এক জ্বালায় পড়লাম ক'দিন ধরে! উড়াধুড়া কল আসে। কেউ কিছু কয় না, কেউ মিস কল দিয়া চুপ। একজন সাহস কইরা এইটুকু খালি কইল, তোর ঠ্যাং ভাইঙা দিমু......পোলা। আরেকজন জিগায়, 'আপনে আমার আপুরে ফোন করেন ক্যান! আমি কই, আপনার আপুর নাম্বার কত? কয় এইটাই। আমি কই ও আমার কাছে 50 টাকা পায়, এবং কিসের টাকা সেইটা বলতে ওই নাম্বার থেকে কল আসেনি আর। চেক করে দেখেছি বেশিরভাগ নাম্বারই ফোনের দোকান থেকে করা। এখন আমি কনফিউজড, ভয় পামু কীনা! কারণ শব্দটার লগে আমার পরিচয়ই নাই। এখন নতুন কইরা পরিচিত হইতে লজ্জা লাগতাছে। কেন যে লিংকে আমার নাম্বার গুলা দিছিলাম! ভাবছি দুয়েকটা সুন্দরী মেয়েটেয়ে আমার লেখায় ইমপ্রেসড হইয়া কলটল করবে- তারপর যাহা হয় আর কী! অথচ পিছ নিছে সব কাউয়ার দল!
যাক সেঞ্চুরি হইছে। ট্রেডিশন নাকি বক্তৃতা দেওয়ার। আমি যতই কই আমার অরিজিনাল ব্লগের সংখ্যা বেশি হইলে 35, তখন কেউ কেউ কয়- না, এই সেঞ্চুরিতে নাকি বাই রানও যোগ হয়। তাইলে তাই সই।
পিছন থাইকাই শুরু করি। এই ব্লগের ঠিকানা আমারে দিছে ব্রাত্য রাইসু। কেন এই ব্লগে লিখা ধরছি তার শানে নযুল অলরেডি আপনাগো জানা। তারপরও সমস্যা আছে। একটা ম্যাচ শেষ হইলেই পাতা খুললে দেখি অলরেডি ওইটার উপর গোটা বিশেক লেখা হইয়া গেছে। তো আমার ম্যাচ রিপোর্ট পোস্ট করুম কী। যায়যায়দিনে আমার সতীর্থ সপোর্টস রিপোর্টাররাও একই কারণে ব্লগের উপর একটু বিরক্ত। রাকিব তো তার ক্যাডেট লাইফ নিয়া শুরু করছে, পারভেজ হাল ছাড়ে নাই অবশ্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন দিন পরও ম্যাচ রিপোর্ট আপলোড করছে। কমিউনিটির আরো অনেকেই দেখি সদস্য হইছে।
তো শুরু ছিল 14 ফেব্রুয়ারি। এক মাইয়া ফোন করত চ্যাট করত, ভাবলাম ভালোবাসে। পরে দেখে আমি তার বাপের বয়সী। অতএব কবিতায় কাম হইল না! দুঃখ দিয়াই শুরু। এক জ্যোতিষির কাছে গেলাম, উনি বললেন খালি লেখেন, মনের মধ্যে যা আসে লেখেন। এইডাই আপনার চিকিৎসা!
এর মধ্যে হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী উদ্ভট কিছু লেখা পইরা মনে হইল, এর জবাব দেওয়া দরকার। রেফারেন্স যা ছিল সব নিয়া মাঠে নামছি। এখন লেখতাছি বাপের পান্ডুলিপি। মাঝে মাঝে প্রিয় গান, কবিতা, ছবি পোস্ট করি। প্রতিটির পেছনে আছে অফুরান গল্প- সেগুলা লেখা হয় না।
পোস্টে আইসা অসাধারণ কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হইছে। আত্মার চেয়ে বড় আত্মীয় মানি তাদের। অরূপ-মাশীদ দমপতি, রাবাব, আড্ডাবাজ, ধানসিড়ি, সাদিক, কালপুরুষ, সুমন, রাসেল, হিমু, পাগলা শুভ, তীর্থক, দীক্ষক দ্রাবিড়, ধুসর গোধুলী, নতুন, তীরন্দাজ, শমচৌ ওরফে হীরক লস্কর, অপবাক, মহুয়া, শমিত এবং আরো অনেকে- এদের কারো সঙ্গেই হয়তো জীবনেও কোনোদিন দেখা হবে না আমার! ঝগড়া করছি অপবাকের সঙ্গে, মহুয়ার সঙ্গে- আবার মিলমিশও হইছে। তবে কেউ যদি কিছু মনে না করেন ব্লগে আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিটির নাম বদরুল আহমেদ। একদম সহজ সরল টিপিকাল বাঙালী- এই ধরণের লোকেরা প্রিয় মানুষদের জন্য জান বিসর্জন দিতেও দুইবার ভাবে না! আবার ধরেন শাহানার কথা, চিনি না জানি না। কিন্তু বিড়াল দেখলেই ওর কথাই প্রথম মনে আসে। বিড়ালের ছবি পাইলেই ওনারে পাঠাইয়া দিই।
শত্তরও কুড়াইছি। এরা পোস্ট লিখতে পারে না, কিন্তু হাবিজাবি নামে মন্তব্য করতে বা গালি দিতে ভীষণ ওস্তাদ। দাদা, ভুত (ওরে অবশ্য শ্রদ্ধা করি তার জ্ঞানের জন্য- তবে পুরাটাই ভুল জায়গায় ব্যবহৃত), সাচ্চা রাজাকার ইত্যাদি নামে তাদের আনাগোনা। তবে সত্যি যদি এইখানে দুইটা শিবির থাকে (অলিখিত) , তাহলেও বলি শাওন ছেলেটাকে ভালো লাগে ওর ভাইয়া-আপু সমা্বেধনে- বোঝা যায় আদব লেহাজ জানে। আস্তমেয়ে যখন প্রথম ব্লগে এলেন, তার পোস্টে মন্তব্য করেছিলাম শুভেচ্ছা জানিয়ে যে এবার ধর্মবিরোধী পোস্টগুলোর কিছু জবাব হয়ত যৌক্তিকভাবে দেওয়া হবে। উনি ছেলে শোনার পর মনটাই খারাপ হয়ে গেছে।
আমি একটা কথা রিপিট করছি। ব্লগে লিখি কারণ এর সঙ্গে মঞ্চ নাটকের মিল আছে। অভিনেতারা যেমন মঞ্চে ভালো অভিনয়ের ইনস্ট্যান্ট রিয়েকশন পান হাততালি বা দুয়োতে। ব্লগও তাই। পচা লিখলে পচানো হবে, ভালো লিখলে বাহবা।
তো যাই হোক, আমার দুধরণের অভিজ্ঞতাই হয়েছে। তবে পিঠচাপড়ানির সংখ্যাই বেশি।
তো ছোট্ট একটা ঘটনা দিয়ে শেষ করি, যাতে উপলব্ধি করলাম আসলেই বুইড়া হইয়া গেছি। এই পৃথিবীকে মলমূত্র দেওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। সাভার থেকে বাসে ফিরছি। ঢুকতেই কানে এল তারুণ্যদীপ্ত কিছু কণ্ঠ- বাচ্চু-জেমস গাইছে। ছেলে মেয়েদের একটা গ্রুপ। ভেবেছিলাম জাহাঙ্গীর নগর, পরে জানলাম না। যা হোক এদম পেছনের দিকে জানালার কাছে দুটো সিট খালি। সোজা এগিয়ে গেলাম। ওই লাইনে তিনটা মেয়ে ও একটি ছেলে বসা। সবচেয়ে প্রগলভ (উনিই গানে সঙ্গত দিচ্ছিলেন এবং সম্ভবত বাকি মেয়েদের মুরুবি্ব) মেয়েটি বলে উঠলেন- এইযে ভাই এখানে বসা যাবে না। বলল্লাম কেন, টিকেট কিনে উঠেছি, খালি সিটে বসা যাবে না কেন? আমার হবু প্রতিবেশিরা (দুজনই বোরখা পড়া) অবশ্য আপত্তি করলেন না, তারা বললেন- অসুবিধা নাই। আমি তখন প্রস্তাব দিলাম, এক কাজ করেন আপনার পাশের ছেলেটাকে এখানে পাঠান। তাইলে তো আর সমস্যা নাই। বলতে বলতে বসে পড়েছি। মিনিট দুয়েক পার হয়নি, প্রগলভা বললেন, 'আঙ্কেল, জানালাটা খুলে দেন তো, গরম লাগছে।' পাশ থেকে কয়েকজনের হাসিও শুনলাম। তো উঠে দাঁড়ালাম, সামনের দিকে ঝুঁকে মেয়েটার মুখের দিকে সরাসরি তাকালাম। মেয়েটার মুখে কিছুটা কৌতুক, কিছুটা ডেয়ারিং ভাব (বয়ফ্রেন্ড সঙ্গে আছে) এবং কি বলবেন বলেন টাইপের অভিব্যক্তি। বললাম, 'স্যরি, আমার কোনো গার্ল ফ্রেন্ডেরই আপনার বয়সী মেয়ে নেই।' বাসে এরপর হাসির একটা হুল্লোড় উঠেছিল, আর বাকিটা সময় পুরো গ্রুপটাই নিরব, নিস্তেজ, নেতানো।
পাদটীকা : অনেকেই হয়তো প্রিয় তালিকা থেকে ভুলে বাদ পড়ছেন। কিন্তু বাত্তি গেল গেল এই দুশ্চিন্তায় লেখতে হয়, তাড়াতাড়িটাই অজুহাত।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



