বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা রোববারের অবরোধের সময় ঢাকা জর্জ কোর্ট এলাকায় শিবির সন্দেহে পিটিয়ে ও কুপিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ওবায়দুল কাদের তাহসিনের পুরো পরিবার জামাতপন্থী বলে জানা গেছে।
বাংলানিউজের অনুন্ধানে জানা যায়, ওবায়দুল কাদের তাহসিন নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার উছাখালী হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কৈলাশপুর গ্রামের মো. মহিউদ্দিনের ছেলে।
তার দাদা মরহুম মাওলানা রুহুল আমিন স্থানীয় রহমানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনিও হাতিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিবারের ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে তাহসিন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই সাব্বির আহাম্মেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের ছাত্র শিবিরের সভাপতি। তিনি ফারুক হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। বর্তমানে সেও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ছোট ভাই মঞ্জুরুল কাদের আজহার উলুম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী।
দু’বোনের মধ্যে বড় বোন তাহমিনা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সম্মানের ছাত্রী। ছোট বোন তাহমিদা আক্তার (১০) তার বাবার মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে।
বৃহস্পতিবার তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা ফরিদা খানম ও ছোট ভাই মঞ্জুর কাদের ও ছোট বোন তাহমিদা বাসায় থাকলেও তাদের বাবা মাওলানা মহিউদ্দিন মাদ্রাসা সংক্রান্ত কাজে ঢাকায় রয়েছেন বলে তার ছোট ভাই মঞ্জুরুল কাদের জানান।
তার ছোট ভাই জানায়, তার বড় ভাই সাব্বির শিবিরের সঙ্গে জড়িত এটা সে জানে। মেঝো ভাই তাহসিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তবে কোনো দল করে কিনা তা সে জানে না। ২০০৩ সালে হাতিয়ার এএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ঢাকার কুর্মিটোলা শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তাহসিন। এরপর সে জগন্নাথে পড়ালেখা করে এটাই সে জানে।
তারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করার সুবাদে ইসলামী ধর্মীয় অনুভূতিতে বিশ্বাসী। তবে পত্র পত্রিকায় খবরে তার ভাইয়ের এ কাণ্ডের কথা শুনে পুরো পরিবার এখন মর্মাহত।
ঘটনার পর থেকে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বাবার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকলেও তিনিও এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ। এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন লোকজন এমন কি থানা পুলিশের লোকও এসে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে।
স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাহসিনের পুরো পরিবারই জামায়াত-শিবিরের সমর্থক। তার বাবা মাওলানা মহিউদ্দিন জামায়াতের স্বক্রিয় কর্মী। গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিমের পক্ষে কাজ করেছেন। এছাড়া বিগত সময়ে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে তাদের পুরো পরিবারই কাজ করে।
তাদের কেউই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে ঢাকায় পড়ার সময় তাহসিন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত হলেও তা স্থানীয় এলাকাবাসী জানে না। পত্র পত্রিকায় তাহসিনের ঘটনার পর এখন পুরো হাতিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। জামায়াত শিবিরের ঘরে কিভাবে ছাত্রলীগ এলো এটাই সবাই মুখরোচক খবর। এলাকায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
তাহসিনের বাবা মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ সুখচর আজহার উলূম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি ছাত্রাবস্থায় হাতিয়া উপজেলা শিবিরের সভাপতি ছিল। বর্তমানে জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী।
বাবার রাজনীতির কারণে তাহসিন শিবিরের একজন সমর্থক এবং শিবিরের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হাসান বাংলানিউজকে জানান, তাহসিন এলাকায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাহসিন বাড়িতে আসলে বা হাতিয়া থাকার সময়ও আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি। তার পুরো পরিবার জামায়াতপন্থী।
এছাড়া তার বড় ভাই তাফসির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারুক হত্যা মামলার আসামি। বাবা মাদ্রাসা অধ্যক্ষ। তার বাবা গত নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ভোট করেছেন। তবে, তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিনা তা নিশ্চিত নয় বলেও তিনি জানান।
হাতিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. ইদ্রিস বাংলানিউজকে জানান, তাহসিনের বাবা মাওলানা উদ্দিন তাদের দলের কোনো সক্রিয় কর্মী নয়। তবে তিনি সমর্থক। বিভিন্ন সময়ে তাদের পক্ষেই তিনি কাজ করে থাকেন। তার ছেলে মেয়েরা কি করেন তা তিনি জানেন না। তবে এখন শুনছেন যে তাহসিন ছাত্রলীগ করতো।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার আহাম্মেদ বাংলানিউজকে জানান, এ ঘটনার পরই আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। তাদের পুরো পরিবারই জামায়াত-শিবির করতো। তার বড় ভাই সাব্বির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতা এবং ফারুক হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। তার বাবাকে এ ঘটনার পর থেকে এখানে আর দেখা যায়নি। তিনি মাদ্রাসার কাজে ঢাকায় রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার পর থেকে তার বাবা বা আত্মীয়-স্বজন কেউ তাদের বাড়িতে তেমন একটা আসতে দেখা যাচ্ছে না।
তাহসিনের বাবা অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রিকশাচালক সবার মুখে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবারই একটা প্রশ্ন, জামায়াত পরিবারের ছাত্রলীগ কীভাবে থাকতে পারে!
উল্লেখ্য, ৯ ডিসেম্বর অবরোধের মধ্যে সকাল ৯টায় বিশ্বজিৎ দাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান পাঁচ ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তারা হলেন, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক, নূরে আলম লিমন, রফিকুল ইসলাম শাকিল ও ওবায়দুল কাদের তাহসিন। এদের মধ্যে নাহিদ ও ইমদাদুলের সনদ বাতিল এবং বাকি তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
তাহসনি ছাড়া অন্য চারজনের মধ্যে, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারে ছাত্র। শাকিল পটুয়াখালী সদর উপজেলার আনসার আলীর ছেলে।
ইমদাদুল যশোর জেলার শার্শা উপজেলার পাঁচ কায়রা গ্রামের মো. আকরাম আলীর ছেলে। তিনি দর্শন বিভাগ থেকে এ বছর মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন।
মীর মো. নূরে আলম ওরফে লিমন ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তিনি রংপুর জেলার পীরগাছার শুলিপাড়ার মীর মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।
মো. মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ বাংলা বিভাগের ছাত্র। গত বছর মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি ভোলার দৌলতখান দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।
এদিকে সারাদেশের মানুষের সঙ্গে হাতিয়ার স্থানীয় লোকজনও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
Click This Link this link]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





