চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়া গরীবুল্লাহ শাহর মাজারের পাশে একটি লোমহর্ষক বধ্যভূমি আবিষকৃত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে 30 মার্চ '71 থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টির দিন ছাড়া প্রত্যেক সন্ধ্যায় কড়া মিলিটারি পাহারায় 5 থেকে 6 ট্রাক বোঝাই লোক নিয়ে আসা হতো। এই হতভাগ্যদের দিয়ে ট্রাকগুলো চলে যেত। এদের লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। এদের লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারা হতো। তারপর অন্য একদল মিলিটারি ট্রাক নিয়ে এসে লাশগুলি বধ্যভূমি থেকে সরিয়ে নিয়ে যেত।
নিয়মিত এই হত্যাযজ্ঞের শুরুতে লাশ পুঁতবার জন্য বধ্যভূমির পাশে একটি গর্ত খোড়া হয়। মাত্র কয়েকদিনের লাশে এই গভীর গর্ত ভর্তি হয়ে গেলে সদ্য মরা লাশগুলো অন্য জায়গায় নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা হয়। এই গর্তে কমপক্ষে পাঁচ হাজার নর কঙ্কাল রয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে এখানে কয়েক'শ লোক হত্যা করা হয়েছে। রেলওয়ে, পোর্ট ট্রাস্ট এবং অন্যান্য অফিসের যেসব হতভাগ্য অফিসার নিখোঁজ রয়েছেন তাদের অনেককেই এই বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে আরো বধ্যভূমি :
চট্টগ্রাম শহর ও শহরতলী এলাকাসহ আরো 9টি থানাতে হানাদার খানসেনারা সর্বমোট 20টি বধ্যভূমিতে বাঙালী নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। শহর ও শহরতলী এলাকায় 10টি বধ্যভূমির মধ্যে 8টিতে গড়ে 5 হাজার করে বাঙালীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অনুমিত। এ ছাড়া পোর্ট এলাকা ও নেভি ব্যারাক অঞ্চলে সুদীর্ঘ 9 মাস অগনিত মানুষকে হত্যা করে কর্ণফুলি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার সংখ্যা খুজে বের করা সম্ভব নয়।
শহর ও শহরতলীর আমবাগান, ওয়ারলেস কলোনী ও ফয়'স লেক সহ গোটা পাহাড়তলী এলাকায় মাটির নিচে এখনও প্রায় 25 হাজার বাঙালীর মাথার খুলি পাওয়া যাবে। এছাড়া রয়েছে চাঁদগাঁও, লালখান বাজার, হালিশহর, কালুরঘাট ও পোর্ট কলোনী বধ্যভূমি। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ও সার্কিট হাউজেও হাজার হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মিরেরসরাই ও সীতাকুন্ডের পাহাড়, রাউজান, পটিয়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর বনাঞ্চলে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন হাজার হাজার বাঙালী। সারা চট্টগ্রাম জেলাতে কমপক্ষে তিন লক্ষ বাঙালীকে হত্যা করা হয়েছে। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



