা...!!!”
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×