somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকার!!

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটি সুদৃঢ়
বন্ধন। আল্লাহ তাআলা এর চির স্থায়িত্ব
পছন্দ করেন, বিচ্ছেদ অপছন্দ করেন। এরশাদ
হচ্ছে:
‘তোমরা কীভাবে তা (মোহরানা) ফেরত
নিবে? অথচ তোমরা পরস্পর শয়ন সঙ্গী হয়েছ
এবং তোমাদের নিকট সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ
করেছে।’ [নিসা : ২১]
এ চুক্তিপত্র ও মোহরানার কারণে ইসলাম
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে কতক
দায়দায়িত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। যা
বাস্তবায়নের ফলে দাম্পত্য জীবন সুখী ও
স্থায়ী হবে—সন্দেহ নেই। সে সব অধিকারের
প্রায় সবগুলোই সংক্ষেপ আকারে বর্ণিত
হয়েছে কোরআনের আয়াতে:
‘যেমন নারীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমন
তাদের জন্যও অধিকার রয়েছে ন্যায্য-
যুক্তিসংগত ও নীতি অনুসারে। তবে
নারীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব পুরুষদের। আল্লাহ
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ [বাকারা : ২২৭]
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বর্ণনা করেছেন
যে, প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের অধিকার
রয়েছে। যদিও আনুগত্য এবং রক্ষনা-বেক্ষন ও
অভিভাবকত্বের বিবেচনায় শ্রেষ্ঠত্ব
পুরুষদের। এখানে আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের
মাঝে বিরাজমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার
স্তর ও মানের ভিত্তিতে উল্লেখ করছি।
প্রথমত:
যে সব অধিকারের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী
উভয়ে সমান:
১ দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সততা,
বিশ্বস্ততা ও সদ্ভাব প্রদর্শন করা।
যাদের মাঝে নিবিড় বন্ধুত্ব, অঙ্গাঙ্গি
সম্পর্ক, অধিক মেলামেশা, সবচেয়ে বেশি
আদান-প্রদান তারাই স্বামী এবং স্ত্রী। এ
সম্পর্কের চিরস্থায়ী রূপ দিতে হলে ভাল
চরিত্র, পরস্পর সম্মান, নম্র-ভাব, হাসি-কৌতুক
এবং অহরহ ঘটে যাওয়া ভুলচুক ক্ষমা সুন্দর
দৃষ্টিতে দেখা অবশ্যম্ভাবী। এবং এমন সব
কাজ, কথা ও ব্যবহার পরিত্যাগ করা, যা
উভয়ের সম্পর্কে চির ধরে কিংবা
মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন:
‘তাদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে আচরণ
কর।’ [নিসা : ১৮]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেনঃ ‘তোমাদের মাঝে যে নিজের
পরিবারের কাছে ভাল, সেই সর্বোত্তম।
আমি আমার পরিবারের কাছে ভাল।’ [ইবনে
মাজাহ : ১৯৬৭]
পরস্পর সদ্ভাবে জীবন যাপন একটি ব্যাপক
শব্দ। এর মাঝে সমস্ত অধিকার বিদ্যমান।
২ পরস্পর একে অপরকে উপভোগ করা।
এর জন্য আনুষঙ্গিক যাবতীয় প্রস্তুতি ও সকল
উপকরণ গ্রহণ করা। যেমন সাজগোজ, সুগন্ধি
ব্যবহার এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ
দুর্গন্ধ ও ময়লা কাপড় পরিহার ইত্যাদি।
স্বামী স্ত্রী প্রত্যেকের এ বিষয়গুলোর
প্রতি লক্ষ্য রাখা। অধিকন্তু এগুলো সদ্ভাবে
জীবন যাপনেরও অংশ।ইবনে আব্বাস রা.
বলেনঃ ‘আমি যেমন আমার জন্য স্ত্রীর
সাজগোজ কামনা করি, অনুরূপ তার জন্য
আমার নিজের সাজগোজও পছন্দ করি।’
তবে পরস্পর এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
উভয়কেই হারাম সম্পর্ক ও নিষিদ্ধ বস্তু হতে
বিরত থাকতে হবে।
৩ বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা
করা।
সাংসারিক সমস্যা নিয়ে অন্যদের সাথে
আলোচনা না করাই শ্রেয়। স্বামী-স্ত্রীর
মাঝে উপভোগ্য বিষয়গুলো গোপন করা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে
সর্ব-নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে নিজের স্ত্রীর
সাথে মিলিত হয় এবং যার সাথে তার স্ত্রী
মিলিত হয়, অতঃপর সে এর গোপনীয়তা
প্রকাশ করে বেড়ায়। [মুসলিম : ২৫৯৭]
৪ পরস্পর শুভ কামনা করা, সত্য ও ধৈর্যের
উপদেশ দেয়া।
আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে একে অপরকে
সহযোগিতা করা। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একে
অপর থেকে উপদেশ পাওয়ার অধিক হকদার।
দাম্পত্য জীবন রক্ষা করা উভয়েরই কর্তব্য।
আর এর অন্তরভূক্ত হচ্ছে, পরস্পর নিজ
আত্মীয়দের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার
ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করা ।
সন্তানদের লালন-পালন ও সুশিক্ষার
ব্যাপারে উভয়েই সমান, একে অপরের
সহযোগী। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘তোমরা
সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যপারে পরস্পরকে
সহযোগিতা কর।’ [মায়েদা : ২]
দ্বিতীয়ত :
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্যঃ
সুখকর দাম্পত্য জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার,
পরার্থপরতায় ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর
বন্ধন অটুট রাখার স্বার্থে ইসলাম জীবন
সঙ্গিনী স্ত্রীর উপর কতিপয় অধিকার
আরোপ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এখানে
প্রদত্ত হল।
১. স্বামীর আনুগত্য :
স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর কর্তব্য। তবে
যে কোন আনুগত্যই নয়, বরং যেসব ক্ষেত্রে
আনুগত্যের নিম্ন বর্ণিত তিন শর্ত বিদ্যমান
থাকবে।
(ক) ভাল ও সৎ কাজ এবং আল্লাহর বিধান
বিরোধী নয় এমন সকল বিষয়ে স্বামীর
আনুগত্য করা। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর
অবাধ্যতায় কোন সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়।
(খ) স্ত্রীর সাধ্য ও সামর্থ্যরে উপযোগী
বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা। কারণ আল্লাহ
তাআলা মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে
অতিরিক্ত দায়িত্বারোপ করেন না।
(গ) যে নির্দেশ কিংবা চাহিদা পূরণে কোন
ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, সে ব্যাপারে
স্বামীর আনুগত্য করা।
আনুগত্য আবশ্যক করে পবিত্র কোরআনে
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘নারীদের উপর
পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের
অধিকারী।’ [বাকারা : ২২৭]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: ‘পুরুষগণ
নারীদের উপর কর্তৃত্বকারী। কারণ আল্লাহ
তাআলা-ই তাদের মাঝে তারতম্য ও
শ্রেষ্ঠত্বের বিধান রেখেছেন। দ্বিতীয়ত
পুরুষরাই ব্যয়-ভার গ্রহণ করে।’ [নিসা : ৩৪]
উপরন্তু এ আনুগত্যের দ্বারা বৈবাহিক জীবন
স্থায়িত্ব পায়, পরিবার চলে সঠিক পথে।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম স্বামীর আনুগত্যকে এবাদতের
স্বীকৃতি প্রদান করে বলেন—
যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান
মাসের রোজা রাখে এবং নিজের
লজ্জাস্থান হেফাজত করে ও স্বীয় স্বামীর
আনুগত্য করে, সে,নিজের ইচ্ছানুযায়ী
জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ভেতরে
প্রবেশ করবে। [আহমাদ : ১৫৭৩]
স্বামীর কর্তব্য, এ সকল অধিকার প্রয়োগের
ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের অনুসরণ করা।
স্ত্রীর মননশীলতা ও পছন্দ-অপছন্দের
ভিত্তিতে সত্য-কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের
উপদেশ প্রদান করা কিংবা হিতাহিত
বিবেচনায় বারণ করা।উপদেশ প্রদান ও বারণ
করার ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ ও উন্নত
মননশীলতার পরিচয় দেয়া । এতে সানন্দ
চিত্তে ও স্বাগ্রহে স্ত্রীর আনগত্য পেয়ে
যাবে।
২. স্বামী-আলয়ে অবস্থান:
নেহায়েত প্রয়োজন ব্যতীত ও অনুমতি ছাড়া
স্বামীর বাড়ি থেকে বের হওয়া অনুচিত।
মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা
শ্রেষ্ঠ নারীদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ
দিয়েছেন। তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীদের
সম্বোধন করে বলেন—সকল নারীই এর
অন্তর্ভুক্তঃ ‘তোমরা স্ব স্ব গৃহে অবস্থান কর,
প্রাচীন যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের মত
নিজেদের কে প্রদর্শন করে বেড়িও না।
’ [আহজাব : ৩৩]
স্ত্রীর উপকার নিহিত এবং যেখানে তারও
কোন ক্ষতি নেই, এ ধরনের কাজে স্বামীর
বাধা সৃষ্টি না করা। যেমন পর্দার সাথে,
সুগন্ধি ও সৌন্দর্য প্রদর্শন পরিহার করে
বাইরে কোথাও যেতে চাইলে বারণ না করা।
ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন: আল্লাহর বান্দিদেরকে তোমরা
আল্লাহর ঘরে যেতে বাধা দিয়ো না।
[বুখারী: ৮৪৯ ]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা: এর স্ত্রী যয়নব
সাকাফী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলতেন:
তোমাদের কেউ মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছে
করলে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। [মুসলিম :
৬৭৪]
৩. নিজের ঘর এবং সন্তানদের প্রতি খেয়াল
রাখাঃ
স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ করা। স্বামীর
সাধ্যের অতীত এমন কোন আবদার কিংবা
প্রয়োজন পেশ না করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ স্ত্রী স্বীয়
স্বামীর ঘরের জিম্মাদার। এ জিম্মাদারির
ব্যাপারে তাকে জবাবদেহিতার সম্মুখীন
করা হবে।’ [বুখারী: ২৫৪৬]
৪. নিজের সতীত্ব ও সম্মান রক্ষা করাঃ
পূর্বের কোন এক আলোচনায় আমরা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
একটি হাদিস এ মর্মে উল্লেখ করেছি যে,
নিজেকে কখনো পরীক্ষা কিংবা ফেতনার
সম্মুখীন না করা।
৫. স্বামীর অপছন্দনীয় এমন কাউকে তার ঘরে
প্রবেশের অনুমতি না দেয়াঃ
হোক না সে নিকট আত্মীয় কিংবা আপনজন।
যেমন ভাই-বেরাদার। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
‘তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে বিছানায়
জায়গা না দেয়া স্ত্রীদের কর্তব্য।’ [মুসলিম
: ২১৩৭]
স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত
নফল রোজা না রাখা। কারণ, রোজা নফল—
আনুগত্য ফরজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেনঃ নারীর জন্য স্বামীর
উপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া রোজা রাখা
বৈধ নয়। অনুরূপ ভাবে অনুমতি ব্যতীত তার
ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়াও বৈধ নয়।
[বুখারী : ৪৭৬৯]
তৃতীয়ত :
স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য, সুখকর দাম্পত্য
জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার, পরার্থপরতায় ঋদ্ধ ও
সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অটুট রাখার
স্বার্থে ইসলাম জীবন সঙ্গী স্বামীর উপর
কতিপয় অধিকার আরোপ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ
কয়েকটি এখানে প্রদত্ত হল।
১. দেন মোহর
নারীর দেন মোহর পরিশোধ করা ফরজ। এ হক
তার নিজের, পিতা-মাতা কিংবা অন্য
কারো নয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘তোমরা
প্রফুল্ল চিত্তে স্ত্রীদের মোহরানা দিয়ে
দাও।’ [নিসা : ৪]
২. ভরন পোষণ
সামর্থ্য ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী স্ত্রীর
ভরন-পোষণ করা স্বামীর কর্তব্য। স্বামীর
সাধ্য ও স্ত্রীর মর্তবার ভিত্তিতে এ ভরন-
পোষণ কম বেশি হতে পারে।অনুরূপ ভাবে
সময় ও স্থান ভেদে এর মাঝে তারতম্য হতে
পারে।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “বিত্তশালী
স্বীয় বিত্তানুযায়ী ব্যয় করবে। আর যে
সীমিত সম্পদের মালিক সে আল্লাহ প্রদত্ত
সীমিত সম্পদ হতেই ব্যয় করবে। আল্লাহ
যাকে যে পরিমাণ দিয়েছেন, তারচেয়ে’
বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে প্রদান
করেন না।” [তালাক : ৭]
৩. স্ত্রীর প্রতি স্নেহশীল ও দয়া-পরবশ
থাকা
স্ত্রীর প্রতি রূঢ় আচরণ না করা। তার সহনীয়
ভুলচুকে ধৈর্যধারণ করা। স্বামী হিসেবে
সকলের জানা উচিত, নারীরা মর্যাদার
সম্ভাব্য সবকটি আসনে অধিষ্ঠিত হলেও,
পরিপূর্ণ রূপে সংশোধিত হওয়া সম্ভব নয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেন : “তোমরা নারীদের ব্যাপারে
কল্যাণকামী। কারণ, তারা পাঁজরের হাড়
দ্বারা সৃষ্ট। পাঁজরের উপরের হাড়টি সবচে’
বেশি বাঁকা। (যে হাড় দিয়ে নারীদের সৃষ্টি
করা হয়েছে) তুমি একে সোজা করতে
চাইলে, ভেঙে ফেলবে। আবার এ অবস্থায়
রেখে দিলে, বাঁকা হয়েই থাকবে। তাই
তোমরা তাদের কল্যাণকামী হও, এবং
তাদের ব্যাপারে সৎ-উপদেশ গ্রহণ
কর।” [বুখারি]
৪. স্ত্রীর ব্যাপারে আত্মমর্যাদাশীল হওয়া
হাতে ধরে ধরে তাদেরকে হেফাজত ও সুপথে
পরিচালিত করা। কারণ, তারা সৃষ্টিগতভাবে
দুর্বল, স্বামীর যে কোন উদাসীনতায়
নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অপরকে
ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম নারীর ফেতনা হতে খুব যতœ
সহকারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেনঃ
‘আমার অবর্তমানে পুরুষদের জন্য নারীদের
চে’ বেশি ক্ষতিকর কোন ফেতনা রেখে
আসিনি।’ [বুখারী:৪৭০৬]
নারীদের ব্যাপারে আত্মম্ভরিতার প্রতি
লক্ষ্য করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেনঃ ‘তোমরা সা’আদ এর আবেগ
ও আত্মসম্মানবোধ দেখে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ।
আমি তার চে’ বেশি আত্মসম্মানবোধ
করি,আবার আল্লাহ আমারচে’ বেশি
অহমিকা সম্পন্ন।’ [মুসলিম : ২৭৫৫]
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,
যার মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ নেই সে দাইয়ূছ
(অসতী নারীর স্বামী, যে নিজ স্ত্রীর
অপকর্ম সহ্য করে)। হাদিসে এসেছেঃ
‘দাইয়ূছ জান্নাতে প্রবেশ করবে
না।’ [দারামি : ৩৩৯৭]
মানুষের সবচেয়ে বেশি আত্মমর্যাদার বিষয়
নিজের পরিবার। এর ভেতর অগ্রাধিকার
প্রাপ্ত স্বীয় স্ত্রী। অতঃপর অন্যান্য
আত্মীয় স্বজন এবং অধীনস্থগণ।
পরিশেষে নির্ঘাত বাস্তবতার কথা স্বীকার
করে বলতে হয়, কোন পরিবার সমস্যাহীন
কিংবা মতবিরোধ মুক্ত নয়। এটাই মানুষের
প্রকৃতি ও মজ্জাগত স্বভাব। এর বিপরীতে
কেউ স্বীয় পরিবারকে নিষ্কণ্টক অথবা
ঝামেলা মুক্ত কিংবা ফ্রেশ মনে করলে, ভুল
করবে। কারণ, এ ধরাতে সর্বোত্তম পরিবার
কিংবা সুখী ফ্যামিলির একমাত্র উদাহরণ
আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম-এর পরিবার ও ফ্যামিলি।
সেখানেও আমরা মানবিক দোষ-ত্রুটির চিত্র
দেখতে পাই, অন্য পরিবারের পবিত্রতা
কোথায় ?
জ্ঞানী-গুণীজনের স্বভাব ভেবে-চিন্তে
কাজ করা, ত্বরা প্রবণতা পরিহার করা,
ক্রোধ ও প্রবৃত্তিকে সংযমশীলতার সাথে
মোকাবিলা করা।কারণ, তারা জানে যে
কোন মুহূর্তে ক্রোধ ও শয়তানের প্ররোচনায়
আত্মমর্যাদার ছদ্মাবরণে মারাত্মক ও কঠিন
গুনাহ হয়ে যেতে পারে।যার পরিণতি
অনুসূচনা বৈকি? আবার এমনও নয় যে, আল্লাহ
তাআলা সমস্ত কল্যাণ ও সুপথ বান্দার
নখদর্পে করে দিয়েছেন। তবে অবশ্যই তাকে
মেধা, কৌশল ও বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×