'গত এক সপ্তাহে প্রদেশের নানা জায়গায় সংঘর্ষে নিহত হয় 172 ও আহত হয় 358 জন। চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, যশোর ও রাজশাহীতে সংঘর্ষ হয়। 6 মার্চ '71 ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে কয়েদীরা পলায়ন করার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে 7 জন নিহত হয়। খুলনা ও যশোরে জনতা সৈন্যবাহী ট্রেন আক্রমণ করে। রাজশাহী, খুলনা ও যশোরে টেলিফোন ভবন আক্রান্ত হয়। চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে বাঙালী ও অবাঙালীদের মধ্যে দারুন সংঘর্ষ হয়। এসব কারণে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সামরিক বাহিনী গুলি বর্ষণ করে।'
7 মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানালেন। এই মর্মে 10 দফা কর্মসূচী প্রকাশিত হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ অহিংস অসহযোগ আন্দোলনকে অব্যহত রাখার আহ্বান জানিয়ে আরো 14 দফা কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করলেন।
মজলুম জননেতা ভাসানী ও 9 মার্চ :
এইরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে 9 মার্চ '71 ঢাকার পল্টনের জনসভায় মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লক্ষ্যে প্রদেশব্যাপী সংগ্রামের আহ্বান জানালেন। তিনি বাংলাদেশে জাতীয় সরকার গঠনের দাবী তুললেন। দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, 'একদিন ভারতের বুকে গনহত্যা করিয়া, জালিয়ানওয়ালাবাগের মর্মান্তিক ইতিহাস রচনা করিয়া, অত্যাচার অবিচারের বন্যা বহাইয়া দিয়াও প্রবল পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সরকার শেষ রক্ষায় সক্ষম হয় নাই। শেষ পর্যন্ত তাহাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হইয়াছে। পাক-ভারত উপমহাদেশকে শত্রুতে পরিণত না করিয়া সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্যে সরিয়া যাওয়াই তাহারা মঙ্গলকর মনে করিয়াছেন।...... প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকেও তাই বলি- অনেক হইয়াছে আর নয়। তিক্ততা বাড়াইয়া আর লাভ নাই। 'লাকুম দ্বীনুকুম ওয়াল ইয়া দ্বীন, তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার'-এর নিয়মে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করিয়া লও।.... মুজিবের নির্দেশমতো আগামী 25 তারিখের মধ্যে কোনো কিছু করা না হইলে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মিলিয়া 1952 সালের ন্যায় তুমুল আন্দোলন শুরু করিব। খামাখা কেহ মুজিবকে অবিশ্বাস করিবেন না। মুজিবকে আমি ভালো করিয়া চিনি।' (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



