(এই ব্লগটি উৎসর্গ করলাম অরূপ, মাশীদ ও রাবাবকে, যাদের সঙ্গে গান নিয়ে আলোচনা করে দারুন নস্টালজিক হয়েছিলাম একবার)
পল ম্যাকার্টনিকে নতুন করে চেনাবার কী আছে! কিংবদনতীর ব্যান্ড 'দ্য বিটলস'এর ফ্যান্টাসটিক ফোরের একজন তিনি। বিটলস ছাড়ার পর তার 20তম অ্যালবাম 'ক্যাওজ অ্যান্ড ক্রিয়েশন' বেরিয়েছে সদ্য, আর এ নিয়ে সমপ্রতি এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি রিডার্স ডাইজেস্টকে। প্রতিবেদকের সঙ্গে বিশাল এ আলোচনায় অনেক কিছুই বলেছেন ম্যাকার্টনি। আমি ব্লগের পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম স্রেফ চুম্বক অংশটুকু। বাকিটা লিংক থেকে পড়ে নেবেন না হয় কষ্ট করে rdasia.com
এই অ্যালবামে কী বিটলসের কিছু ছোঁয়া আছে?
'ফ্রেন্ডস টু গো' গানটার সময় মনে হচিছল আমিই জর্জ হ্যারিসন হয়ে বাজাচিছ। যদি সত্যিই বিটলস থাকত তাহলে জর্জই যে তা করত আমি দিব্যি কল্পনা করতে পারি-ব্যাঞ্জনাময় এক অনুভূতি। আমি একটা কর্ড ধরে বাজাচিছ উদ্দেশ্যবিহীন, আর মনে মনে ভাবছি,'আমি এপারে অপেক্ষা করছি, কিন্তু তা পেরিয়ে আমি বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে চাই।' কথা হচেছ এপার মানে কী? রাসতার? ইহলোকের? আধ্যাত্মিক কোনো জগতের? একজন মনোবিদ এ নিয়ে গবেষণার প্রচুর সময় পাবেন! কিন্তু আমি এও বলছি, 'আমি অপেক্ষা করছি, আমি একাই পথ চলছি, কিন্তু আমায় নিয়ে ভেবনা, আমি ঠিকই আছি।' আসলে আমার গানের বিশ্ল্লেষণ আমাকে দিয়ে হবে না। এটা আপনাদের কাজ।
আপনি বলেছেন আপনার নতুন গান 'ফলো মি' কিছুটা আধ্যাত্মিক ধাঁচের। ষাটের দশকে বলেছিলেন ঈশ্বরে বিশ্বাস নেই আপনার। এখন কী তাহলে কোনো ধর্ম মানছেন?
আমি সবকিছুর ভালোত্বে বিশ্বাস করি, তাই খৃষ্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ, মুসলিমদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। আমি মনে করি, প্রকারানতরে তারা সবাই একই কথা বলতে চাচেছ। আপনাকে ভালো আর মন্দের মধ্যে একটা বেছে নিতে হবে। অনেক বছর আগে আমি ভেবে বের করেছিলাম 'GOD' শব্দটা হচেছ 'GOOD'এর প্রতিশব্দ যা থেকে একটা 'o' তুলে নেওয়া হয়েছে। আর 'DEVIL' হচেছ 'EVIL' যাতে একটা 'D' যোগ করা হয়েছে। তাই এগুলো হচেছ একধরণের শক্তির প্রতিরূপ। নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের প্রতি আমার অনুরাগ নেই, তবে আমি একক কোনো ভালো আত্মার উপস্থিতিতে বিশ্বাসী।
তাহলে আপনি বিশ্বাস করেন গানের কথা আপনার মন ভালো করে দেয়। শুনে মনে হয় জন লেননকে নিয়ে 'হিয়ার টুডে' গানটায় আপনি শোকটা সামলে উঠেছেন। লিখেছেন, 'আমি এখন আর কান্না আটকে রাখছি না (আ'ম হোল্ডিং ব্যাক দ্য টিয়ার্স নো মোর)।' এত সময় নিলেন কেন তার জন্য সনতাপে? কেন নিজেকে সামলে রেখেছিলেন?
কারণ আমি একজন পুরুষ।
না শুধু এটা কোনো কারণ হতে পারে না।
অবশ্যই এটাই কারণ। আর আমি লিভারপুলের ছেলে। আমরা কাঁদিনা, এসব ব্যাপারে আমরা বেশ শক্তপোক্ত (টাফ)। আমাদের ছেলেরা এসব নিয়ে কথাই বলে না, বরং ভেতরে পুষে রাখি। তাহলে যখন আপনার মা মারা গেলেন, কাঁদেননি? হঁ্যা, গোপনে। সে সময় এমনই ছিল লোকচরিত্র। এখন ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও অনেক মানুষ পাবেন যারা যাই ঘটুক না কেন একফোটা জলও ফেলবে না। আমি ওসব পার হয়ে এসেছি আর এখন বলি (হেসে) ঈশ্বর আমাদের কান্না দিতেন না যদি উনি আমাদের না কাঁদাতেন।
ইদানিং আপনাকে বিটলস সমপর্কে খোলামেলা আলোচনা করতে দেখা যায়। কারণ কী এখন আর তিক্ততার কোনো অবকাশ নেই?
এরকম কিছু কখনোই ছিল না। স্রেফ আমরা যখন আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম তখন একটু তিক্ততা ছিল বটে, তারপরও তা ছিল আসলে অম্লমধুর। আমরা ঠিকই ফোনে নানা বিষয়ে কথাবার্তা বলতাম। এখন আমি অনেক মায়া নিয়েই অতীতচারি হই এবং প্রায়ই মনে মনে ভাবি যে জন (লেনন) এখন নেই, জর্জ (হ্যারিসন) নেই। কিন্তু আগের চেয়ে এখন এ ব্যাপারে আমি অনেক খোলামেলা। কারণ আমি এখন অনেক পরিণত।
জন লেননকে নিয়ে মজার কোনো ঘটনা বলবেন, যেটা আগে কখনো বলেননি?
হুমম, জনি (হেসে)। বেশিরভাগই তো ছিল পাগলপানা। হামবুর্গে আমরা বেশ মাতাল হতাম। একরাতে জন বেশি খেয়ে ফেলল, কিন্তু তখনো শোয়ের কিছু অংশ বাকি- কিন্তু জন তা শেষ করার মতো অবস্থায় নেই। ওর তুলনায় বরং আমরা বেশ ভদ্রস্থই (কম মাতাল) ছিলাম। তো আমরা স্টেজে উঠলাম। আর জন এলো প্রায় লেংটা হয়ে- শুধু জাঙ্গিয়া পড়ে, আর গলায় ঝোলানো টয়লেটের সিট! ওটা ছিল জনের নতুন ইমেজ। প ের মাটিতে শুয়ে ওকে গান গাইতে হয়েছিল।
আমরা দারুন কিছু সময় কাটিয়েছিলাম। মাঝে মাঝে কল্পনার চোখে দেখি জন আর আমি গিটার কাঁধে ঝুলিয়ে লিভারপুলের রাসতায় ঘুরে বেরাচিছ। পরণে কালো পোষাক আটো প্যান্ট (যাকে বলা হতো ড্রেন পাইপ), কখনো এ ভাবনা আমাদের মাথায় ছিল না যে বিটলস নামে একটি ব্যান্ড বানাবো আমরা যা হবে কালজয়ী। আমরা ছিলাম কপর্দকহীন দু কিশোর। একদিন আমরা একটা দোকানে ঢুকলাম, জন কিছু চকলেট কিনল। বলল, 'তুমি খাবে অর্ধেক?' 'ওয়াও, তুমি তোমার চকলেটের ভাগ দেবে আমাকে' উত্তর দিলাম, কী জিগরি দোসত ছিলাম আমরা। আমার স্মৃতির বেশিরভাগ জুড়েই রয়ে গেছে ছোট ছোট কিছু ঘটনা, সাধারণ সব।
ইয়োকো ওনোর (জাপানি এই ভদ্রমহিলার প্রেমে পড়েই ব্যান্ড ছাড়েন লেনন, বিয়ে করেন তাকে, অ্যালবামও করেছেন তাকে নিয়ে) সঙ্গে কথা হয় আপনার?
এইতো মাঝে মধ্যে। কিন্তু এ ব্যাপারেও আমার মধ্যে কিছু সীমাবদ্ধতা কাজ করে। আমরা ঠিক অবন্ধু নই, আবার খুব ভালো বন্ধুও না। আমি এখন নিউইয়র্কে, কিন্তু ওকে ফোন করব না। লন্ডনে গেলে সেও আমাকে করে না। কিন্তু নিউইয়র্কে 80 লাখ মানুষ আছে যাদের আমি ফোন করব না। তাই এটা তেমন কোনো বড় ব্যাপার না। ও একজন দারুন মহিলা, ভালো শিল্পী, আর জন ওকে খুব ভালোবাসত। তাই এই ব্যাপারটাকে আমার শ্রদ্ধা করতেই হবে। আমি বিষয়টাকে এভাবেই দেখি। (শেষ)
সঙ্গে আমার সবচেয়ে প্রিয় গানটা তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না, লেনন-ম্যাকার্টনি জুটির ইয়েস্টারডে :
Yesterday, all my troubles seemed so far away
Now it looks as though they
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



