কল্পনার ভেলায় ভেসে বেড়াই সারাক্ষণ। স্বপ্নবিলাসী বলা চলে। দিবা স্বপ্ন? হ্যা, ওটা চলতেই থাকে। উদাসী? তাও। অনেকের মাঝে থেকেও তাই একেলা হয়ে যেতে পারি অনায়াসে। কী নিয়ে স্বপ্ন বুনি- সেটারও কোনো আগামাথা নেই। হয়তো ভাবছি এইযে টাকা ভাঙাতে যে লটারির টিকেটটা কিনলাম, তার প্রথম পুরষ্কারটা পেলে কী কী করা যায়। একটা বেশ লম্বা ফর্দ তৈরি হয়- শেষমেষ টাকায় কুলোয় না।
খ.বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও...
দুনিয়াতে সবচেয়ে ঠকানো সহজ যে লোকটা, সে বোধহয় আমি। সবাইকে সহজেই বিশ্বাস করি এবং প্রায়শই ঠকি। তবে বন্ধুত্ব ব্যাপারটা আমার কাছে ভিন্ন একটা ব্যাখ্যা রাখে। যাকে বুক দেব, পিঠ দেব না। সবার সঙ্গে তাই হাত মেলাই না- কারণ তাহলেই হয়তো আটকে যাব। বন্ধুতায় যতটা উদার, শত্রুতায় আমি তার চেয়ে নির্মম। এ ব্যাপারে হাতির স্মৃতিশক্তিও আমার কাছে হার মানে। প্রিয় কেউ অপমান করলে, যত কষ্টই হোক সরে যেতে আমার বাঁধে না। চামড়া খুব পাতলা। সূক্ষ অপমানও বুঝি। সেনসিটিভ। আর কেউ আমার জন্য গোড়ালি ভেজালে আমি তার জন্য গলা পর্যন্ত ডুবতেও দুবার ভাবিনা। কৈশোর যৌবনের বন্ধুরা সবাই যার যার পেটের ধান্দায় ব্যস্ত। এখন রাসেল, হিমু, ধুসর গোধুলী, উৎস, ঠুনকো, সাদিক, অরূপদের সঙ্গে একবার কথা না বললে মনে হয় কী একটা যেন অপূর্ণ রয়ে গেল।
গ. মন কী যে চায় বলো, যারে দেখি লাগে ভালো...
রিকোভারি হওয়ার পর থেকেই ঝামেলাটার শুরু। যে মেয়েই দেখি তারে প্রেয়সী ভাবতে ইচ্ছে করে। তবে ইদানিং এই রোগটা কমে এসেছে ব্লগিংয়ের কারণে। আগে বোল্ডলি মেয়েদের এপ্রোচ করতাম, ফোন নং-ইমেইল- চ্যাটিং। এদের মধ্যে 13 বছর বয়সী থেকে 13 বছর বয়সী কন্যার মাও আছে।এখন তিনটা সেল বন্ধ করেই পিসির সামনে বসি। চ্যাটিংয়েও অনেকে ব্লক। হাতে গোনা কয়েকজন বান্ধবী আছে। সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী এমা, পলা। পলার সঙ্গে যোগাযোগ নেই বহুদিন (মানে 10/12দিন), নতুন প্রেম করছে তো! এমার সঙ্গে পরিচয় হলো সেদিন। এত্তো ভালো মেয়ে! বয়স তো অনেক হয়ে গেলো, রাতের বেলা বিছানাটা খুব বড় লাগে। একজনকে বলেছিলাম, আমায় বিয়ে করবে? তার উত্তর ছিল- ঘর সংসার করার জন্য যে মানসিকতা লাগে, তার ছিটেফোটাও আমার মাঝে নেই। শুধু সেক্সের জন্যই কী সংসার করতে হয়! তারপর ওই লাইনে আর হাটি না।
ঘ. জয় বাংলা, বাংলার জয়...
'71 দেখেছি। আমার প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা আমার সেলিম মামা। আম্মার আপন চাচাতো ভাই। বোয়ালখালীর বেঙ্গুরায় রাজাকার ক্যাম্পে হামলা চালাতে গিয়ে নিজের গ্রেনেডে নিজেই আহত হন তার সঙ্গী। আমার লিকলিকে সেলিম মামা তার সঙ্গীর রক্তাক্ত ভারী শরীর কাধে ফেলে পাড়ি দিয়েছিলেন দীর্ঘ 6 মাইল পথ। ক্যাম্পে ফেরার আগ পর্যন্ত হাতে এসএলআর আর কাধের বন্ধুকে বারবার বলছিলেন, 'আই গিয়ি (এসে পড়েছি), আর এক্কানা (এইতো আর একটু), চুপ মারি থাক কিছু ন হইবু তোর (চুপ থাক, তোর কিছু হবে না)।' আমার এই মামা কোনো সরকারী খেতাব পাননি, কিন্তু আমার হৃদয়ে তিনি বীর শ্রেষ্ঠ। দ্বিতীয় বাবা, তার কলমযুদ্ধের কারণে-মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার অসীম মমতা আমি টের পাই তার লেখা প্রতিটি অক্ষরে। এনিয়ে আগেই বলেছি একবার, রিপিট করব না। উত্তরাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এখন একটি নয়, দুটো ধারাবাহিক লিখছি। এক বন্ধু আপত্তি করেছিল। আমার যুক্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা তো মানুষ জানছেই। রাজাকাররা সময়টায় কি করেছিল সেটা জানালে তারা একটা কমপ্লিট পিকচার পাবে।
ঙ. এবং অমি রহমান পিয়াল
রিহ্যাবের পর থেকেই আমার লাইফটা বেশ ডিসিপ্লিনে এসে গেছে। যখনই ঘুমাই, ভোর 6টার পর আর চোখ বুজে থাকতে পারি না। নামাজ পড়ি, সঙ্গে পাঞ্জেগানা সুরা ও কিছু স্পেশাল দরুদ শরীফ। অবশ্য বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার ধর্মপরায়নতা বেশ বেড়েছে। নিজের জন্য নয়, আমি চাই আমার আমলের প্রতিটি নেয়ামত ওনারটায় যোগ হোক। ইদানিং অবশ্য ভাতঘুমের নেশা পেয়েছে দুপুর বেলা। কাজ পাগল। খেলা পাগল। প্রচুর গান শুনি। প্রচুর খিস্তি খেউর করি। আমার মুখের কোনো লাইসেন্স নাই। বিনয় ও অ্যারোগেন্স একই সঙ্গে বসবাস করে আমার মাঝে। তাই কারো মুখের ওপর কিছু বলতে আমার বাধে না। সামনে বিশ্বকাপ ব্লগে আসা কম হবে। তারপরও ধারাবাহিক দুটো লিখব। আর কী? এই তো আমি। কেয়ার ফ্রি, বোহেমিয়ান কোনো পিছুটান নেই... ধারও ধারি না।
পাদটীকা : ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের মতো দ্্বৈতস্বত্ত্বা আমার মাঝে প্রবল। বৃশ্চিক জাতকের সব বদগুন আমার মাঝে প্রবল। আমি রিয়্যাক্ট করি খুব বাজে ভাবে, আবেগে ভেসে যাই যখন-পুরো আপ্লুত। প্রশংসায় খুশী হই, নিন্দায় কাতর। তারপরও ব্লগ আমার ভালো লাগা। ভাল্লাগে না দুনিয়াদারী.....
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



