somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অন্ধবিন্দু
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ (১) ও ৩৯ (২)(ক) এবং মানবাধিকার সনদ(UDHR) এর অনুচ্ছেদ-১৯ ও অনুচ্ছেদ-২৭ বিশেষভাবে উল্লেখপূর্বক; “অন্ধবিন্দু”- ব্লগ পাতাটির লেখককর্তৃক গৃহীত ও ব্যবহৃত একটি ছদ্মনাম মাত্র।

কিক দ্যা বল, মেক ইট গোল !

০৯ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফুটবল খেলা কখনো দেখেন নি বা খেলাটি সম্পর্কে অজ্ঞ একজন ব্যক্তি প্রথমবারের মতো গ্যালারীতে উপস্থিত হলেন একটি ফুটবল ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করার জন্য। খেলা শুরু হতেই ব্যক্তিটি তাঁর বন্ধুর কাছে জানতে চাইলেন, গোলাকার বস্তুটি নিয়ে খেলোয়াড়’রা ছুটছেন এর ভবিষ্যৎ কি। উত্তরে বন্ধুটি বললেন- বলটি দিয়ে গোল করা হবে। এ শুনে অবাক হলেন অজ্ঞ ব্যক্তিটি, বিস্ময় প্রকাশ করলেন- বলটা তো গোলই আছে আবার গোল করার কি আছে ! হাহ হাহ হা। কৌতুকটি হয়তো অনেকেরই জানা।

গ্রিক দার্শনিকেরা ধারনা করেছিলেন পৃথিবী গোলাকার। এরপর ১৯৬৯ সালে মানুষ যখন চাঁদে পৌঁছলও; মহাশূন্য থেকে আমরা চাক্ষুষ প্রমাণ পেলাম প্রায় গোলাকার পৃথিবীর। বাংলায় ‘গোল’ শব্দটি নির্দেশ করে বৃত্ত আকৃতির বা গোলকসংক্রান্ত। এছাড়া চিৎকার, জোর শব্দ, চেঁচামেচির গোলমাল তো রয়েছেই। ইংরেজি `Goal’ বলতে লক্ষ্য/লক্ষ্যবস্তু/উদ্দেশ্য বোঝানো হয়ে থাকে। তবে গোল শব্দটি মাঠে ব্যবহার করার অর্থ- লক্ষ্যপুরণ! বিশেষ করে পৃথিবীর অতি প্রাচীন গ্রিক খেলা ‘এপিসকায়রোস’ বা চাইনিজদের ‘সুওচিই’ থেকে রূপান্তরিত হওয়া ফুটবলের আক্ষরিক লক্ষ্যই হলো গোল করা। একটি গোলাকৃতির বলকে গোল করতে এবং গোল হওয়া ঠেকাতে বাইশ জন খেলোয়াড়ের চেষ্টা/উদ্যম/লক্ষ্য/প্রয়াসের সামগ্রিক চিত্রটি আমাদের বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও প্রচলিত খেলা ফুটবল।


গোল হওয়ার এই যজ্ঞ নিয়ে প্রতি চার বছর পরপর ফুটবলের মহা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাছাই পর্ব উতরে চূড়ান্ত পর্বে ৩২টি জাতীয় দল অংশ নেয়। বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। ১৯৩০ সালে ফিফা যে বীজ রোপণ করেছিল, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বীজটি আজ বিশালাকার এক বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। ৭০০ কোটি মানুষের বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নানা সমস্যায় জর্জরিত আমাদের আজকের পৃথিবী। জলবায়ুর পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্ষুধা-দারিদ্র্যতার পাশাপাশি ভয়াবহ রকম আকার ধারণ করছে হিংসা-বিদ্বেষ, দ্বন্ধ-সংঘাত, যুদ্ধ-হানাহানি, অস্ত্রের ঝংকার প্রভৃতি। গোলাকার গ্লোবাল ভিলেজের এহেন সাংঘাতিক অবস্থা সামাল দিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসছে ফুটবলের তীর্থস্থান ব্রাজিলে। কিন্তু কি আশ্চর্য ! দেশটির আমজনতা, ব্রাজিল সরকারের এই আয়োজনকে জনবিচ্ছিন্ন বলে দাবি করছে। ব্রাজিলীয়দের চিকিৎসা আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি উপেক্ষা করে সরকার প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ৮৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) খরচ করেছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থকে গোল বানাতে। কিছু পেতে হলে কিছুতো দিতেই হয়; দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রটি তার জাতি-গোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস, ঐতিহ্য-ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে আরও একবার। কোরকোভাদো মাউন্টেইনের চূড়ায় ক্রাইস্ট দ্য রেদিমার স্ট্যাচুটি হাত ছড়িয়ে আহবান জানাচ্ছে অনন্য দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ব্রাজিলের প্রাণপ্রাচুর্যে লুটোপুটি খেতে। অল ইন ওয়ান রিদম স্লোগানে বিশ্বসেরা ক্রীড়া আসরের আয়োজন করতে কোনও কমতি রাখছে না দেশটি। যদিও বেশকিছু দৃশ্যমান সমস্যা আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্রাজিলের পর্যটনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য সঠিক হলে বটবৃক্ষের ছায়া থেকে বঞ্চিত হবে না ব্রাজিল-বাসীগণ।

২০১৪’র ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সং ‘ওলে ওলা (আমরা এক)’ তে সাম্বার ছন্দে দুলছেন পীটবুল, জেনিফার লোপেজ ও ব্রাজিলের ক্লাউদিয়া লেইত্তে-

One night watch the world unite
Two sides, one fight and a million eyes
Full heart's gonna work so hard
Shoot, fall, the stars
Fists raised up towards the sky
Tonight watch the world unite, world unite


পুরো বিশ্ব কাঁপছে ফুটবল-জ্বরে। কিক দ্যা বল, মেক ইট গোল। সর্বস্তরের এই উদযাপন কে সমাজবিজ্ঞানীরা দারুণ ইতিবাচক বলেই মত দিয়েছেন। উন্মাদনা উচ্ছ্বাস উত্তেজনাপূর্ণ বিশ্বকাপ ফুটবল আনন্দ আমরা কতখানি উপভোগ করছি আর কতোটা ভোগের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিচ্ছি এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। গোল পরবর্তী উৎসব অথবা গোল হজমের বেদনা যদি গ্যালারী বা টিভি সেটের সামনে থাকা দর্শক/সাপোর্টাদের মধ্যকার হাতাহাতি গালাগালিতে রূপ নেয় তবে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের আশায় আশান্বিত আমরা গোলাকার পৃথিবীর বৃত্তে এক হতে পারলাম কই !

কুইড্যু- ছি ! আমি চললাম ব্রাজিল …





অন্ধবিন্দু | সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ
চিত্রটি অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০১
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×