somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুয়াশায় শাদা ঘোড়া – সৈয়দ শামসুল হক

২৩ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ট্র্যাজিক উপন্যাসটির প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি, ২০১৫।

একজন দুঃখিনী মায়ের গল্প রয়েছে এতে। অসামান্য দারিদ্রপীড়িত পরিবারের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে। শিশুবয়স থেকেই অন্যের বাড়িতে প্রতিপালিত হন এবং জামালমিয়ার সাথে বিবাহের পূর্বপর্যন্ত তাদের দাসীবৃত্তি করে পেট চালান। বিয়ের পর ট্রাকড্রাইভার স্বামীর নিপীড়ন আর অবহেলায় দুঃখদুর্দশার মধ্য দিয়ে কোনমতে সংসারটা টেনে নিয়ে যেতে থাকেন আম্বিয়া। স্বামীর অত্যাচারেই খুঁজে নিতে থাকেন সুখ। পতিতাগমন থেকে শুরু করে স্বামীর সিফিলিস রোগকেও মেনে নেয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলার সহনশীলা নারীর পরিচয়ই মূর্ত হয় আম্বিয়া চরিত্রে। স্বামীসুখ বঞ্চিতা আম্বিয়াও পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে পরপুরুষে আসক্ত হয়ে পড়েন। মায়ের মৃত্যুশয্যায় বসে সবই জানতে পারে তার সাংবাদিক ছেলে। এমনকি তার আসল পিতৃপরিচয়ও আর গোপন থাকে না। জলেশ্বরীতে ট্রাকব্যবসায়ী আমিনুদ্দির ঔরসজাত সন্তান সে!

উপন্যাসের কাহিনীকথক আম্বিয়ার ছেলে রংপুরের চাচার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে চাচাত বোন টগরের সাথে প্রেম হয়ে আশ্রয়হীন হন। টিউশনি এবং পরে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেন। মায়ের সম্পূর্ণ জীবনাচরণের সুখদুঃখের দিকগুলি তিনি বুঝতেন। মা হয়তো তার কাছে প্রকাশ করতেন না তবুও তিনি বুঝতেন কি ব্যথা বুকে চেপে রেখে তিনি ছেলেকে মানুষ করছেন। ট্র্যাজিক এই উপন্যাসের শুরুতেই আছে “আমার মাকে আজ মাটি দিয়ে ফিরলাম। গর্ভে তিনি ধরেছিলেন। কতনা দুঃখের সহন তাঁর গেছে আমাকে নিয়ে। বুঝি তাঁর জীবনকে নিয়েই! যে-জীবনের ছবি আমি এখন আমি একটু একটু করে গড়ে তুলছি। আমি জানি এখন হবে এই আমার কাজ। তাঁর জীবনের গল্পটা শেষ পর্যন্ত যে আমারই গল্প হয়ে উঠবে, এটিও এখন আমি অনুমান করে উঠেছি।”

লেখক চমৎকার রূপক নামকরণ করেছেন উপন্যাসের। কুয়াশায় শাদা ঘোড়াটি যেন মহাকালের প্রতিচ্ছবি। ঘটনাচক্রে সেই ঘোড়া থমকে দাঁড়ায় আবার ছোটার প্রস্তুতি নেয়। বস্তুত পা উঠিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়া এক বিভ্রম সৃষ্টি করে পাঠকের মনে। উপন্যাসের শেষটুকু উদ্ধৃত করছি যাতে নামকরণের কার্যকরণ কিছুটা সহজবোধ্য হয় “হয়তো আজ রাতে স্বপ্ন আবার পাবো। সেই স্বপ্ন। কুয়াশায় শাদা ঘোড়া! কুয়াশা নয়, স্বপ্নে আমি জ্যোছনা কুয়াশা এক করে ফেলেছি। ওটি জ্যোছনাই। সেই জ্যোছনা! সেই রা পূর্ণিমার জোছনা রাতে টগরের হাতখানি হাতের ভেতরে নিয়ে চাঁদের দিকে আমাদের দুজনের অপলক তাকিয়ে থাকা।
ঘোড়াটিও আমাদেরই মতো স্বপ্নবিহ্বল হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে ছিলো পা তুলে।
আজ রাতে স্বপ্নটা যদি ফিরে আসে, হয়তো দেখবো পা নামিয়ে নিয়েছে, ঘোড়াটি চলতে শুরু করেছে।”

শুরুতে কাহিনী কিছুটা ধীরগতির মনে হচ্ছিল। তবে ধীরে ধীরে কাহিনীর ভিতরে প্রবেশ করতেই নিজেকে আবিষ্কার করলাম ছেলের চরিত্রে। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জীবনদর্শনের নানা দিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে উপন্যাসজুড়েই। লেখনীর শক্তি টের পেলাম যখন উপন্যাসের শেষ পাতায় আমার চোখের চল টলে উঠল।

সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ রইল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ২:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×