মঙ্গলের বায়ু ঘনত্ব হালকা । মহাকাশ যান কিভাবে হালকা ঘনত্বের এই বায়ু মণ্ডলে ঢুকবে এবং অবতরণ করবে এই বিষয়ে কোন সমাধান হয় নি। কোন মহাকাশ যান পৃথিবীতে ঢোকার সময় বায়ুমণ্ডলের কারণে স্বাভাবিকভাবেই তার গতিরোধ হয় । এরপর প্যারাসুট এর সাহায্যে বা রকেট প্রপালশন এর মাধ্যমে মাটিতে নেমে আসে। মঙ্গলে তো তেমনটি সম্ভব নয়। তীব্র গতিতে তা মঙ্গলের মাটিতে প্রায় ১০ গুন বেশী বেগে আছড়ে পরবে ।
এই ব্যাপারে নাসায় বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছিল। সমাধান পাওয়া যায় নি। যে কয়টা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাতে খুত আছে। যেমন-
১) গতি কমানোর জন্য এয়ার ব্যাগ ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছিল। এতে ভারসাম্যপূর্ণ আর সংরক্ষিত অবস্থানে আনা যেতে পারে। কিন্তু মানুষ ব্যবহারকারী রকেটের ওজন অনেক বেশী। ১০ টনের ওপরে ওজন। এত বেশী গতিতে পরলে কম ঘনত্বের বায়ুমণ্ডলের জন্য কোনও এয়ার ব্যাগই এই পতন রোধ করতে সক্ষম হবে না।
2) প্যারাসুট ব্যবহার করা যায়। এতে সমস্যা হল ওঠাত বায়ু পরিবর্তন হলে (যা মঙ্গলের একটি নিয়মিত ঘটনা ) মহাকাশ যান অবতরণ স্থল ছেড়ে অন্যত্র পতিত হবে। তখন একে আগের জায়গায় নেবে কে? এতে জালানি খরচ বাড়বে কয়েকগুন। এত ভারি জ্বালানি নিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। সুপার সনিক প্যারাসুট খুলতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। তার আগেই ধাক্কা খেয়ে অক্কা পাবে নভোচারীরা। প্যারাসুট খুলতে গেলে যে পরিমাণ চাপ আসবে সেটাও সহ্য ক্ষমতার ভিতরে নেই।
৩) হিট শিল্ড এবং থ্রাস্টার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটা অত্যন্ত বিপদ জনক পদ্ধতি। রকেট প্রপালশনে প্রচণ্ড চাপ আর ধাক্কাতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ১০০% ।
৪) সুপারসনিক এক্সিলেটর বা স্পেস এলিভেটর ব্যবহার করা যায়। তবে এটা একটা অনির্ণীত পরীক্ষাধীন বিষয়। সফলতার বিষয়ে গ্যারান্টি দেয়া যায় না।
মঙ্গলে অভিযান না পাঠানোর সবচেয়ে বড় কারণ হল টাকার অভাব। এই মিশনে লাগবে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৫০০০০০০০০০০০ টাকা । এত টাকা নাসার কাছে বর্তমানে নেই । পূর্বে যেসব রকেট প্রেরিত হয়েছিল তার ৬০ % মিশন ব্যর্থ হয়। কেবল বলা যায় মকাশ যান রোভার সাফল্যের মুখ দেখে।
এই সব কারণে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর প্রজেক্ট থমকে আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



