somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হতাশার প্রলাপ - ১

১৭ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অদ্ভুত সব প্রতিক্রিয়া পড়লাম এই দুইদিন... সবার এমন ভাব যে এইসব রায়ে সবাই হতচকিত। কিন্তু আমি এবং আপনি, আমরা দুইজনই একটা ব্যাপার জানি – “অবাক হওয়ার কোন কারণ নাই”। এই দেশে সব সিদ্ধান্তই হুইমজিক্যাল এবং দেশের রাজা রানী সেসব সিদ্ধান্ত অবস্থা বুঝে নিয়ে থাকেন। অনেকটা হিন্দী সোপ অপেরার মতো... আমরা আগে থেকেই অনেকটা আঁচ করতে পারি, তবুও যখন ঘটনা টা ঘটে খুব অবাক হওয়ার ভান করি।নাহলে যে মজাটাই নষ্ট!

আমরা যারা সাধারন মানুষ, তারা টিভি সেট এর সামনে বসে কিছু বিক্রিত এবং কিছু বিক্রির অপেক্ষায় থাকা স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবির কথা শুনে কল্পনার জাল বুনতে থাকি। ফেইসবুকে নোটস আর কমেন্ট এর ঝড় বইয়ে দেই আর ভাবতে থাকি “হুম দেশটা আসলে পরিবর্তিত হচ্ছে”! ফেইসবুকের ওয়াল আর ঢাকা কে-ই মনে করি বাংলাদেশ! ঠিক যেভাবে আমাদের দুই রাজ পরিবার মনে করে তাদের দলীয় কর্মীরাই হচ্ছে “জাতি”। হররোজ আমরা অবাক হয়ে শুনি “জাতি আজ সন্তুষ্ট/ জাতি আজ অমুক চায়, তমুক চায়না”; আর ভাবি, আমি কি জাতির অংশ? না রে ভাই, আপনি জাতির “এক্সট্রা”।

গণতন্ত্র নামধারী এক অদ্ভুত হাইব্রিড পরিবারতন্ত্রের খাঁচায় আটকে থেকে আমরা দেখতে থাকি কিভাবে একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ হয়। মাঝে মাঝে এক্সট্রা হিসেবে আমাদেরও ডাক পড়ে বিভিন্ন চত্বরে। আমরা যাই সেখানে, স্ট্যাটাস দেই “দোস্ত! আজকের মোম্বাতি ইভেন্ট টা জোস ছিল! তুই মিস করলি!”। আমার চালাক বন্ধুরা অবশ্য এইসব ফালতু ছেলেমানুষি তে নেই। তারা আশা করে বসে থাকে, এইবার একটা পরিবর্তন আসবেই…!

দিনশেষে এইসব মানুষের কাছে টিভি সাংবাদিক রা এসে অবশ্য জিজ্ঞেস করেনা - “প্রতারিত হওয়ার পর আপনার অনুভূতি কি?”...। আর আমি বোকা হয়ে বেঁচে যাই! ইগ্নোরান্স ইজ ব্লিস!

ইদানিং এত নাটক হচ্ছে যে ট্র্যাক রাখা কঠিন... যখন যে নাটক হয়, শুধু সেটা নিয়ে কথা বলাটাই স্মার্টনেস। আর এটার সুযোগ ই নিচ্ছে আমাদের চিকন বুদ্ধির পরিবারগুলো। আপনি নিশ্চয়ই গত দুইদিনে ভাবার সুযোগ পান নি রানা প্লাজা কিংবা পদ্মা সেতু কিংবা সাগর রুনির কথা? কারন পরিবারগুলো আপনার জন্য নতুন নাটক নিয়ে সবসময় প্রস্তুত! বাঙ্গালীর ইতিহাসের নির্লজ্জতম এই রায়কে চাপা দেয়ার নাটক তৈরীতে তাঁরা এখন নিশ্চয় খুব ব্যস্ত... টেলিভিশন চ্যানেল গুলোও অন্যান্য নাটকগুলোকে জায়গার অভাবে রিসাইকেল বিন এ থ্রো করেছে।

এই লোকটা বলেছিল “বাংলাদেশ নামের কিছু হলে সে আত্মহত্যা করবে! আর তাকে এখন “বুড়ো কোটায়” ছেড়ে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। হাহাহা! আপনিও হাসলেন নাকি? হাহাহা, সাবধান, পরিবারগুলো কিন্তু এখন সোস্যাল মিডিয়া তেও চোখ রাখছে!

আমি বলি শুনুন, হাসি বন! এটা ওইসব ছোটখাট নাটক নয়! এখানে আমার আপনার এক্সট্রা হিসেবেও ডাক পড়বেনা! ওদেরকে খেলতে দিন, আমাদের খেলার সময়ও আসছে! আমরা ৫ বছরের জন্য আরেকটা পরিবারের হাতে দেশের নাটক তৈরির দায়িত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দেব আপনাদের গুলো ভালো হয়নি! আমাদের আরও সুযোগ দেয়া উচিৎ ছিল। =p~

কি ভাবছেন?হতাশ লোকের প্রলাপ? এদেশে নিরপেক্ষতার ভান ধরে অনেক দলীয় বুদ্ধিজীবী, বাম রা যোগ দেয় মূলধারায় (তাও তাঁরা নাকি বাম! ), ধর্ম এখানে ব্যবসাদ্রব্য আর রাজনীতির অস্ত্র! তারপরও আমরা হতাশ পর্যন্ত হতে পারবনা?আসুন তাহলে কিছু আশার কথা শুনাই!

সবাই শুনছে তো? ঐযে আপনি! শুনুন মশাই, সারাদিন খেটে কাজ করে এসে আমাদের তেমন কোনো “কাজ” নেই, আমরা তাই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব খবর পড়ি। আপনাদের ভাড়াটে রা যেসব প্রচার করে, সেগুলোর বাইরেও! আমাদের মাথাগুলো কল্পকাহিনী দেখে দেখে অনেক শার্প হয়ে গেছে, সুতরাং আমরা চট করে কোনওকিছু ভূলেও যাইনা। সব মনে আছে আমাদের! সব!

হাসছেন? ভাবছেন তবু কেন আপনাদেরই ভোট দেই? অপেক্ষায় আছি রে ভাই! কবে বুদ্ধিজীবিরা বিক্রি হওয়া বন্ধ করে এদেশের দায়িত্ব নেবেন...কবে এইট পাশ লোকের নিয়ন্ত্রন থেকে বেরিয়ে আসবে আমাদের সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী! সেদিন! সেদিন দেখিয়ে দেব! সব রাজাকার আর কুচক্রীদের কে ফাঁসি দিতে আমাদের পাঁচ বছর লাগবেনা!

ওহ আপনি! হ্যাঁ পারিবারিক বুদ্ধিজীবী! শুনুন, আপনি যেসব কঠিন কঠিন টার্ম ব্যবহার করে ভাবলেন ফ্রুটো জুস খাওয়া আমজনতা কিছুই বুঝবেনা, ওইসব আমরা মিনিটেই গুগল করে আপনাদের নিয়ে হাসাহাসি করি! সো কিপ ইয়োর “সেলফ অ্যাসেসড” ইন্টেলিজেন্স টু ইয়োরসেলফ! বিক্রি যখন হয়েই গেছেন, ভোগে লাগুন!কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।

আমার লেখায় অনেক ক্ষোভ এসে পড়েছে। অনেক বিবেকবান মানুষও টক শো করে...সাহসী কথা বলে... ইচ্ছে করছে কিছু কথা মুছে দেই তাঁদের সম্মানে; আমাদের এইসব স্বপ্ন যারা বাচিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এত এত সাহসী আর প্রিয় মানুষ কে, অধ্যাপক কে বিক্রি হয়ে যেতে দেখেছি যে... মনে হচ্ছে এতটুকু অভিমান প্রকাশ তেমন দোষের কিছু না।

গণতন্ত্রের মত ব্যয়বহুল একটা পদ্ধতিতে ৫ বছর পরপর পরিবার বদল না করে আসুন একটা সমাধানে আসি। যতদিন আমাদের মেরুদন্ড এরকম ভাঙ্গা থাকবে, যতদিন রেনেসাঁ আমাদের গনতান্ত্রিক চেতনাকে শুদ্ধতা না দিতে পারবে, আপনারা দুই পরিবার একসাথে এই দেশটাকে লুটে খান। তবু ঝগড়া করে (পড়ুন হরতাল) আমাদের তৈরি হতে থাকা তরুণদের কশেরুকা গুলো ভাংবেন না প্লিজ! ৩০০ লোকের এক রুমের অশ্লীল নাটক গুলোতে আমাদের আর গালি শিখাবেন না, ওগুলো পরে কিন্তু আপনাদেরই শুনতে হবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ২:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×