বন্ধুরা আজ আমি একটি ছোট্র ঘটনা তোমাদের সাথে শেয়ার করবো।
একটি ছেলে ছিল যার নাম রিহান। সে মোটামুটি মেধাবী ছাত্র হিসাবে পরিচিত ছিল। সবাই তাকে আদরও করত। রিহানের পরিবারে ছিল তারা দুই ভাই, ভাবী এবং আম্মা আব্বা। সে যেমন ভালো ছাত্র ছিল তেমনি ছিল দুষ্ট। সারাক্ষন বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মেতে থাকত। সে সহজে কোন বন্ধুর বাসায় যেত না। রিহান যখন মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করে হঠাৎ একদিন তার বন্ধু মাহমুদের বাসায় গেল এবং একটা মেয়েকে দেখে তার ভাল লেগে গেল। সে তার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল মেয়েটা কে তার বন্ধু উত্তর দিল তার ছোট বোন এবং তার নাম রামিসা। রিহান নিজেকে সামলে নিল কিন্তু তার মন থেকে কেন জানি সে বন্ধুর বোনের ছবিটা মুছতে পারছিল না। সে অনেক চিন্তায় পড়ে গেল কারন মাহমুদ তার অনেক ভাল বন্ধু, তার চিন্তা ছিল সে যদি তার বন্ধুর বোনকে ভালোবাসে তাহলে তার বন্ধুত্বরে প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হবে এই ভেবে সে কিছু আর বলল না কিন্তু সে মনে মনে রামিসাকে ভালোবাসতে থাকল। রিহানের মাহমুদের বাসায় যাতায়াত বেড়ে গেল। রামিসার সাথে রিহানের কথা হতো তবে এবং তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে হালকা মজা করা হত তবে বেশি নয়। যেমন মাহমুদের বাসায় গেলেই রামিসা জিজ্ঞেস করত রিহান ভাই কেমন আছেন, আর রিহান উত্তর দিত হে ভাল আছি তুই ভাল আছিস নাকি চুন্নি। চুন্নি বলারও কারন আছে একদিন রামিসা ভুল করে মাহমুদের মানিব্যাগ মনে করে রিহানের মানিব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে গিয়েছিল। সেটা আবার মাহমুদ দেখে তখন থেকে দেখা হলেই রিহান মজা করে বলে চুন্নি আর রামিসা রিহানকে বলত পকেটমার। এক অদ্ভুদ ভালোলাগার মোহে রিহান পড়ে গিয়েছিল, যেখানে তার কিছু বলার নাই, তার কিছু করারও ছিল না। মাহমুদকে বাদে সে তার সবেচেয়ে কাছের যে বন্ধুরা আছে তাদের জানালো। রিহানের বন্ধুরা তাকে উপদেশ দিল যে রামিসাকে সব খুলে বলতে কিন্তু রিহানের সে সাহস হল না। এরমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। রিহান ও মাহমুদ ভালো ভাবেই পরীক্ষা শেষ করল এবং তারা ভালো রেজাল্ট করল। রিহান ভর্তি হলো একটা প্রাইভেট ভাসির্টিতে। ভার্সিটিতে ২ বছর পার করার পর হঠাৎ একদিন রিহান রামিসার সব কথা তার বাবাকে বলল। রিহানের বাবা রিহানের সবচেয়ে ভালো বন্ধু, তার বাবা তাকে সাহস দিল তুমি যদি তাকে নিয়ে সুখি হতে পার তাহলে তুমি তোমার ভালোবাসার কথা তাকে জানাও। রিহানও ঠিক করল তার ভালোবাসার কথা সে প্রথমে রামিসাকে জানাবে তারপর মাহমুদকে বলবে। পরদিন রিহান রামিসার জন্য ২০টি লাল গোলাপ নিয়ে রওনা দিল রামিসাদের বাড়ির উদ্দেশ্য যখন সে বাড়ির খুব কাছাকাছি তখন তার মোবাইলে একটি ফোন এল ফোনটি করেছিল মাহমুদ। সে রিহানকে জানালো রামিসা এক্সিডেন্ট করেছে। এটা শোনার পর রিহানের মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল সে তড়িঘড়ি করে ছুটে গেল ঢাকা মেডিকেল এ। ঐখানে গিয়ে জানতে পারল রামিসা রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ একটা প্রাইভেট কার তার উপর দিয়ে চলে যায়। ডাক্তার এখনও কিছু বলেনি তবে অবস্থা এখনও বিপদজনক। প্রায় ঘন্টাখানিক পর ডাক্তার রামিসাকে মৃত ঘোষনা করল তখন আর রিহান রিহানের মধ্যে রইল না। সবচেয়ে দুঃখ জনক বিষয় হলো রিহান রামিসা মারা যাওয়ার ৩ বৎসর পর জানতে পারে রামিসাও তাকে ভলোবাসত। রিহান আর কাউকে আর গ্রহন করতে পারল না তার অসমাপ্ত ভালোবাসার মত তার জীবনও অসমাপ্ত রয়ে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




