
জঙ্গিবাদকে কি ইসলাম সমর্থন করে অথবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? এই প্রশ্ন গুলা জানার আগে জানতে হবে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কি বা সন্ত্রাস কি?
প্রথম সন্ত্রাস দিয়েই শুরু করি। সন্ত্রাস শব্দটি এসেছে এাস শব্দ থেকে। যার মানে হল ভয় ভীতি। এই ভয় ভীতি দিয়ে সাধারন মানুষের জান ও মালের ক্ষয় ক্ষতি যে করে থাকে বলা হয় সন্ত্রাসী। এখন কথা হলো জঙ্গিবাদ নিয়ে।
জঙ্গিবাদ হল সংঘবব্ধ ও পরিকল্পিত ভাবে ভয় ভীতির মাধ্যমে সাধারন মানুষের জান ও মালের ক্ষয় ক্ষতি করে থাকে।
এখন প্রশ্ন হল ইসলাম কি জঙ্গিবাদ বা ঐ ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে, না কি বলে? আমরা সাধারনত ইসলামিক আইন বা নিয়ম বিধি নিষেধ খোজতে গেলে কুরান ও হাদিসের সাহায্য নেই। তাই কোরান কি বলে দেখি।
সূরা মায়িদা, আয়াত: ৩২ এ লেখা আছে যে,
'' কেউ কাউকে মানুষ হত্যার অপরাধ ছাড়া হত্যা করলে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করলো। আর কেউ কারো প্রাণ বাঁচালে সে যেন গোটা মানবজাতিকে বাঁচালো। ''
এই আয়াত দ্বারা কি প্রমাণ বা প্রতীয়মান হয়? কোন মানুষ অন্য কোন মানুষ হত্যার অপরাধ ব্যতীত যদি কাউকে হত্যা করে তাহলে সমস্ত মানবজাতির হত্যার অপরাধের সামিল। আর সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা তো কোন সাধারন অপরাধ হতে পারে না,
কঠোর আইন।
আরো একটি কঠোর আইনের কথা উল্লেখ আছে সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯১ এ আছে
'' ফিতনা বা সন্ত্রাস হত্যার চেয়েও ভয়াবহ। '' এই আয়াতের দ্বারা কি প্রমাণ হয়? ইসলাম কি সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদে সমর্থন করে? নিশ্চিয় না। ঝগড়া ফেসাদ বা সন্ত্রাসী ভয় ভীতি হত্যার চেয়েও বেশি ভয়ংকর। আরো নির্দেশ দেওয়া আছে সূরা আরাফ, আয়াত ৫৬ তে
'' দুনিয়াতে শান্তি স্থাপনের পর সেখানে বিপর্যয় বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করো না....। ''
এই আয়াতে স্পষ্ট রূপে নিষেধ যে দুনিয়াতে শান্তি স্থাপনের পর সেখানে বিপর্যয় বা সন্ত্রাস সৃষ্টি অথবা জঙ্গিবাদ করা যাবেনা। ইসলামে কখনো বিপর্যয় বা সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী বা জঙ্গিবাদে সমর্থন করে না। বারবার নিষেধ করে দিয়েছে। শুধু নিষেধ করেই থেমে যাননি, কঠোর পান্সিমেন্টের কথাও বলা হয়েছে। যারা এই ধরণের কর্মকাণ্ড করে থাকে তাদের ইসলামে কোন স্থান নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ রাত ১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


