প্রায় 700 নারীপুরুষের বাসস্থান এই রমনা কালীবাড়ি 28 মার্চ হানাদাররা আক্রমণ চালিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। ওরা স্বামীজি প্রেমানন্দগিরি সহ মোট 50 জন নারীপুরুষকে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
ধামরাই :
ধামরাই মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী রথটি এক পূরাকীর্তি। হানাদার বাহিনী এপ্রিলের শুরুতে ধামরাইয়ে প্রবেশ করে। তারা মন্দিরের ধনসমপদ ও মূল্যবান আসবাব লুট করে রথটি জ্বালিয়ে দেয়। এখানে বহু নিরীহ লোককে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করে তারা। ধামরাই থেকে মাইল চারেক দূরে কালামপুর বাজার। বাজার থেকে অল্প দূরত্বে কালামপুর আতাউর রহমান হাইস্কুল। বাজার ও স্কুলের মাঝামাঝি জায়গায় একটি কালভার্ট। এই কালভার্টের নীচে 14 জন নিরাপরাধ বাঙালীকে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে হানাদার পশুরা।
গাজীপুর অস্ত্রাগার :
3 এপ্রিল মধ্যাহ্নে গাজীপুর অস্ত্রাগারের আবাসিক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার করিমুল্লাহর নির্দেশে 6 জন বাঙালী অফিসারকে সপরিবারে পাকবাহিনী ঢাকা নিয়ে আসে। পরে ওয়েলফেয়ার অফিসার মাহবুবসহ 4 জন বাঙালী অফিসারকে এমএলএ হোস্টেলে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ঘড়ি, আংটি, টাকা পয়সা লুট করে গুলি করে হত্যা করে তারা।
শ্রী যোগেশ চন্দ্র ঘোষ :
পুরানো ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় সাধনা ওষুধালয়ের মালিক মানব নিবেদিত প্রাণ অশীতিপর বৃদ্ধ এই যোগেশ চন্দ্র ঘোষ। 25 মার্চের কালো রাতের পর এই এলাকার অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু সুযোগ থাকা স্বত্বেও যোগেশ কোথাও গেলেন না, থেকে গেলেন সাধনা ঔষধালয়ের বিরাট কারখানার এক নির্জন প্রকোষ্ঠে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে রাত দুপুরে হঠাৎ কারখানার সামনে এক সামরিক জিপ থেকে ডজনখানেক পাঞ্জাবী সেনা নেমে রাইফেলের আঘাতে গেটের তালাগুলো ভেঙে ফেলল। তারপর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ল। বন্দুকধারী পাহারাদার সুরুজও এর জবাব দিল। উভয়পক্ষে বেশ কিছুক্ষণ গুলি বিনিময় হল। হানাদাররা সুবিধা করতে না পেরে চলে গেল। ঘটনার পর শুভাকাঙ্খীরা যোগেশ বাবুকে পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু রাজী হননি তিনি। পরদিন সকাল সাড়ে 7টায় সশস্ত্র সৈন্যবাহী তিনটি জিপ এসে থামল, যোগেশ বাবুর পোষা প্রিয় বারঢা চিৎকার করে বিপদ সঙ্কেত দিল। হানাদাররা যোগেশ বাবুর সহকর্মীদের লাইন করে দাঁড় করিয়ে তাকে নিতে উপরে গেল। তার সারাজীবনের সঞ্চয় লুট করে বর্বররা বেয়নেটের নির্মম আঘাতে হত্যা করল তাকে।
মনোহরদীর সংঘর্ষ :
25 মার্চ রাতে পিলখানার ইপিআর ক্যামপ আক্রমণ করে পাকসেনারা হাজারখানেক জওয়ানকে বন্দী করে জেলখানায় আটকে রাখে। অকথ্য নির্যাতন চালায় তাদের ওপর। পরে তাদের কিছু সংখ্যককে পাকিস্তানী সৈন্যদের নেতৃত্বাধীন থানা হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হচ্ছিল আনুগত্য প্রমাণ করার জন্য। এরকমই 40 জনের একটি ইপিআর দলকে পাঠানো হয় মনোহরদীর পাক ক্যামপে। সেখানে পাকসেনা ছিল 36 জন। 21 অক্টোবর মুক্তিবাহিনীর গেরিলারা এই ক্যামপ আক্রমণ করে। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইপিআররা গেরিলাদের পক্ষ নেয়। এই যুদ্ধে 25 জন পাকসেনা মারা যায় আর বাকি 11 জন আত্মসমর্পন করে।
ঘোড়াশাল :
ঘোড়াশাল রেলস্টেশনে পাকবাহিনীর একটা ক্যামপ ছিল। এখান থেকে সমগ্র ঘোড়াশালে তারা এক সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। 7 নভেম্বর ভোর 6টায় এই ক্যামপের 50 জন পাকসেনা খিলপাড়া আটিয়া গ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। এই দুটো গ্রামে পৌছে তারা চারদিকে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং 200 নারীপুরুষশিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পাশবিক নির্যাতন চালায় পল্লী বালাদের ওপর।
1 ডিসেম্বর সকাল 5টায় রেলগাড়িতে 50/60জন খানসেনা একজন মেজর সহ ঘোড়াশাল জুটমিলে আসে। মিলের সহকারী ম্যানেজার আবু তালেব, স্টাফদের ডেকে আনে। কর্মচারীরা সংখ্যায় প্রায় 150 এবং তাদের পরিবার পরিজন 500 জন হবে। হানাদাররা মিলের গেটকিপার সহ অফিসার ও স্টাফদের দুয়েকজন ছাড়া বাকিদের সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। জনাব আবু তালেব এই শহীদদের অন্যতম। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




