এইদিন বিকালে ধানমন্ডীর 32 নং বাসভবনের সামনে বিরাট এক জনসমাবেশে শেখ মুজিব বললেন, 'আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যহত থাকবে।'
24 মার্চ সারাদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। 25 মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো তার পরামর্শদাতাদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে প্রায় 45 মিনিট আলোচনার পর সাংবাদিকদের বললেন, 'আওয়ামী লিগ যে ধরণের শাসন ব্যবস্থা চাইছে তাকে প্রকৃত স্বায়ত্ব শাসন বলা যায় না। ওদের দাবি স্বায়ত্ব শাসনের দাবির চাইতে বেশি, সার্বভৌমত্বের কাছাকাছি।'
শেখ মুজিব 24 মার্চ সকালেই বুঝতে পেরেছিলেন যে ইয়াহিয়া ও তার মধ্যেকার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তাই ওই দিন রাতেই তিনি চট্টগ্রামের সিদ্দিকীকে (?) টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন হানাদার বাহিনীর যে কোনো আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে। 25 মার্চ সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু বললেন, 'প্রেসিডেন্টের ঢাকায় আগমন ও আলোচনার ফলে জনমনে এ রকম একটা ধারণা হয়েছিল যে, দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি সমপর্কে কতর্ৃপরে চেতনার উদ্রেক হয়েছে। এবং রাজনৈতিকভাবে তার সমাধান সম্ভব। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা শুরু করে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটানো হচ্ছে। সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়ে যখন প্রেসিডেন্ট খোদ ঢাকায় রয়েছেন, তখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ধরণের সামরিক তৎপরতার খবর খুবই উদ্বেগজনক। গত সপ্তাহে জয়দেবপুরে গুলিবর্ষনের পর রংপুর, সৈয়দপুর প্রভৃতি এলাকায় সান্ধ্য আইন জারি করে বর্বর হামলা চালানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচেছ। এদিকে চট্টগ্রামেও নিরস্ত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষন করা হয়েছে।
বিশ্ববাসীর কাছে আমার আবেদন, যখন আমরা রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচিছ তখন ক্ষমতাসীনরা শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের জন্য শেষ আঘাত হানছে। তাই আমি ক্ষমতাসীনদের ষড়যন্ত্রকারী মহলকে জানিয়ে দিতে চাই যে. আপনাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে পারে না। সাড়ে সাত কোটি বাঙালী চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে আপনাদের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
আমি বর্বরতা ও গুলি বর্ষনের তীব্র নিন্দা করছি। এবং এর প্রতিবাদে 27 মার্চ সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল ঘোষণা করছি।' পরে তিনি আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলার ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানালেন।
এই পরিস্থিতিতে আকস্মিকভাবে ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করলেন। গোপনে ঢাকা ত্যাগের আগে তিনি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে গেলেন শেখ মুজিবকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আর ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালীদের নিষ্ঠুর ও নির্বিচার হত্যার জন্য সামরিক জান্তা তার এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। (চলবে)
ছবি : সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু
2. 23 মার্চ বাড়ির সামনে স্বাধীন বাংলার পতাকাকে স্যালুট করছেন মুজিব
3. যুদ্ধের প্রস্তুতি
4. পিছিয়ে নেই মেয়েরাও (মতিয়া চৌধুরির নেতৃত্বে)
5. স্বাধীনতার ডাক
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



