somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনকমন ভালবাসা

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাই বোনের মধ্যে কথোপকথন ..
.
- এই ভাইয়া।
- কোন সাড়া শব্দ নাই।
- এই ভাইয়া ওঠ। [ধাক্কা মেরে]
- কোন কথা নাই।[বিঘোরে
ঘুমাচ্ছে]
.
কোন দিশা না পেয়ে বোনটা
তার ভাইয়ের গায়ের উপর পানির
ছিটাতে লাগর। গায়ে ঠান্ডা
অনুভূত হওয়াই ভাইটা আড়মোড়
ভেঙ্গে.....
.
- হু কে? কী? কখন? কোথায়? কী
হইছে?
- তোর ঘাড় ভেঙ্গে গেছে।
- কই? ঘাড় তো আমার ঠিকই আছে।
আর তুই কিরে? একটু শান্তি করে
ঘুমুতেও দিবি না??
- আমি তোর যম। বেলা কয়টা
বাজে দেখছিস??
- কেমনে দেখুম। মুই তো ঘুমুতে
আছিলাম। [একটু আহ্লাদি স্বরে]
- ঘড়ি দেখ। সাড়ে নয়টা বাজে ।
কলেজ রেখে আসবি না??
- ওহ ! মনেই ছিল না। আচ্ছা তুই
রেডি হয়ে নে, আমি ফ্রেশ হয়ে
নাস্তা করে আসতেছি।
- হু। তাড়াতাড়ি কর।
.
এই গল্পের ভাইটা হলাম আমি আর
বোনটা আমার কিউট ১ মাত্র
ছোট বোন।রোজ রোজ তাকে
আমার কলেজে রেখে আসতে
হবে। আর আমার ঘুমটাও ভাঙে
তার ডাকেই। যদি কোন কাজ
থাকে আর সেজন্য যদি বলি আজ
পারব না। তবে তো সে
রাজকন্যা থেকে রাগ কন্যা হয়ে
যায়।সেদিন আর আমার ভাগ্যে
তার সাথে কথা বলা যুটে না।
[ভাবছেন রাজকন্যা টা আবার
কে আরে মশাই বোনটার কথা
বলছি তো]
.
একদিন কলেজ রেখে আসার সময়..
তার কথা....
.
- ভাইয়া চারশত টাকা দে।
- কেন??
- এমনিতেই।দিবি কিনা বল??
- না। দেব না।[ রাগানোর জন্য]
- ওকে। থাক লাগবে না।[মনটা
খারাপ করে]
- হু।
.
যানি পাগলিটা খুব অভিমান
করেছে।তবুও তখন দিলাম না।
বাড়ি এসে আমার সাথে কথাও
বলে নাই।এবার চুপিচুপি তার
ব্যাগে পাঁচশ টাকা রেখে
দিলাম ওকে না জানিয়ে।
অভিমানের কারনে পরদিন
কলেজে সে একাই গেছে।
আমাকে ডাকেও নাই।
.
কলেজ থেকে এসে সরাসরি
আমার ঘরে.......
- ভাইয়া তুমি টাকা
দিয়েছিলে? আমাকে বলো নাই
কেন??
- হ্যা দিয়েছিলাম।আর এমনি ই
বলি নাই। তবে ভাবছি একটা
কথা।
- কি কথা?
- আরে সিরিয়াস কিছু না।
ভাবছি আজ সূর্য টা কোন দিক
থেকে উঠেছে??
- কেন?? পূর্ব দিকেই তো উঠেছে।
- না এমনি। আমার পাগলি আপুটা
আমাকে তুমি করে বলছে কেন??
- ভাইয়া তুমি না।[লজ্জা পেয়ে]
- এই পাগলি তোর টাকা লাগবে
আর আমি টাকা দেব না। তা কি
হয়?
- হু। বাদ দাও।আর এগুলো ধরো।
- কী এগুলো??
- এই তোমার বাকি একশ টাকা
আর একটা ঘড়ি।
ওই দিন কলেজ থেকে আসার সময়
ঘড়িটা দেখছিলাম ভাবলাম
তোমার টাকায় তোমাকেই
ঘড়িটা গিফ্ট দেব।এবার এটা
পড়ো আর বলো কেমন হয়েছে
ঘড়িটা??
- খুব সুন্দর হয়েছে। তুই পড়িয়ে দে।
[সাথে চারশ টাকা ও দিলাম]
ও ঘড়িটা পড়িয়ে দিল।
আর বল্ল যে
- টাকা কেন??
- রাখ তোর কাজে লাগবে।
- ভাইয়া তুমি কতও ভাল।
একেবারে আমার লক্ষি ভাইয়া।
- হইছে । আর পাম দেওয়া লাগবে
না।
- হুহ।
.
এভাবেই আমাদের ভাইবোরের
সম্পর্ক চলছিল।
.
বছর তির পর।
.
মা বাবা ওর বিয়ের জন্য পাত্র
খুজতে লাগল।খুজে খুজে ভাল
পাত্রও পাওয়া গেল। বিয়ে ঠিক
হয়ে গেল।
.
বিয়ের দিন
.
সারাদিন টুকটাক কাজকর্ম
করলাম। কিন্তু বিদায়ের সময় আর
ঐ দিকে গেলাম না। চলে
গেলাম ছাদে। ছাদ থেকে
শুনতেছি পাগলি বোনটা
কাদতেছে। আমারও চোখ বেয়ে
নোনা জলের ধারা ঝরছে।এই
পাগলিবোনটা ছাড়া যে
আমাকে থাকতে হবে তা ভাবি
নাই কখনও। তবু মনটাকে শান্তনা
দিলাম। "একটা মেয়ে তো
সারা জীবন তার বাবার
বাড়িতে কাটাতে পারে না"।
.
২ বছর পর
.
আজ পাগলিটা হাসপাতালে।
আমাদের ১ টা কিউট রাজকন্যা
উপহার দিছে সে। কিন্তু ওর শ্বশুর,
শ্বাশুরি,ওর বর, মা, বাবা ,আমি.
.সবাই কাদছি।বোনটা আর নেই।
নিজে চলে গেল কিন্তু দিয়ে
গেল ভালবাসার ১ টা সোনার
হরিণ।ভালবাসার দিনগুলি যে
কেন এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে
যায়? ?
.
না ভালবাসা শেষ হয় নাই। এক
ভালবাসা বিদায় নিছে ঠিকই
তবে আগমন হয়েছে নতুন
ভালবাসার। যেটা পূর্বের
ভালবাসাকে নতুন রুপে নতুন
সাজে পুনরুজ্জিবীত করেছে।
ওহ রাজকন্যার নাম টা হল
"নীলিমা"। সারাক্ষন
দুষ্টামিতে মেতে থাকে। হ্যা ও
কথা বলতে শিখেছে। সেদিন
আমারে বলল যে,...
.
- মামা মামা । দেখ আমি আজ না
দেখলাম আমাদের বাড়ির পাশে
যে পুকুর টা আছে না।ওটাতে
আগুন ধরেছিল"।[কত সুন্দর সত্তি
কথা]
- হ্যা রে মা দেখলাম তো।
- মাম্মা তুমি না খুব ভাল।
- হুম।
.
.
দোয়া করিয়েন আমার
ভাগিনিটা জন্য।একে যেন
আবার বোনটার মত হারাতে না
হয়। চলুক না তার দুষ্টামির সাথে
আমার ভালবাসা।
.
ফিলিংস: মামা হইছিরে! কেউ
ভাগিনীটাকে ১ টা সত্তি কথা
শেখা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৯:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×