
নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর কোথাও থেকে জেমসের 'সোনার বাংলা' গানটি ভেসে আসল। লক্ষ্য করলাম গানটি থেকে 'তুমি বঙ্গবন্ধুর রক্তে আগুন জ্বলা জ্বালাময়ী সে ভাষন ' লাইনটি নেই। জেমসের ‘সোনার বাংলা’ গান পরিবেশনের সময় ‘তুমি বঙ্গবন্ধুর রক্তে আগুন জ্বলা জ্বালাময়ী সে ভাষণ’ অংশটি বাদ দেওয়া—এটি কি ঠিক কাজ হয়েছে? ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও অধ্যায়কে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত জনাব ফজলুল রহমান নির্বাচনে বিজয়ের পর তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন—“আমার এই বিজয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়া সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসর্গ করছি।” ভিন্ন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে থেকেও মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন অনেক মানুষের কাছে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। শ্রদ্ধা প্রদর্শন কখনো ছোট করে না; বরং রাজনৈতিক পরিসরকে আরও পরিণত করে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক অস্বীকৃতি ও প্রতিহিংসার চর্চা দীর্ঘদিনের। কিন্তু যদি একটি দল অন্য দলের ভুলকেই অনুসরণ করে, তাহলে আদর্শিক পার্থক্য কোথায় দাঁড়ায়? জনাব তারেক রহমান নিজেই বলেছেন—“আমরা প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি করব না।” সেই বক্তব্য বাস্তবে প্রতিফলিত হওয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
২০২৩ সালের জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন আমরা দেখেছি, তা সম্ভব হয়েছিল সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের কারণে। সাম্প্রতিক নির্বাচনেও স্পষ্ট হয়েছে—রাজনৈতিক বিভাজন যতই থাকুক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, মতাদর্শ ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমর্থন ছাড়া কোনো দলই শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে না।
অতএব, বিএনপির প্রতি প্রত্যাশা থাকবে—তারা যেন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করে। দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে, তার যথার্থ মূল্যায়নই হবে ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রকৃত পরীক্ষা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


